kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ফেসবুক থেকে পাওয়া

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ফেসবুক থেকে পাওয়া

চেনা মানুষ, অচেনা নাম্বার

মোবাইলে অচেনা নাম্বার থেকে কল এলেই বুকের ভেতর কেমন যেন করে ওঠে। মনে হয় নিতুই হয়তো কল দিয়েছে। কিন্তু দুই বছর ধরে কল্পনা আর সত্যি হয়নি। এবারও কল রিসিভ করলাম। ওপাশ থেকে সুন্দর করে নারীকণ্ঠে একজন বলে উঠল, ‘কেমন আছো।’  আরে এ তো নিতুই। নদীর বুকে বৃষ্টি পড়লে যেমন ঝমঝম করে শব্দ হয়, নিতুর কথাগুলোও আমার কানে এমন শোনাল। পাক্কা দুই বছর পর নিতুর কথা শুনলাম। ভালো আছি বলেই জানতে চাইলাম, ‘তোমার লাইফে কী নতুন কেউ এসে গেছে, নিতু?’ নিতু এক সেকেন্ডও ভাবার সময় না নিয়ে বলে ফেলল ‘হ্যাঁ।’

আমি আর কথা বলতে পারলাম না। গলাটা কেমন যেন ধরে এলো। নিতুকে খুব জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছা করছিল, ‘আজ কি তোমার বাবার সেই ছেলের কথা শুনে প্রেশার বেড়ে যাবে না? সেই ছেলে কি তোমাকে আমার চেয়েও বেশি সহ্য করে? তোমার বাড়ির লোকজন তোমার বোনের মতো তোমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেবে না?’

এসব জানতে চাওয়ার আর ইচ্ছা হলো না। ওদিকে অন্যপ্রান্ত থেকে ‘হ্যালো হ্যালো, সানি’ বলেই যাচ্ছে নিতু। অচেনা নাম্বারের চেনা মানুষটা যখন অন্য কারোর হয়ে গেছে, তাকে আর না-ই বা চেনার চেষ্টা করলাম।

আল সানি

সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়।

 

ভালো থেকো সালমান শাহ

আমি তখন সবে কিশোরী। তবু কী বুঝতাম জানি না, তোমার মৃত্যুর খবর ছিল সহ্যসীমার বাইরে। বিটিভির বিকেল বেলার নিউজ দেখে কতক্ষণ নীরবে কেঁদেছি জানি না। আজ তুমি নেই সালমান, সে সময় তুমি ছিলে সবচেয়ে আধুনিক ও স্মার্ট! বেঁচে থাকলে হয়তো এখনো তুমি আমার মতো অনেকের হৃদয়ে ঝড় তুলতে।

প্রতিবছর ৬ সেপ্টেম্বর আসে। আমরা এই দিনটি কখনো ভুলব না। পরিবারের আপনজনদের যেমন মানুষ ভুলতে পারে না, ঠিক তেমন। এখন শুধু অপেক্ষা, তোমার হত্যাকারীদের বিচার দেখব বলে। তোমার হত্যা মামলার উকিল অ্যাডভোকেট ফারুক সাহেবের কল্যাণে তোমার মা অর্থাৎ আমাদের নীলা আন্টির সঙ্গে ফোনে কথা বলার সুযোগ হয়েছে ২০১৭ সালে। মনে হচ্ছিল, তখন যেন সালমান তোমার সঙ্গে কথা বলছি; বুকটা দুরু দুরু কাঁপছিল। আন্টির কষ্ট আমাকেও কাঁদিয়েছে। যেখানেই থাকো ভালো থেকো প্রিয় নায়ক।

সাহিদা সাম্য লীনা

ফেনী।

 

ক্যানভাসের আনন্দ

ছুটির দিনে আনন্দের সকাল শুরু হয় ১২টা থেকে। এত তাড়াতাড়ি ঘুমটা যে কেন ভাঙল। ফোন খুলে দেখে সবে ৯টা ১০। আরেকবার ঘুমানোর চেষ্টা করল আনন্দ। নাহ, ঘুম আসছে না। জামা গায়ে দিয়ে নিচে নামল। সকাল শুরুই হয় তার কুদ্দুস মামার দোকানের চা দিয়ে। ‘মামা, একটা চা দিয়ো আদা বেশি করে, আরেকটি সোনাপাতা দাও।’ গোল্ডলিফকে সোনাপাতা বলে সে। কুদ্দুস মামা চা দিতে দিতে বলে—

—নতুন কিছু লিখছেননি মামা?

—নাহ মামা।

হঠাৎ করে সে আবার বিষণ্ন হয়ে পড়ে। ভালো কিছু লিখতে পারছে না। সব কিছু ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। চা বিক্রেতাও লেখা নিয়ে কথা বলছে, ভাবতেই মাঝেমধ্যে অবাক লাগে। অথচ এখনকার জেনারেশন ফেসবুকে কত কথার ঝড় তোলে; কিন্তু বাস্তবে সবই মেকি। চায়ের দোকান আসলে আলাদা একটি জগৎ, যেখানে মারামারি নেই, ধর্ম নিয়ে বিরোধ নেই। আজকের আবহাওয়াটা ভালো। একটু ঘুরে আসা যায়—ভাবতে ভাবতে উঠে পড়ল। ‘মামা, বিলটা লিখে রাখো।’ বলেই হাঁটা দিল আনন্দ।

হাঁটতে হাঁটতে কখন যে ধানমণ্ডি থেকে লালমাটিয়ায় চলে এসেছে, খেয়ালই নেই। হঠাৎ সিগারেট খেতে ইচ্ছা হলো। আশপাশে ভালো শিঙাড়ার দোকানও নেই। সিগারেট ধরিয়ে বসে পড়ল পাশের রাস্তায়। সিগারেটের ধোঁয়ার দিকে একমনে চেয়ে আছে। তার চিন্তাগুলো ধোঁয়ার মতো পাঁক খাচ্ছে। মাঝেমধ্যে তার মনে হয় হেমিংওয়ের মতো আত্মহত্যা করলে খারাপ হয় না। মৃত্যুর আসলে দাম অনেক।

সপ্তাহখানেক পর এক বন্ধুর অনুরোধে একটি চিত্রকলা প্রদর্শনীতে গেল আনন্দ। আগে কখনো সে এসব জায়গায় আসেনি। এত জমকালো জায়গায় এসে খুব অস্বস্তিতে পড়ে গেল। ছবির ব্যাপারে তার ধারণা একেবারেই শূন্যের কোটায়। তবু ঘুরতে ঘুরতে একটা ছবিতে চোখ আটকে গেল। এক যুবক সিগারেট হাতে বসে আছে রাস্তার পাশে, একটি বাচ্চা বেলুন হাতে চেয়ে আছে আকাশের দিকে। আর ঠিক সেই সোজা একটি রেস্তোরাঁর দোতলায় বসে চা খাচ্ছে এক তরুণী। আনন্দ ছবিটার শিরোনাম খুঁজে পেল না। নিজের মাথার মধ্যেও অনেক শব্দ ঘোরাঘুরি করছে; কিন্তু একটাও মনমতো আসছে না।

—ছবিটার নাম ‘সমান্তরাল’ পাশে থেকে একটি মেয়ে বলে উঠল। আনন্দ খেয়াল করেনি, কখন যে তার পাশে একটি মেয়ে এসে দাঁড়িয়েছে। তবে নামটা তার ভীষণ পছন্দ হলো।

—হুম, নামটা বেশ সুন্দর। অসমান্তরাল জীবনকে কত সুন্দর করে একটি সমান্তরালে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হয়েছে।

—বাহ! সুন্দর ব্যাখ্যা দিলেন তো। এই ছবির মজাটা কোথায় জানেন?

—নাহ, আমি চিত্রকর্ম বেশি বুঝি না।

—ছবিতে যে সিগারেট খাচ্ছে, সেই যুবক আপনি।

অবাক হয়ে মেয়েটির দিকে তাকাল আনন্দ। মেয়েটি ওর মনের কথা বুঝতে পেরে বলল—

—সৃষ্টি স্রষ্টাকে ভুলতে পারে; কিন্তু স্রষ্টা সৃষ্টিকে ভোলে না।

অবাক হয়ে আবার ছবিটির দিকে তাকাল আনন্দ। এরপর মেয়েটির দিকে। কী বলবে খুঁজে পায় না—‘কিছু মনে না করলে আপনার নামটা জানতে পারি?’ অস্বস্তি নিয়ে প্রশ্ন করল আনন্দ।

—আপনি আসলেই ছবির ব্যাপারে অনেক কাঁচা, চিত্রের নিচে চিত্রকরের নাম দেওয়া থাকে।

উত্তরটা শুনে একটু অপ্রস্তুত হলো।

—মেঘ, আমার নাম মেঘ।

—কোথাও বসা যায় কি, এভাবে দাঁড়িয়ে কথা বলতে বিরক্ত লাগছে।

—হ্যাঁ, চলুন চা খেয়ে আসা যাক।

রাত যে কখন বাড়তে শুরু করেছে দুজনের কেউ-ই খেয়াল করেনি। চা হাতে নিয়ে ছবির সেই মেয়েটির মতো তারাও বসে গল্প করছে। কেউ জানে না সেই গল্প কবে ফুরোবে।

অমিয় রহমান

মিরপুর-১২, ঢাকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা