kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

তোমায় সালাম

ওস্তাদ আশিস খাঁর সঙ্গে দেখা

কনসার্ট ফর বাংলাদেশ নিয়ে শামীম আল আমিন একটি প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করছেন। তাই নিউ ইয়র্কে আশিস খাঁর দেখা পেয়ে খুশি হয়েছিলেন। ওস্তাদ আশিস খাঁর বাবা ওস্তাদ আলী আকবর খাঁ সে কনসার্টের একজন সংগঠক ছিলেন।

৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ওস্তাদ আশিস খাঁর সঙ্গে দেখা

ক্যালিফোর্নিয়ায় থাকেন আশিস খাঁ। সম্পর্কে তিনি ওস্তাদ মোর্শেদ খান অপুর চাচা হন। নিউ ইয়র্কে এসেছেন বেড়াতে। খবরটি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছুটলাম। আশিস খাঁ নিজে বড় শিল্পী, তাঁর পরিবারেরও রয়েছে বিরাট পরিচিতি। পরম মমতায় তিনি আমাকে কাছে টানলেন। আমি তাঁর বাবা ওস্তাদ আলী আকবর খাঁ এবং কনসার্ট ফর বাংলাদেশ সম্পর্কে শুনতে এসেছি জেনে তিনি সানন্দে রাজি হলেন।

১৯৭১ সালের ১ আগস্ট নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে হয়েছিল দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ। আলী আকবর খাঁ ওই কনসার্টে রবিশঙ্কর, আল্লা রাখা এবং কমলা চক্রবর্তীর সঙ্গে মিলে বাজিয়েছিলেন বাংলা ধুন। উল্লেখ্য, আলী আকবর খাঁ ছিলেন ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর পুত্র। ১৮৬২ সালের ৮ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিবপুরে তাঁর জন্ম। সেতার, সানাই এবং রাগসংগীতে তিনি ছিলেন পৃথিবী বিখ্যাত। এ ছাড়া সাক্সোফোন, বেহালা, ট্রাম্পেটসহ আরো অনেক বাদ্যযন্ত্রে তাঁর দারুণ দক্ষতা ছিল। ১৯৩৫ সালে বিশ্বখ্যাত নৃত্যশিল্পী উদয় শঙ্করের সঙ্গে বিশ্বভ্রমণে বের হন তিনি। তখন ইংল্যান্ডের রানি তাঁকে সুরসম্রাট খেতাব দিয়েছিলেন। ওস্তাদ আলী আকবর খানের জন্ম ১৯২২ সালের ১৪ এপ্রিল।   আকবর আলী খানও খ্যাতিমান ছিলেন। তাঁর বড় ছেলে আশিস খাঁও নামকরা। ২০০৬ সালে ‘গোল্ডেন স্ট্রিংস অব দ্য সরোদ’ অ্যালবামের জন্য গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডে মনোনীত হয়েছিলেন।

কনসার্ট ফর বাংলাদেশে ওস্তাদ আলী আকবর খাঁ (ডানে)

একাত্তরে মুক্তিকামী বাঙালির পাশে এসে দাঁড়ায় সারা বিশ্ব। বাড়িয়ে দেয় সহযোগিতার হাত। পাশে দাঁড়ানোর তেমন একটি অসামান্য উদ্যোগের নাম ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’। একাত্তরের পয়লা আগস্ট ছিল রবিবার। প্রথমে ভাবা হয়েছিল, কনসার্ট হবে একটি। পরে মানুষের ভিড়ে দুটি শো হয়। বিশ্বের মহাতারকারা যোগ দিয়েছিলেন সে কনসার্টে।  পণ্ডিত রবিশঙ্কর যুক্ত করেছিলেন জর্জ হ্যারিসনকে। হ্যারিসন তাঁর বিটলসের বন্ধুদেরও দাওয়াত দিয়েছিলেন। লেনন বলেছিলেন, তিনি যোগ দেবেন। কিন্তু স্ত্রীর সঙ্গে মামলাসংক্রান্ত জটিলতায় শেষ পর্যন্ত পেরে ওঠেননি। তবে রিঙ্গো স্টার যোগ দিয়েছিলেন। বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন, বিলি প্রিস্টন, লিয়ন রাসেলও এসেছিলেন। উপস্থিত ছিল ৪০ হাজার দর্শক-শ্রোতা। প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় আড়াই লাখ ডলার। এই অর্থ পরে ইউনিসেফের মাধ্যমে শরণার্থীদের সাহায্যে ব্যবহূত হয়। সে কনসার্ট নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র হচ্ছে জেনে আশিস খাঁ আনন্দিত হলেন। বললেন, এটা খুবই ভালো একটি উদ্যোগ। তবে আরো আগেই সেটা হতে পারত। দেরিতে হলেও যে হচ্ছে, তাতেই আমি খুশি। ভবিষ্যত্ প্রজন্ম এর মধ্য দিয়ে অসাধারণ একটি আয়োজন সম্পর্কে জানতে পারবে।

ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ

আশিস খাঁ কনসার্ট ফর বাংলাদেশ আয়োজনের বেশির ভাগ কৃতিত্ব দিয়েছেন জর্জ হ্যারিসনকে। তবে রবিশঙ্করের অবদানকেও বিশেষভাবে তুলে ধরতে ভুললেন না। শ্রদ্ধা জানালেন তাঁর বাবা আলী আকবর খাঁসহ অন্য শিল্পীদের প্রতি। আশিস খাঁ বলেন, ‘জর্জ হ্যারিসন ছিলেন আমার বাবার বন্ধু। তাঁর সঙ্গে বাবার খুব অন্তরঙ্গ বন্ধুত্ব ছিল। বাবার সঙ্গে তাঁর পরিচয় সম্ভবত ১৯৬৭ সালের দিকে। জর্জ হ্যারিসনের ভারতীয় সংগীতের প্রতি বিশেষ আগ্রহ ছিল। এমনকি রবিশঙ্করের কাছে তিনি সেতারও শিখেছেন। বাবা বাংলাদেশের কথা বলতেন। খুব ভালোবাসতেন দেশটাকে। বাংলাদেশের জন্য কিছু করার বড় একটি সুযোগ তিনি পেয়েছিলেন। এতে তিনি খুব আনন্দিত হয়েছিলেন। বিশেষ করে একটি দেশের জন্মের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর নাম—এটা খুবই গর্বের ব্যাপার।’

বাবার কনসার্টে যোগ দিতে যাওয়ার সময়টার কথা মনে করে আশিস খাঁ বললেন, ‘বাবা তখন থাকতেন নর্থ সান ফ্রান্সিসকোতে। জায়গাটার নাম ছিল সান আনসেলমো। ওখান থেকে বাবা যান লস অ্যাঞ্জেলেসে। রবিশঙ্কর তখন সেখানেই থাকতেন। তাঁরা সবাই মিলে নিউ ইয়র্কে আসেন গান করার জন্য। যদিও তখন আমি কনসার্টে যেতে পারিনি। পরে ভিডিও দেখেছি। নিউজে দেখেছি। বিরাট একটি কনসার্ট হয়েছিল। ধারণার বাইরে। খুব বড় ব্যাপার হয়েছে। অসাধারণ।’

বাংলাদেশকে ভীষণভাবে অন্তরে অনুভব করেন আশিস খাঁ।

বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাঁদের অনেক আত্মীয় থাকেন উল্লেখ করে আশিস খাঁ বলেন, ‘সবার বাড়িতে যদি এক বেলা করেও খাই, তাহলেও বছরখানেক লেগে যাবে। আমার দাদু আলাউদ্দিন খাঁর জন্ম সেখানে। বাবা জন্মেছেন। মায়ের জন্ম অবশ্য আখাউড়ায়। অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। খুব ভালো লাগে।’ এই মানুষটি সুযোগ পেলে বাংলাদেশে একটি মিউজিক স্কুল করতে চান। বললেন, ‘সরোদের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে খুব বেশি করে পরিচয় করিয়ে দিতে চাই। এটা আমার একটি স্বপ্ন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা