kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

রঙ্গভরা বঙ্গদেশ

৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



রঙ্গভরা বঙ্গদেশ

অঙ্কন : মাসুম

স্ত্রীদের কিছু কমন ডায়ালগ

►    আমি ছাড়া তোমার মতো লোকের সঙ্গে কেউ ঘর করতে পারত না।

►    আমি বলে এখনো রয়ে গেছি তোমার সঙ্গে। অন্য কেউ হলে কবেই চলে যেত।

►    আমার কত ভালো ভালো সম্বন্ধ এসেছিল জানো? নেহাত তোমাকে ভালোবাসতাম বলে সব ‘না’ করে দিয়েছিলাম। এখন পস্তাচ্ছি।

►    পুরুষ মানু্ষ ঢের ঢের দেখেছি, তোমার মতো অপদার্থ কাউকে দেখিনি।

►    তোমার মতো এত ভুলো লোককে বিয়ে করাই উচিত হয়নি। উচিত ছিল একা একা মেসে থেকে জীবন কাটানো।

►    জগতের সব কিছু মাথায় থাকে, শুধু বাজার থেকে পাঁচটি জিনিস আনতে দিলে তার তিনটিই মাথায় থাকে না, তাই না?

►    শোনো, বেশি উড়ো না বুঝলে তো। তোমার ডানা ছাঁটতে আমার দুই মিনিট সময়ও লাগবে না।

►    অন্য মহিলাদের প্রতি খুব ইন্টারেস্ট দেখছি তোমার!

►    আমার বাবা-দাদাও পুরুষ মানুষ। কিন্তু তাঁরা কত কর্মঠ আর কত হিসাবি। আর তোমার মতো অপদার্থ লোকই বেছে বেছে জুটল আমার কপালে!

►    তোমার হম্বিতম্বি আমার জানা আছে। যত চোটপাট বাড়িতে বউয়ের ওপর, বাইরে তো ভেজা বিড়াল।

►    চললাম আমি বাপের বাড়ি। থাকো তুমি তোমার বন্ধুবান্ধব আর ফোন নিয়ে।

►    এতক্ষণ যেখানে ছিলে রাতের খাবারটাও সেখান থেকেই খেয়ে আসতে পারতে। কেন, কিছু জুটল না সেখানে বুঝি?

►    শোনো, পরিষ্কার বলছি, বন্ধুবান্ধব নিয়ে এ রকম যখন-তখন বাড়িতে আসর বসানো চলবে না। আর যদি করতেই হয়, খাবার বাইরে থেকে কিনে নিয়ে আসবে।

►    খবরের কাগজ মুখস্থ করা শেষ হলে জানিও, একটু বাজারে গিয়ে আমাকে কৃতার্থ করতে হবে।

►    যত পচা সবজি আর মাছ কি দোকানদাররা তোমাকেই গছায়? আর লোক পায় না?

►    যেমন বাবা তেমনি হয়েছে তাঁর ছেলে। তোমাদের এটা বংশের দোষ?

     তসবির উদ্দিন কামাল

 

একচিমটি

►    সমাজটা সত্যিই অদ্ভুত। এখানে অসফল লোকদের নিয়ে সবাই হাসি-তামাশা করে, আর সফলদের কেউ সহ্য করতে পারে না।

     নবগোপাল চক্রবর্তী

 

►    দামি ফলমূলের নামে মানুষের নাম রাখার চল আছে। যেমন—আপেল, আঙুর, বেদানা। শুনলাম দামের দিক দিয়ে আপেলকে ছাড়িয়ে গেছে পেঁয়াজ। সন্তানের নাম পেঁয়াজ রাখার সময় এলো বলে।

     পলাশ মাহবুব

 

►    একবার এক জাপানিজ এসে বলে, ‘তানভীর সান, মাই ওয়াইফ ইজ নট ওয়ার্কিং।’

—তোমার ওয়াইফ ওয়ার্ক না করলে আমি কী করব?

—ওহ সরি, রিভর ইজ নট ওয়ার্কিং।

     তানভীর মাহমুদুল হাসান

 

►: আমার স্ত্রীর স্মৃতিশক্তি জঘন্য।

     : সব ভুলে যায়?

     : সব মনে রাখে।

                                       মতিউর মামনুন

 

►    পেট মোটা টিভিগুলো স্লিম হয়ে গেছে আর আমাদের স্লিম শরীরগুলো মোটা করে দিচ্ছে।

                                        কামরুন নাহার

 

►   আগে মানুষ নিজে একটা কথা বলার পর অন্য কেউ ভিন্নমত পোষণ করে কিছু বললে খেপে গিয়ে বলত, ‘আমার কথার ওপর কথা? কত্ত বড় সাহস!’ ফেসবুক আসার পর এখন আর কথার ওপর কথা বলা যায় না। বলতে হয় নিচে। কমেন্টে। সুতরাং কারো কমেন্ট মনঃপূত না হলে নিশ্চয়ই বলতে হবে, ‘আমার কমেন্টের নিচে কমেন্ট? কত্ত বড় সাহস!’

                                           মুহসিন ইরম

 

 

পেঁয়াজ-রতনের খোঁজে

বাসার পরিবেশ বেশ থমথমে। কারো মুখে কোনো কথা নেই। আমার স্ত্রী এক কোনায় মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। তার চোখে জল। বারবার সে একটা কথাই বলছে, ‘দোষটা আমারই। আমি যদি একটু খেয়াল রাখতাম, তাহলে আজ এ দুর্ঘটনা ঘটত না।’

আমাদের দুর্ঘটনার ঘটনা অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ল। নেত্রকোনা থেকে আমার ছোট মামা ফোন করে বললেন, ‘তুই কোনো চিন্তা করিস না। আমি আসছি। সমস্যা হচ্ছে বাসের টিকিট পাচ্ছি না। তবে ভাবিস না, বাসের টিকিট না পেলেও আমি সময়মতো চলে আসব। এক গরুর ট্রাকের সঙ্গে কথা হচ্ছে। ওরা বলেছে, গরুর সঙ্গে গাবতলী পর্যন্ত পৌঁছে দেবে!’

শুধু আমার ছোট মামাই নয়, নরওয়ে থেকে আমার স্ত্রীর বড় চাচা আমাকে ফোন দিয়ে বললেন, ‘তোমাদের খবরটা শুনলাম। তোমাদের জন্য আমার সমবেদনা রইল। শোককে শক্তিতে রূপান্তর করো।’

ঢাকা ও আশপাশে যেসব আত্মীয়-স্বজন ছিল, তাদের পদচারণে আমাদের বাসা এখন কাঁচাবাজারে রূপ নিয়েছে। সবার চোখে-মুখেই দুঃখের ছাপ স্পষ্ট। সবাই সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনতলার ভাবি আমাকে দেখে চতুর্থবারের মতো জিজ্ঞেস করলেন, ‘এই ঘটনা কী করে ঘটল ভাই?’

মহিলাকে আমি একবার ঘটনা খুলে বলেছি। তার পরও বারবার কেন এই একই প্রশ্ন করছেন তা আমার মাথায় ধরছে না। আমি কথা না বলে সোফায় বসে পড়লাম। কিছুই ভালো লাগছে না। আমার বাসায় যে এমন একটা ঘটনা ঘটতে পারে তা আমি জীবনেও ভাবিনি!

একটু ঠাণ্ডা মাথায় সব কিছু ভাবার চেষ্টা করছি, এমন সময় আবার ছোট মামার ফোন, ‘ভাগ্নে, তুমি কোনো চিন্তা কইরো না। আমি গরুর ট্রাকে উইঠা পড়ছি! আমি আসলে সব বিপদ যাইবো গা! শোনো নাই, মামা-ভাগ্নে যেখানে বিপদ নাই সেখানে!’

আমি ফোনটা কেটে দিলাম। ছোট মামার সঙ্গে এখন কথা বলতে ইচ্ছা করছে না। খুব ইচ্ছা করছে একটু একা থাকতে। কিন্তু সেটাও এখন সম্ভব নয়। দলে দলে আত্মীয়-স্বজন এসে ভিড় করছে। কিন্তু কেউই যাওয়ার নাম করছে না।

ভিড়ের মধ্যে থেকে কেউ একজন বলে উঠল, ‘আচ্ছা এত বড় একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেল, তাহলে পুলিশে ফোন দেওয়া হয়েছে?’

তার কথায় চারপাশে হায় হায় একটা রব পড়ে গেল। সবাই তার মোবাইল ফোন বের করে পুলিশে ফোন দেওয়ার চেষ্টা করছে।

ঠিক এমন সময় আমাকে হতবাক করে বাসায় পুলিশ চলে এলো। সূত্রমতে, তো আরো পরে পুলিশের আসার কথা ছিল। এত আগে কিভাবে এলো বুঝলাম না! এদিকে মাথাটাও কাজ করছে না। আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।

পুলিশ এসেই বলল, ‘বিদেশি মিডিয়ায় দুর্ঘটনার খবরটা দেখেই চলে এলাম। ওপর থেকে নির্দেশ আছে, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে যেন ছাড় দেওয়া না হয়।’ পুলিশ অফিসার বেশ ব্যস্ত হয়ে আরো বললেন, ‘বাসার প্রধান কে? আমি তার সঙ্গে কথা বলতে চাই। আর বাসায় যারা আছে তারা কেউ যেন বাইরে না যায়। সবাইকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

সবাই আমাকে দেখিয়ে দিয়ে বলল, ‘ওই যে আনিস, ও-ই এই বাসার প্রধান।’ পুলিশ অফিসার আমার সামনে বসলেন। তারপর আমার দিকেই সন্দেহের দৃষ্টি রেখে বললেন, ‘আনিস সাহেব, আমাকে শুরু থেকে পুরো ঘটনাটা খুলে বলেন তো। সাবধান, কিছু গোপন করলে কিন্তু আপনি নিজেই ধরা খেয়ে যাবেন।’

পুলিশকে ঘটনাটা খুলে বলব ঠিক এমন সময় ছোট মামার ফোন, ‘ভাগ্নে, আমি হাসপাতাল যাচ্ছি! এক ফাজিল গরু গুঁতা দিয়ে আমার কোমরের হাড় ভেঙে ফেলেছে! তুই কোনো চিন্তা করিস না! আমি কোমরে ব্যান্ডেজ বেঁধে এসেই উদ্ধারকাজে নেমে পড়ব!’

আমি ফোন রাখলাম। পুলিশ অফিসার আরো সন্দেহের দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘কে ফোন করেছিল?’

পুলিশকে বললাম, ‘আমার ছোট মামা। আমার এত বড় দুর্ঘটনার খবর শুনে তিনি নেত্রকোনা থেকে আসছেন। এখন পঙ্গু হাসপাতালে যাচ্ছেন।’

আমার কথা শেষ হতেই পুলিশ অফিসার তাঁর এক কনস্টেবলকে নির্দেশ দিলেন, ‘খুবই সন্দেহজনক লোক! যাও ওনার ছোট মামাকে এখনই গ্রেপ্তার করো!’

আমি হতবাক হয়ে গেলাম। ছোট মামাকে কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে! যেই কিছু একটা বলতে যাব, তখনই পুলিশ অফিসার আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আপনি ঘটনা বলা শুরু করুন। একেবারে গোড়া থেকে বলবেন। কিছুই বাদ দেবেন না। নইলে কিন্তু...!’

আমি বলা শুরু করলাম, ‘পেঁয়াজের কেজি ১৫০ টাকা হয়ে গেল! উপায় না দেখে গতকাল বাজার থেকে ২০ টাকা দিয়ে এক হালি দেশি পেঁয়াজ কিনে এনেছিলাম। আজ সকালে উঠে দেখি দুটি পেঁয়াজ গায়েব!’

পুলিশ অফিসার আঁতকে উঠলেন, ‘বলেন কী! তারপর?’

‘তারপর আর কী? সব জায়গায় খুঁজলাম। কোথাও নাই।’

পুলিশ অফিসার সরু চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আপনার স্ত্রী কোথায়? তাকে ডাকেন?’

আমার স্ত্রী আসতেই পুলিশ অফিসার যেন আসামি ধরে ফেলেছেন এমন ভঙ্গিতে বললেন, ‘বলেন সেই দুটি পেঁয়াজ দিয়ে আপনি কী করেছেন?’

স্ত্রী আমার ভয় পেয়ে গেল। কোনো রকমে কাঁচুমাচু হয়ে বলল, ‘বিশ্বাস করুন স্যার, আমি কিছুই জানি না। রাতে উনি এক হালি পেঁয়াজ আনার পর যত্ন করে কিচেনে রেখেছিলাম। সকালে উঠে দেখি দুটি পেঁয়াজ নাই।’ এইটুকু বলেই আমার স্ত্রী জ্ঞান হারালেন। কয়েকজন এসে আমার স্ত্রীকে ভেতরে নিয়ে গেলেন! তৃতীয়বারের মতো তার মাথায় পানি ঢালা হচ্ছে! বেচারি অনেক শোকে আছে!

একে একে পুলিশ ঘরের সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকল। বাসার সবার মধ্যে এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে। তিনতলার সেই ভাবি পালাতে গিয়ে পুলিশের কাছে ধরা পড়ে গেলেন! পুলিশ এখন তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে রেখেছে। এ অবস্থায় আমি কী করব ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। একদিকে দুটি পেঁয়াজের শোক, আরেক দিকে ঘরের মধ্যে এমন বিচ্ছিরি সব ঘটনা।

হঠাৎ দেখলাম, আমার আড়াই বছরের ছেলে মিটিমিটি হাসতে হাসতে বারান্দার দিকে যাচ্ছে। ঘটনাটা পুলিশ অফিসারেরও চোখ এড়াল না। তিনি নির্দেশ দিলেন, ‘ওকে ধরো, ওর চলাফেরা সন্দেহজনক!’

ছেলেকে আমার ধরা হলো। পুলিশ অফিসার কঠিন জেরা শুরু করলেন, ‘দুটি পেঁয়াজ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তুমি জানো সেই দুটি পেঁয়াজ কোথায়?’

ছেলে আমার মিচকে হাসি দিয়ে খোলা জানালা দেখিয়ে বলল, ‘জান্না দিয়ে ফেয়ে দিছি!’

ছেলের কথা শুনে আমি জ্ঞান হারানোর আগে শুনলাম, পুলিশ অফিসার মানে না বুঝে ছেলেকে জিজ্ঞেস করছেন, ‘জান্না মানে কী? হোয়াট ইজ জান্না?’

কিন্তু আমি তো জানি জান্না মানে কী! দুটি পেঁয়াজের শোকে আমার চারপাশ ধীরে ধীরে অন্ধকার হয়ে আসতে লাগল!

     রোহিত হাসান কিসলু

 

অনলাইনে মজার মজার গল্প, বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুক, সাম্প্রতিক বিষয়-আশয় নিয়ে নিয়মিত স্ট্যাটাস

দিয়ে যাচ্ছেন পাঠক-লেখকরা। সেগুলোই সংগ্রহ করলেন মেহেদী আল মাহমুদ।

আপনার লেখা মজার স্ট্যাটাসটি এই পাতায় ছাপাতে নাম-ঠিকানাসহ মেইল করুন

[email protected]এ অথবা ইনবক্স করুন আমাদের ফেসবুক পেজে facebook.com/Oboshore/.

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা