kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

উদ্যমী বাংলাদেশ

সফল খামারি আশরাফুল

শুরু করেছিলেন দুটি গাভি দিয়ে। পরে অনেক গাভির মালিক হন। আজ আশরাফুল আলম ডেইরি ফার্ম ও পোল্ট্রির একজন সফল ব্যবসায়ী। মোস্তফা খান কথা বলে এসেছেন

৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সফল খামারি আশরাফুল

ফুলপুর পৌর শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে কাঁচা রাস্তা পার হলেই ভাইটকান্দি ইউনিয়নের বড়শুনই গ্রাম।  হাসান ডেইরি ফার্ম চোখ এড়ায় না গ্রামে ঢুকলে। প্রায় ৬০টি উন্নত জাতের গাভি রয়েছে এ খামারে। আশরাফুল এ খামারের মালিক। দুই বিঘা জমির ওপর গাভি ও মুরগির খামার গড়েছেন।  খামারের কাছের এক জমিতে বুনেছেন ঘাস। সেখান থেকে ঘাস এনে খাওয়ান গাভিকে।

 

খুব গরিব ছিলেন

আশরাফুলের পরিবার খুব গরিব ছিল। বাবা মৃত জয়নাল আবেদীন সংসার চালাতে গিয়ে বেশির ভাগ জমি বিক্রি করে দেন। অভাবের কারণে আশরাফুল এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে সংসারে তাঁরই দায়িত্ব ছিল বেশি। হাতে সামান্য কিছু পুঁজি ছিল। তা দিয়ে ছোট ব্যবসা শুরু করেন। আমুয়াকান্দা বড় বাজার থেকে তেল, পেঁয়াজ, গুড় ইত্যাদি কিনে মহল্লায় মহল্লায় ঘুরে ঘুরে বিক্রি করতেন। যা লাভ হতো তা দিয়ে সংসার চালাতেন। কিন্তু বড় সংসার, সামান্য আয়ে চালাতে কষ্ট হতো। হঠাত্ চিন্তা এলো নতুন কিছু করার। সময়টা ছিল ১৯৯৫ সাল। কিছু জমি বিক্রি করে ও ধার করে যা টাকা পেলেন, তা দিয়ে বাজার থেকে দুটি অস্ট্রেলিয়ান গাভি কেনেন আশরাফুল। ভালোমতো যত্ন নিলে পরে গাভি দুটি বেশ মোটাতাজা হয়। একসময় বাছুর হয়। গাভিগুলো দুধ দিতে থাকে। দিন দিন আশরাফুলের দিন বদলাতে থাকে। দুধ বিক্রির টাকা দিয়ে সংকর জাতের গরু কেনেন এবং গরুর বংশবৃদ্ধিতে মনোযোগী হন। এখন তাঁর খামারে উন্নত জাতের ৬০টি গাভি আছে। পোল্ট্রি ব্যবসা শুরু করেন গত বছর থেকে। তাঁর মুরগির খামারে দুই হাজার ৫০০ হল্যান্ডের মুরগি আছে। এখান থেকে প্রতিদিন ডিম পাচ্ছেন। গরুর খামার থেকে দুধ বিক্রি করতে পারছেন প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ লিটার।

 

বিপদও আসে

একসময় তাঁর ফার্মের গবাদি পশু ও মুরগি অসুস্থ  হয়ে পড়লে তিনি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তবে সময়মতো ফুলপুর ভেটেরিনারি ডাক্তারদের সহায়তায় বিপদ কেটে যায়। তিনি জানান, অনেক সময় ডাক্তার পাওয়া যায় না। নিজে নিজে প্রাণিসম্পদ অফিসে গিয়ে বিভিন্ন সময় পরামর্শ শুনেছেন। সাময়িকী ও বই পড়ে গবাদি পশুর রোগ সম্পর্কে জেনেছেন। বিভিন্ন রোগের কারণ ও তার প্রতিকার এবং প্রতিরোধের ব্যাপারে বেশ ভালো অভিজ্ঞতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। আশরাফুলের খামারের পরিবেশ ভালো। ভেতর-বাইর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখেন সব সময়। এ ছাড়া মশা-মাছি আর পোকা-মাকড় প্রতিরোধেরও ব্যবস্থা আছে। গরুর খাবার নিয়ে বললেন, ‘প্রতিদিন কাঁচা ঘাস, খড়, ভুসি, ভুট্টা, খৈল খাওয়াই। প্রায় দুই বিঘা জমিতে উন্নত জাতের ঘাস নিজেই চাষ করি। বাজার থেকে খাবার বেশি কিছু কিনতে হয় না। এ জন্য গরুগুলোর স্বাস্থ্যঝুঁকি কম।’

আয়-ব্যয় যেমন

আশরাফুলের খামারে আটজন কর্মচারী কাজ করেন। প্রত্যেককে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা করে বেতন দিতে হয়। এখন তাঁর কোনো ব্যাংক লোনও নেই। গ্রামের বাড়িতে প্রায় তিন একর জমি কিনেছেন কিছুদিন আগে। ফুলপুর পৌর শহরেও সাড়ে সাত শতাংশ জমি কিনেছেন। সরকারের কাছ থেকে কোনো সহায়তা চান না, তবে চান সরকার যেন উন্নত মানের ভ্যাকসিন সরবরাহ করে। আশরাফুলের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে এলাকার অনেকেই এ কাজ করছেন আর তাতে সফলতাও পেয়েছেন।

 

আশরাফুলের সংসার

তিন সন্তানের জনক আশরাফুল।  বড় ছেলে নকীব হাসান তাঁর সঙ্গে খামারে কাজ করে। মেজো ছেলে মেহেদি হাসান এসএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়ে কলেজে ভর্তি হয়েছে। ছোট ছেলে মাহবুব হাসান এবার জেএসসি পরীক্ষা দেবে। তিনি পরামর্শ দিলেন, শিক্ষিত যুবকরা চাকরির জন্য ঘুরে ঘুরে হতাশ না হয়ে গরু ও মুরগির খামারের ব্যবসায় নজর দিলে ভালো করতে পারবে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর কর্মকর্তা কায়সার জামিল বলেন, ‘কঠোর পরিশ্রম ও ধৈর্য থাকলে জীবনে  সফলতা আসে, আশরাফুল তার উদাহরণ।’ তিনি জানান, এরই মধ্যে ফুলপুরে সরকারিভাবে ডেইরি অ্যাসোসিয়েশন সমিতি করা হয়েছে। এ সমিতি থেকে খামারিদের সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া হবে। এতে এ ব্যবসায় অনেকেই মনোযোগ দেবেন।

ছবি : লেখক

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা