kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

মনোভূমি

কেমন আছ, লাল টুকটুকে?

৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কত শত আলাপে মুখরিত সকাল-রাত পার হয়ে একটি নির্দিষ্ট দিনে প্রথম সাক্ষাতের সময় নির্বাচন করা হয়। কাঙ্ক্ষিত দিনে বিভ্রাট হয়ে দাঁড়ায় ঈদ। তোমার জন্য টুকরো উপহার নেওয়ার জন্য তখনকার সময় রাত ২টায় পৌঁছলাম আড়ংয়ে। আড়ং থেকে টুকরো উপহার কেনাটাও একটা গল্প। সকালের মেঘগুলো জড়সড় হচ্ছিল, ‘বোধ হয় আর দেখা হবে না’—গুজব ছড়াচ্ছিল মনের কূল-কিনারায়। তবে সেই বৃষ্টি বিপত্তি কাটিয়ে ঠিক ১টায় সাক্ষাত্ হয়েছিল। অনাকাঙ্ক্ষিতভাবেই বৃষ্টিতে ভিজে একটি দীর্ঘ যাত্রার শুরু বোধ হয় একটু ব্যতিক্রম ছিল। তুমি ছিলে ভীতসন্ত্রস্ত, আমি ছিলাম হতভম্ব তোমার চাহনির বুলেটে। বেশ কয়েক দিন তুমি ছিলে সিদ্ধান্তহীনতায়, আমি ছিলাম প্রশ্ন করায় ব্যস্ত। তোমার রেগেমেগে ওঠা তখন নিত্যকার বিষয় ছিল। আমিও অভ্যস্ত হয়ে উঠলাম। দিনবদল হতে থাকে, বদলাতে থাকে গল্পের মোড়। তুমি ছিলে আমার কথায় বিশ্বাসী, ঠিক তোমার মতো আমিও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছিলাম ততই।

সময় যেতে থাকে, তোমারও ইচ্ছা হতে থাকে আরেকটু কাছে থাকতে। অনেক অভিমানে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছিলে আমার থেকে দ্বিগুণ দূরে। তখনই তোমার ইচ্ছামতো খুলনায় অবতরণ করলাম, দ্বিতীয় সাক্ষাতের পর বোঝাপড়া গাঢ়তর হতে থাকে। ছোটখাটো খুনসুটি আর অনিন্দ্য সংলাপে ১৫৯তম দিন পর্যন্ত কত শব্দ নিয়ে প্রতিশ্রুতিগুলো আকাশ মেলে ধরছিল, তখনই শ্রেয়ার কণ্ঠের গান—‘আমি ভুলে যাই কাকে চাইতাম, আর তুই কাকে ভালোবাসতিস’ বেজে ওঠে। কোনো বাগিবতণ্ডা ব্যতীত কোনো কারণ ছাড়াই আমাকে প্রত্যাখ্যান করে ব্যস্ত হয়ে পড়ছ তোমার ব্যস্ততায়। আমিও প্রত্যাখ্যান সহ্য করতে পারি না বলেই ক্রমেই সরে আসতে থাকি। তোমার জমে থাকা অভিমানে এবার ছেদ পড়ল। থমকে পড়ল আমাদের সব শব্দ ও প্রতিশ্রুতি।

হয়তো কোনো এক বৃষ্টিমুখর দুপুরে প্রথম সাক্ষাতের স্থানে তোমার জন্য অপেক্ষা করব, তবে কোনো আক্ষেপ থাকবে না। তুমি হয়তো ভিন্ন কোনো মানুষ নিয়ে তখন ব্যস্ত থাকবে। ধুলা পড়বে স্মৃতির স্মৃতিপত্রে। তুমি অন্য কারো প্রতিশ্রুতিতে নিজেকে মেলে ধরবে। যেখানে তোমার-আমার রেখে যাওয়া প্রতিশ্রুতি কোনো মূল্য পাবে না  জেনেও বারবার আগ্রহভরে অপেক্ষা করতে থাকব। কখনো জানাও হবে না কেমন আছ,

লাল টুকটুকে?

রেজওয়ান আহমেদ

দৌলতপুর, খুলনা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা