kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মনোভূমি

বুকের বাঁ পাশে জমে থাকা স্মৃতি

৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



তখন প্রথম বর্ষের মাঝামাঝি। ক্যাম্পাসের বাইরে থাকি। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী, সামাজিক সংগঠনে যুক্ত থাকার কারণে বিকেল হলেই ক্যাম্পাসে যাই। তা ছাড়া বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার ব্যাপারটা তো আছেই। সেদিন দুপুরের পর বেশ কিছু সময় ধরে ঝুম বৃষ্টি হয়েছে। কাজলা গেট হয়ে প্যারিস রোড দিয়ে শহীদুল্লাহ কলাভবনের দিকে যাচ্ছি। মাঝপথে নাফিসকে কল দিয়ে আসতে বললাম ক্যাম্পাসে। এক পশলা বৃষ্টি শেষে যেন প্যারিস রোডের কোলে বিকেলটা তার অন্যরকম এক সৌন্দর্য মেলে ধরেছে। প্যারিস রোড দিয়ে হাঁটছি, মাঝে মাঝে হালকা বাতাস এসে চোখে-মুখে ঝাপটা দিচ্ছে। এটা এক অন্য রকম অনুভূতি। যাইহোক, বিভাগের সামনে যেতেই নাফিস চলে এলো। দুজনে গেলাম টুকিটাকি চত্বরের দিকে। ততক্ষণে প্রায় সন্ধ্যা ছুঁইছুঁই। টুকিটাকি চত্বরে চায়ের কাপের সঙ্গে শুরু হয়ে গেছে আড্ডা। বিদ্যুৎ নেই, প্রতিটি টেবিলে মোমবাতি। আমি ও নাফিস গিয়ে বসলাম একটা ফাঁকা বেঞ্চে। একটু পরেই গিটার হাতে চঞ্চল এসে হাজির। ক্যাম্পাসের সবাই তাকে একনামে চেনে। গান নিয়ে তার পাগলামি অন্য রকম। সকাল থেকে মাঝরাত পর্যন্ত সে গিটার হাতে পুরো ক্যাম্পাস ঘুরে বেড়ায়, গান শোনায় সবাইকে। চঞ্চলকে বললাম, মিরানকে কল দিতে। মিরানও দারুণ গান করে। ক্যাম্পাসের অনুষ্ঠানে তার ডাক আসে গান গাওয়ার জন্য। চঞ্চল ও মিরান একসঙ্গেই থাকে। একটু পরে মিরানও এসে হাজির। শুরু হয়ে গেল গান। কেউ-ই পেশাদার শিল্পী নয়, তবু একটার পর একটা গান যত্ন করে গাইছে মিরান কিংবা চঞ্চল। একটু পরে এলো রাসেল। মাঝে মাঝে আমি ও নাফিস গলা মেলানোর চেষ্টা করছিলাম। পাশের বেঞ্চের বড় ভাই, আপুরা উৎসাহ দিচ্ছিলেন। তাঁরা যে গান শুনছিলেন ব্যাপারটা প্রথমে আমরা কেউ খেয়ালই করিনি। এই চার বছরে অনেক আড্ডা হয়েছে ক্যাম্পাসে। কিন্তু সেদিনের বৃষ্টিস্নাত ক্যাম্পাসের এমন সন্ধ্যা আর কখনো আসেনি। কিছুদিন আগের এক সন্ধ্যায় ফাইনাল পরীক্ষার জন্য টুকিটাকির পাশে কিছু হ্যান্ডনোট ফটোকপি করতে গিয়ে চোখে পড়ল কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী একসঙ্গে গলা ছেড়ে গাইছে। এমন দৃশ্য দেখে হঠাৎ আমার মনে পড়ে গেল সেই বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যার কথা। সত্যিই এমন স্মৃতিগুলো বুকের বাঁ পাশে জমা থাকবে। উত্তাপ ছড়াবে বহুকাল।

মালেক সরদার

শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা