kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মনোভূমি

মনে আছে?

৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



২০১৪ সালের জানুয়ারি। সারা দেশে হরতাল-অবরোধ চলছিল। এখনো মনে আছে, ৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার হঠাৎ অবরোধ স্থগিত করেছিল। সন্ধ্যায় জানতে পারি পরদিন শুক্রবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অনুষদে আমাদের প্রথম বর্ষে ভর্তির সাক্ষাৎকার। ট্রেনের শিডিউল ঠিক না থাকায় কিশোরগঞ্জ থেকে আসতে দুপুর ১টা বেজে গিয়েছিল। ভাইভা বোর্ডের আশপাশে আমার উৎকণ্ঠা দেখে শিক্ষকরা কষ্ট পেয়েছিলেন। কারণ ততক্ষণে সাবজেক্ট চয়েসের কাজটি সমাপ্তির দিকে। শিক্ষকরা জুমার নামাজ শেষ করে এলেন। হঠাৎ বাঁ দিকে তাকাতেই দেখি ভর্তীচ্ছু আরেক মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে তার বয়োবৃদ্ধ নানাকে নিয়ে। কথা বলে জানতে পারলাম টাঙ্গাইল থেকে এসেছে। আমাদের সময় ফরেস্ট্রিতে ভর্তি হতে হলে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হতো। ফরেস্ট্রি অনুষদের প্রশাসনিক ভবন পাহাড়ের ওপরে। স্যার বললেন, ভবনের সামনের রাস্তা দিয়ে আমাদের দুজনকে দৌড়ে গিয়ে পেছনের রাস্তার সিঁড়ি দিয়ে উঠে আসতে হবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর জন্য। দুজনে দৌড়াতে থাকলাম। অনেক কথা হলো আমাদের। বলেছিলে তুমি ফরেস্ট্রিতেই ভর্তি হবে। অবশ্য আমি ভর্তি হলাম পরিসংখ্যানে। তোমার মুক্তিযোদ্ধা নানার কথা এখনো মনে আছে। তিনি কি এখন বেঁচে আছেন? বেঁচে থাকলে ঘটনা মনে করিয়ে আমার সালাম দিয়ো। আমাকে তোমার মনে আছে কি না জানি না। তবে গত পাঁচ বছরে যত দিন ফরেস্ট্রিতে ঘুরতে এসেছি, তত দিনই তোমার সঙ্গে দৌড়ানোর কথা মনে পড়েছে। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি, অথচ এত বছরেও আমাদের দেখা হয়নি। তুমি কি ভুলে গেছ জীবনের প্রথম দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে দৌড়ানোর কথা। আমি ভুলিনি। লেখাপড়া শেষের পথে। একবার দেখা হলে প্রথম পরিচয়ের স্মৃতিচারণা করতাম। তোমার সঙ্গে পরিচয়ের মধ্য দিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শুরু। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হলেই কালের কণ্ঠ রাখা হয়। যদি এই লেখাটি তোমার চোখে পড়ে, তাহলে একটু খোঁজ কোরো। তোমার অপেক্ষায় আছি।

আবদুল্লাহ আল মাউন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা