kalerkantho

রবিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০২০। ৫ মাঘ ১৪২৬। ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

রঙ্গভরা বঙ্গদেশ

তলোয়ার আছে, ঢাল নেই

১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বিয়ে-শাদির সিজন ডিসেম্বর এলেই ভয় লাগে। বিয়ের অনুষ্ঠান কে কত ক্রিয়েটিভ করতে পারে, সেটা নিয়ে রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলে। আগে হলুদের অনুষ্ঠানে পরার জন্য দেখা যেত একই রকম পাঞ্জাবি দেওয়া হতো। এরপর এলো কটি সিস্টেম। সবারই এক রকম কটি। গত মৌসুমে আমি পেয়েছিলাম পাগড়ি। পিংক কালারের পাগড়ি (আমি মেয়েপক্ষ দেখে হয়তো কালারটা পিংক)। কিন্তু এই মৌসুমে আমি এমন একটা জিনিস পেয়েছি, যা আমার মাথায় ঢুকছে না, কেন এটা দিল।

বিয়ের কার্ডের সঙ্গে একটা ছোট তলোয়ার। আমি পাত্রের বোনকে ফোন করে জিজ্ঞেস করলাম, ‘এটা কেন?’

—ওমা, জানেন না! রাজু ভাইয়া বউভাতে রাজা সাজবে। হাতে থাকবে তলোয়ার, আর তাই বরপক্ষের সব কাজিনকে তলোয়ার দেওয়া হচ্ছে।

: আমি স্যুট-টাই পরে হাতে তলোয়ার নিয়ে আসব?

—না না ভাইয়া, আপনারা সবাই রাজা-বাদশাহর ড্রেস পরবেন।

: রাজা-বাদশাহর ড্রেস কই পাই?

—প্লিজ, ম্যানেজ করেন।

... আমি ড্রাইভার পাঠিয়েছি শাঁখারীবাজারে ড্রেস খুঁজতে। সে যাত্রাপালার দোকান থেকে রাজার ড্রেস নিয়ে এসেছে ভাড়ায়। ৮০০ টাকা এক দিনের জন্য ভাড়া। আমি ভাবছি, গুলশান থেকে বেইলি রোড—এ দুই ঘণ্টার রাস্তায় এই ড্রেস পরে গাড়িতে কেমনে যাব। পুলিশ আমায় এভাবে তাড়াহুড়ায় দেখলে স্যালুট দেবে অথবা একটু মনোযোগ দিয়ে দেখলে আমার দিকে গুলি ছুড়বে।

‘ভাই রাজু না পাজু কী নাম তোর, তলোয়ার দিসস ভালো করসস, সঙ্গে ঢালটাও দিতি। চলতিপথে ডিম, টমেটো, গুলি, ব্রাশফায়ার—এগুলো এখন ঠেকাব কেমনে?’

আরিফ আর হোসেন

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা