kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

রঙ্গভরা বঙ্গদেশ

অনলাইনে মজার মজার গল্প, বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুক, সাম্প্রতিক বিষয়-আশয় নিয়ে নিয়মিত স্ট্যাটাস দিয়ে যাচ্ছেন পাঠক-লেখকরা। সেগুলোই সংগ্রহ করলেন মেহেদী আল মাহমুদ। আপনার লেখা মজার স্ট্যাটাসটি এই পাতায় ছাপাতে নাম-ঠিকানাসহ মেইল করুন [email protected]এ অথবা ইনবক্স করুন আমাদের ফেসবুক পেজে facebook.com/Oboshore/.

১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৮ মিনিটে



রঙ্গভরা বঙ্গদেশ

ঝড়ের নামকরণ কিভাবে করা হয় রে? নিয়মটা কী?

আমার ফুফার নাম বুলবুল ...। প্রচণ্ড অমায়িক একজন মানুষ। একবার তো ফার্মগেটে এক ছিনতাইকারীকে গণপিটুনির হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেই হালকা গণপিটুনি খেয়ে এসেছেন। তিনি হজে গিয়ে শয়তানের দিকে পাথরও নিক্ষেপ করেন আস্তে করে, যেন আশপাশের কেউ ব্যথা না পায়। এই ফুফা আমাদের ফ্যামিলির মধ্যে ‘অমায়িকতার’ প্রতীক, আর এবারের ঝড় কি না তাঁর নামে, যেটা এরই মধ্যে লণ্ডভণ্ড করে ফেলছে উপকূল।

ফুফার হার্টে রিং পরানো আছে দুটি। দুইবারই তিনি ফুফুর ধমক খেয়ে বুকে হাত দিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়েছিলেন। একবার তিনি বাজার থেকে ভুলে লাউয়ের বদলে মুলা নিয়ে চলে এসেছিলেন। আরেকবার তিনি ডিম ছাড়া ইলিশ বেশি দামে কিনে নিয়ে এসেছিলেন। দুইবার ভুলের হালকা ধমকে দুটি রিং।

এখন ফুফু ধমকও দেন না, কবে বাইপাস করতে হতে পারে এই ভয়ে। ধমক তো দূরের কথা, ফুফু নিজেই কিছুটা অবাক হয়ে আজকে ফোন করে জিজ্ঞেস করছেন, ‘ঝড়ের নামকরণ কিভাবে করা হয় রে? নিয়মটা কী আসলে? তোর ফুফার নামের সঙ্গে মিল দেখে না, এমনিই জিজ্ঞেস করছি। জানিস ব্যাপারটা?’

আমি বললাম, ‘ফুফু তা তো জানি না, কিন্তু পরের ঝড়ের নাম হবে ইমতিয়াজ। তোমার সুইট বুলবুল ইমতিয়াজ জামাই দেখি আমাদের ফুল ফ্যামিলির ইজ্জতের ১২টা বাজিয়ে দিল।’

ফুফু খট করে ফোন রেখে দিলেন। উত্তরটা তাঁকে বলতেই পারলাম না।

মনে আছে? আমাদের অঞ্চলে গতবার ঘটে যাওয়া ঝড়টির নাম ছিল ‘ফণী’। যার মানে হলো সাপ বা ফণা তুলতে পারে এমন প্রাণী। সেটা ছিল ঝড়ের সঙ্গে যাওয়ার মতো একটি পারফেক্ট প্রতিশব্দ। ব্যাপারটা মিলেছিল; কারণ গতবার নাম দেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশ থেকে। বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ঝড় গেলেই যে সেটার নাম বাংলাদেশ করবে এমনটি নয়। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার আঞ্চলিক কমিটি একেকটি ঝড়ের নামকরণ করে। যেমন ভারত মহাসাগরের ঝড়গুলোর নাম দেয় এই সংস্থার আটটি দেশ। দেশগুলো হচ্ছে—বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমার, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড ও ওমান; যাদের প্যানেলকে বলা হয় ডাব্লিউএমও (WMO/ESCAP)।

প্রতিটি দেশ থেকে আটটি করে নাম নিয়ে মোট ৬৪টি নামের তালিকা থেকে একটির পর একটি ঝড়ের নাম দেওয়া হয়। এই ৬৪টি নামের তালিকা বহু আগে থেকেই করা হয়ে আছে। প্রথম দফায় মোট ৬৪টি নাম নির্ধারণ করা হয়েছে। যেমন ফণী নামটি বাংলাদেশের দেওয়া ছিল। অনেক আগে থেকেই এই লিস্ট অনুযায়ী এই ঝড়ের নাম যে ‘বুলবুল’ হবে তা ঠিক করা ছিল। বুলবুল পাকিস্তানের দেওয়া আটটি নামের একটি।

এমনকি পরের ঝড়ের নাম কী হতে যাচ্ছে তা এখনই বলে দেওয়া যায়। সেটার নাম হবে ভারতের প্রস্তাব অনুযায়ী ‘বায়ু’। তার পরেরটার নাম হবে শ্রীলঙ্কার প্রস্তাব অনুযায়ী ‘পাপন’ ধুরু ‘পবন’। তালিকায় থাকা বায়ু ও পবনের পরে সামনের দিনে আসা ঝড়গুলোর নাম হবে—হিক্কা, কায়ার, মাহা, আম্ফান।

কথা ক্লিয়ার, না ভেজাল আছে? ভেজাল কিন্তু তার পরেও মাঝে মাঝে হয়ে যায়। যেমন ঝড়ের নাম দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (World Meteorological Organization) একটি গাইডলাইন আছে যে ‘নাম এমনভাবে প্রস্তাব করতে হবে যেন সেটি ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক বা সামাজিকভাবে কোনো রকম বিতর্ক বা ক্ষোভ তৈরি না করে।’

একবার কিন্তু একটা ভুল হয়ে গিয়েছিল। ২০১৩ সালে একটি ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘মহাসেন’। কিন্তু শ্রীলঙ্কার সাবেক একজন রাজার নাম ছিল ‘মহাসেন’, যিনি ওই দ্বীপে সমৃদ্ধি নিয়ে এসেছিলেন। ফলে এ নিয়ে সে দেশে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

এমনকি শ্রীলঙ্কার সংবাদমাধ্যমে সেটিকে নামহীন ঝড় বলে বর্ণনা করা হয়। পরবর্তী সময় রেকর্ডপত্রে ঝড়টির নতুন নাম নির্ধারণ করা হয় ‘ভিয়ারু’।

এবার যেমন ভুল হয়েছে আমার। বুলবুল ইমতিয়াজ ফুফার নামে ঝড়টি হয়ে মাইন্ড করার মতোই ব্যাপার। তবে হার্টে রিং লাগানোর মতো কারবার যে ঘটিয়ে ফেলেনি, এটাই শুকরিয়া।

আরিফ আর হোসাইন

কয়েকটি ছোট গল্প

♦    গিন্নি কয় দিনের জন্য তার বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজার বেড়াতে গিয়েছিল। ফিরে এসে ট্রলি ব্যাগখানি ঘরে রেখেই বাড়ির চারদিকে চোখ ঘোরাল। চারদিক পরিষ্কার ঝকঝকে। তারপর রান্না ঘরে ঢুকল। প্রতিটি জিনিস যথাস্থানে। রান্নার বাসন পরিপাটি করে কাবার্ডে রাখা। সিঙ্ক ঝকঝকে-তকতকে। চেহারায় ক্রমে বিস্ময়ের ভাব ফুটে উঠছে তার। এধার-ওধার, আলমারি, দেরাজ, যেটাতেই হাত দেয়, কোনো খুঁত পায় না। সব কিছু এক্কেবারে ওকে। মুখে হাসি মাখিয়ে আমার সামনে এসে দাঁড়াল। জড়িয়ে ধরল আমায়। আমার কাঁধে কয়েকটি তপ্ত অশ্রুবিন্দু ঝরে পড়ে।

     —কি হলো? কাঁদছ কেন? জার্নিতে কষ্ট হয়নি তো? কেউ কিছু বলেছে?

     আমার উদ্বিগ্ন হয়ে প্রশ্নের ঝড়।

     গিন্নি একমুখ হেসে, ‘নাঃ, কেউ কিচ্ছু বলেনি। এগুলো আনন্দাশ্রু। বিয়ের এত দিন পর জানতে পারলাম, তুমি এত সুন্দরভাবে সব কাজ করতে পারো। আশ্চর্য! আমার তোমাকে নিয়ে গর্ব হচ্ছে। আমি মিছেমিছিই কাজের লোক নিয়ে এত চিন্তা করতাম। এবার থেকে দেখো, আর কোনো দিন কাজের লোক রাখার কথা উচ্চবাচ্য করব না!’

     জনস্বার্থ হেতু সূচনা : গিন্নিকে কখনো ইম্প্রেস করার চেষ্টা করবেন না।

     বাবা মইন

 

♦    কারওয়ান বাজার সিগন্যালের হকারদের যুক্তি অনুযায়ী প্রেমের সম্পর্ক না টেকা থেকে শুরু করে ভারতের সঙ্গে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারার পেছনের একমাত্র কারণ তার হাতের টুথব্রাশগুলো ব্যবহার না করা। এই ব্রাশ জীবনানন্দ দাশের মনের চেয়ে নরম, চীনের প্রাচীরের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী, ব্যাচেলরের ডান হাত অপেক্ষা প্রয়োজনীয় এবং কারওয়ান বাজারের ধুলাবালির চেয়েও সস্তা।

     খুব দাঁত ব্রাশ করতে ইচ্ছা করছে নিখিলেশ...।

     আল নাহিয়ান

♦    বিশ্ববিখ্যাত কৃপণ ছিলেন ভবেশবাবুর বাবা। তিনি যখন মৃত্যুশয্যায়, তখন ছেলেকে বলে যান, ‘আমি তো আর থাকব না; তবে যদি কখনো কোনো বিষয়ে কোনো পরামর্শের প্রয়োজন হয়, আমার এক কৃপণ বন্ধু আছে, তার নাম হর কুমার, তার কাছ থেকে পরামর্শ নিবি।’

     ভবেশের বাবার মৃত্যু হলো। পরে জায়গা-জমিসংক্রান্ত একটা ব্যাপারে ভবেশবাবুর পরামর্শ নিতে একদিন সন্ধ্যার পর পিতৃবন্ধু হর কুমারের কাছে গেলেন। কাকা হর কুমার ভবেশকে সাদরে ঘরে নিয়ে বসালেন। এ সময় হর কুমার বললেন, ‘কথা বলতে তো আর আলোর প্রয়োজন নেই, তাহলে বাতিটি নিভিয়ে দিই।’

     হর কুমার বৈদ্যুতিক বাতিটি নিভিয়ে দিলেন।

     কথাবার্তা শেষে ভবেশবাবু যখন উঠতে যাবেন, তখন হর কুমার বললেন, ‘দাঁড়াও, বাতিটা এবার জ্বালিয়ে দিই, নইলে তুমি বেরোনোর রাস্তা দেখতে পাবে না।’

     ভবেশ তখন বললেন, ‘একটু দাঁড়ান কাকা, আমি লুঙ্গিটা পরে নিই।’

     হর কুমার অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘মানে?’

     ভবেশ বললেন, ‘আজ্ঞে কাকা! অন্ধকার ঘরে লুঙ্গি পরে সেটার অপচয় করে কী লাভ? খুলে রাখলে বরং লুঙ্গিটার পরমায়ু অন্তত তিন-চার ঘণ্টা তো বাড়বে!’

     জবাব শুনে হর কুমার বাবুর হার্ট অ্যাটাকের দশা! হতাশ কণ্ঠে বললেন, ‘তুমি কেন অযথা আমার কাছে পরামর্শ নিতে এসে সময়ের অপচয় করলে? তুমি তো এরই মধ্যে আমাকে ছাড়িয়ে গেছ, বাপু।’

     সাজেদ রহমান

 

♦    ভুঁড়ি কমানোর জন্য ডায়েট না করে বরং তা নিয়ে অহংকার করুন। জানেনই তো অহংকার পতনের মূল।

     নবগোপাল চক্রবর্তী

♦    ভোরবেলা স্ত্রীকে জাগিয়ে স্বামী জিজ্ঞেস করল, ‘হ্যাঁ গো, তুমি কি আমার সঙ্গে যোগ ব্যায়াম করবে?’

     স্ত্রী : ও, তুমি আমাকে খুব মোটা ভাবো, তাই না?

     স্বামী : না...না, ব্যায়াম তো শরীরের জন্য ভালো।

     স্ত্রী : ও তাহলে আমার শরীর বুঝি খারাপ?

     স্বামী : না...না! আচ্ছা তুমি যখন উঠতে চাও না, তবে থাকো।

     স্ত্রী : ও, এবার তুমি বলছ আমি কুঁড়ে?

     স্বামী : ওহো...তুমি আমায় বুঝতে পারছ না!

     স্ত্রী : ও, আমি তো অবুঝ?

     স্বামী : আমি তা বলিনি!

     স্ত্রী : তাহলে কি আমি মিথ্যুক?

     স্বামী : সাজসকালে ঝগড়া কোরো না প্লিজ।

     স্ত্রী : হ্যাঁ, আমি তো ঝগড়াটে। সকাল থেকেই ঝগড়া করি।

     স্বামী : ঠিক আছে, তাহলে আমিই যাব না যোগব্যায়াম করতে।

     স্ত্রী : দেখছ, ইচ্ছা তোমার নেই, আমার ওপর দোষ চাপাচ্ছ।

     স্বামী : ঠিক আছে বাবা ঘুমাও তুমি, আমি একাই চললাম।

     স্ত্রী : তুমি তো সব সময় একা একাই ঘোরো আর ফুর্তি করো।

     স্বামী : উফফ, থাক এবার। আমার শরীর খারাপ লাগছে।

     স্ত্রী : দেখেছ, কি স্বার্থপর তুমি। খালি নিজের চিন্তা করো,

     আমার শরীর-স্বাস্থ্যের কথা কখনো ভাবো?

     স্বামী বেচারা আজ তিন দিন বসে বসে ভাবছে, ‘কোথায় কি ভুল বললাম?’

     এভাবে বসে আছে দেখে স্ত্রী স্বামীকে জিজ্ঞেস করে, ‘তিন দিন ধরে দেখছি ঝিম মেরে আছ। কাকে নিয়ে চিন্তা করো? কার রং ধরছে মনে?’

     আরিফুর রহমান

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা