kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সুপ্রভাত বাংলাদেশ

বদলে যাচ্ছে দোয়ারপাড়া

গ্রাম হবে শহর, ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই ঘোষণা বাস্তবায়ন করতে কাজে নেমেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন। বেছে নিয়েছে দোয়ারপাড়া গ্রামকে। এরই মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। অনেকটাই বদলে গেছে দোয়ারপাড়া। দেখে এসেছেন মানিক আকবর

১২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বদলে যাচ্ছে দোয়ারপাড়া

দোয়ারপাড়া গ্রামটি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শংকরচন্দ্র ইউনিয়নে। একে শহর করার কাজ শুরু হয় ১৩ এপ্রিল। খুলনা বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। শহর থেকে মাত্র সাত কিলোমিটার দূরে হলেও দোয়ারপাড়া গ্রামে কোনো নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ছিল না। চুয়াডাঙ্গার সাবেক জেলা প্রশাসক গোপালচন্দ্র দাসকে সঙ্গে নিয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াশীমুল বারী গ্রামটি ঘুরে দেখলেন। সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, এই গ্রামটিকেই শহর করা হবে। তার আগে গ্রামের সব তথ্য নিতে হবে। শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফয়জুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হলো। দেখা গেল গ্রামে পরিবারের সংখ্যা ১২০টি। পাকা বাড়ি ৯০টি, কাঁচা বাড়ি ৩০টি, সরকারি চাকরিজীবী মাত্র চারজন, আছে একটি সরকারি বিল, একটি করে আছে মসজিদ, কবরস্থান, ঈদগাহ ও ক্লাব। মাত্র চারটি দোকান আছে। গ্রামের মাত্র চারজন থাকেন দেশের বাইরে। দুজন পুরুষ, দুজন মহিলা। গ্রামে কৃষক আছেন ৯৪ জন। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত ১৩৮ জন শিক্ষার্থী আছে গ্রামে। আয়তনে গ্রামটি বেশ ছোট। মাত্র আধা কিলোমিটার দৈর্ঘ্য। প্রস্থ ৮০০ গজ। আরো তথ্য মিলল, গ্রামে নিরাপদ পানি সরবরাহের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। মাত্র আধা কিলোমিটার পাকা রাস্তা। এ ছাড়া তেমন কোনো নাগরিক সুযোগ-সুবিধাই নেই।

 

বদলে ফেলা হচ্ছে যা কিছু

গ্রামে কাঁচা রাস্তা ৬০০ ফুট। ইটের রাস্তা আছে ৪০০ ফুট। সব রাস্তা পাকা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাঁচ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার একটি পানির ট্যাংক নির্মাণ করা হয়েছে। গ্রামের সব বাড়িতে নিরাপদ পানি পৌঁছে দিতে কাজ চলছে।

সরকারি বিলটি অন্য সাধারণ বিলের মতোই। এটিকে দৃষ্টিনন্দন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে বিলের মাঝখানে ‘বেলা শেষে’ নামের সুন্দর একটি বসার জায়গা তৈরি করা হয়েছে। দর্শনার্থীরা এখানে বসে প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলি দেখতে পারছেন। একটি বড় পাঠাগার তৈরির জন্যও জায়গা ঠিক করা হয়েছে। এ ছাড়া গত ২০ আগস্ট ২৫ জন নারী শিক্ষার্থীকে বাইসাইকেল দেওয়া হয়েছে। তারা এখন সাইকেলে চড়ে তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে।

গ্রামে স্মার্টফোন ছিল হাতে গোনা কয়েকটি। এখন তা বাড়ছে। কারণ গ্রামে ওয়াই-ফাই সংযোগ দেওয়া হয়েছে। আগে রাতের গ্রাম ছিল অন্ধকার। এখন আলো-ঝলমল করে। সৌরবিদ্যুৎ পোল বসানো হয়েছে ১৬টি। সন্ধ্যার পর বিদ্যুতের আলোয় এখন আলোকিত থাকে পুরো গ্রাম। গ্রামে আছে ১০টি জলাশয়। সব দৃষ্টিনন্দন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

২০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এসডিজিবিষয়ক) মোকাম্মেল হোসেন এসেছিলেন দোয়ারপাড়ায়। তিনি গ্রামের ইতিবাচক পরিবর্তন দেখে অভিভূত। বলেন, ‘সীমিত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারে গ্রামের এমন পরিবর্তন, না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না। গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন গ্রামের যে পরিবর্তন করেছে তা অভাবনীয়।’

 

গ্রামবাসীর অনুভূতি

গাঁয়ের নেতৃস্থানীয় একজন ইউছুপ মণ্ডল। বললেন, ‘আমরা খুবই খুশি। সন্ধ্যা লাগলে গ্রামকে আর গ্রাম মনে হয় না। মনে হয় শহর হয়ে গেছে।’ গ্রামের দরিদ্র কৃষক নিজাম উদ্দিন বললেন, ‘আমার মেয়ে ডিঙ্গেদহ বালিকা বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। আগে হেঁটে তাকে স্কুলে যেতে হতো। দিনকয় আগে তাকে একটি সাইকেল দেওয়া হয়েছে। আমার মেয়ে এখন সাইকেলে চড়ে স্কুলে যায়।’ শংকরচন্দ্র ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শওকত আলী বলেন, ‘দোয়ারপাড়া গ্রামটিকে শহর করা হবে ঘোষণার পর থেকে আমরা প্রতিদিনই গ্রামবাসীর সঙ্গে আলাপে বসছি। তাদের কাছ থেকে ভালো সাড়াও পাচ্ছি। গ্রামবাসীর সহযোগিতা নিয়েই আমরা দোয়ারপাড়া গ্রামকে বদলে দিচ্ছি। গ্রামটি শহর হয়ে যাচ্ছে। একসময় দোয়ারপাড়া দেখতে ঢাকা থেকেও লোক আসবে চুয়াডাঙ্গায়।’

শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান বলেন, ‘একটি ভালো উদ্যোগে আমরা সবার সহযোগিতা পাচ্ছি। আমরা সবাই মিলে গ্রামটিকে আধুনিক শহর করে ফেলব।’

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াশীমুল বারী বলেন, ‘গ্রামটিকে পরিকল্পিতভাবে আকর্ষণীয় করে তোলা হচ্ছে। যাতায়াতব্যবস্থা উন্নত হচ্ছে। নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ভাবা হচ্ছে উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থার কথাও।’

                                                          ছবি: লেখক

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা