kalerkantho

রবিবার। ১০ নভেম্বর ২০১৯। ২৫ কার্তিক ১৪২৬। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বিশ্বমঞ্চে আমরা

নিউ ইয়র্ক ফ্যাশন উইকে কনা আলম

নিউ ইয়র্ক ফ্যাশন উইক মানেই ফ্যাশন ডিজাইনার ও মডেলদের মিলন মেলা। সামনের বছরের ফ্যাশন ধারার আগাম দেখা মেলে এই উৎসবে। আমেরিকার নিউ ইয়র্কে এবারের আসর বসেছিল ৩ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর। ওমেন্স ওয়ার্ল্ডের কনা আলম যোগ দিয়েছিলেন তাতে। সেই গল্পই বলছেন প্রীতি প্রাপ্তি

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নিউ ইয়র্ক ফ্যাশন উইকে কনা আলম

নিউ ইয়র্ক ফ্যাশন উইকে মডেলদের সঙ্গে কনা আলম (বাঁ থেকে তৃতীয়)

আসছে ২০২০ সাল। বছরটির বসন্ত ও গ্রীষ্মকালীন পোশাকের পসরা নিয়ে হাজির বিশ্বের নামকরা ফ্যাশন ডিজাইনার ও মেকআপ আর্টিস্টরা। উৎসবের নাম নিউ ইয়র্ক ফ্যাশন উইক। উৎসবে কনা আলমও হাজির ওমেন্স ওয়ার্ল্ডের কসমেটিকস ব্র্যান্ড ‘কনা বাই ফারনাজ আলম’ নিয়ে। নিউ ইয়র্ক ফ্যাশন উইকে এটাই বাংলাদেশের প্রথম কোনো মেকআপ ব্র্যান্ড।

 

খবর পেলেন

ফ্যাশন উইক শুরুর মাত্র এক সপ্তাহ আগে কনা আলম জানতে পারেন তাঁদের কসমেটিকস ব্র্যান্ড ‘কনা বাই ফারনাজ আলম’ উৎসবে জায়গা করে নিয়েছে। বলছিলেন, ‘চমকে ওঠার মতোই খবর ছিল। ভাবিওনি যে  বড় একটি গৌরবের খবর অপেক্ষা করছে। সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যাই।’

 

ঘটনা ঘটেছিল দুই বছর আগেই

দুই বছর আগে ওমেন্স ওয়ার্ল্ড ‘কনা বাই ফারনাজ আলম’ নিয়ে লন্ডনের একটি মেকআপ-বিষয়ক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিল। তাতে লিপস্টিক, ফাউন্ডেশন, হাইলাইটার আর আই শ্যাডো প্লেট দেখানো হয়েছিল। কনা আলম বলছিলেন, ‘লন্ডনের বিখ্যাত সব লাইফস্টাইল সাংবাদিক, মেকআপ আর্টিস্ট ও মডেল সে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বাঘা বাঘা ইন্টারন্যাশনাল ব্র্যান্ডের মধ্যেও আমাদেরটি নজর কাড়ে। সাংবাদিকরা পরে এ বিষয়ে লিখেও ছিলেন। আয়োজকরা বলেছিলেন, ‘আরো বড় প্ল্যাটফর্মে তুলে ধরবেন আমাদের মেকআপ ব্র্যান্ড। তখন ভাবিওনি যে এটা নিউ ইয়র্ক ফ্যাশন উইকের মতো মেগা ইভেন্টে দেখানোর সুযোগ পাব।’

ফ্যাশন উইকের দিনগুলো

‘ফ্যাশন উইকের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন মানে ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর আমাদের দুটি কিউ ছিল। দুই দিনে দুটি থিমে আমাদের মেকআপ ব্যবহার করা হয়। একদিন শরতের সাজে আমাদের মেকআপ নিয়ে র‌্যাম্পে হাঁটেন মডেলরা। পরের দিন শীতের সাজে। মোট ৫৩ জন নারী মডেলকে আমাদের মেকআপ দিয়ে সাজিয়েছিলাম। বুঝতেই পারছেন এত বড় ফ্যাশন উইকে কোন মাপের মডেলরা সুযোগ পান। প্রত্যেক মডেল যে যার জায়গা থেকে সেরা। অসাধারণ তাদের উপস্থাপনভঙ্গি। আফ্রিকা আর ইউরোপের দেশগুলো থেকেও মডেলরা এসেছিলেন। তাঁরা প্রত্যেকেই আমাদের মেকআপের প্রশংসা করেছেন। আমার কিউয়ের শো স্টপার ছিলেন মিস ইউনিভার্স ডেমি লেই নেল পিটার্স। তাঁর মুখে একটি তুলনা শুনে খুবই অনুপ্রাণিত হয়েছি। ডেমি বলেছেন, আপনার পণ্যের সঙ্গে আমি ববি ব্রাউনের (বিশ্বখ্যাত মেকআপ ব্র্যান্ড) মিল পাই। এ ছাড়া আয়োজকসহ উপস্থিত অতিথিরাও অনেক উৎসাহ যুগিয়েছেন। তাই নতুন উদ্যমে কাজ করার সাহস পাচ্ছি। সম্মানিত বোধ করছি ম্যাক, লরিয়েল, ববি ব্রাউন, ক্লিনিকের পাশাপাশি বিশ্ব দরবারে আমাদের দেশি পণ্য নিয়ে আসতে পেরে।’

 

ভিক্টোরিয়া বেকহামের সঙ্গে

যাঁর নাম প্রথমেই করতে হয়, তিনি হলেন ভিক্টোরিয়া বেকহাম। ভিক্টোরিয়ার করা পোশাকের সঙ্গে কনা আলমের মেকআপ ব্যবহার করা হয়েছে। ভিক্টোরিয়ার কালেকশন নিয়ে উপস্থিত সবারই আগ্রহ ছিল। এ সুযোগে কনার ফ্যাশন ব্র্যান্ডটিও সবার নজরে পড়েছে। কনা আলম বলছিলেন, ‘ভিক্টোরিয়া দারুণ একজন মানুষ। কথা-বার্তা, উঠাবসা, পোশাক-পরিচ্ছদ আর ভাবনায়ও তিনি আলাদা মানুষ। একই সঙ্গে খুব ভদ্র আর সদাচারী। প্রথম পরিচয়েই আমাকে আপন করে নেন। ভিক্টোরিয়া আমাদের মেকআপ ব্র্যান্ড দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। শো শেষে আমরা একসঙ্গেই স্টেজে উঠেছিলাম।’

 

অন্যদের কাজ

অন্যদের কাজ সেভাবে দেখার সুযোগ পাননি কনা আলম। বলছিলেন, ‘আসলে ইভেন্টটি খুবই নিয়ন্ত্রিত। ওখানে নিয়মই হলো নিজের কাজ হয়ে গেলে কেউ আর ভেন্যুতে থাকতে পারবে না। তা ছাড়া নিজের কাজ নিয়ে এত ব্যস্ত ছিলাম যে অন্যদেরটি দেখার সুযোগ সেভাবে মেলেনি।’

 

ফারাক যেমন

কনা আলম দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছেন। সেখানকার ফ্যাশন শোয়ের সঙ্গে আমাদের কী কী পার্থক্য রয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেক পার্থক্য। প্রথমত ওখানকার মডেলরা খুবই পেশাদার। তারা নিজেকে নয়, পণ্যটিকে উপস্থাপন করার দিকে বেশি আগ্রহী। খুবই কম মেকআপ তারা ব্যবহার করে। ঠোঁটে গাঢ় লিপস্টিক পরে না। আইল্যাশ বা কাজল ব্যবহার করে না। আই শ্যাডোও হালকা রঙের। হেয়ার স্টাইলের বেলায়ও আয়রন করেই ছেড়ে দেয়। জুতার ক্ষেত্রে হাই হিলে তারা কমফোর্টেবল। সেখানে মেকআপ রুম একেবারে শান্ত। যে যার মতো কাজ করছে। খুবই গোছানো পরিবেশ। পোশাকে কোনো ভারিক্কি ভাব নেই। তাই সহজেই একজন পোশাক বদলে স্টেজে যেতে পারে। আমাদের সঙ্গে রানওয়ের ডিজাইন আর লাইটিংয়ে বেশ তফাত। প্রত্যেক দর্শক যাতে সমানভাবে দেখতে পায় সেভাবে মঞ্চ প্রস্তুত হয়। আর শোয়ের সময় পুরো ঘর অন্ধকার থাকে। শুধু মডেলের ওপর ফোকাস লাইট থাকে। মিউজিকও খুব লাউড নয়। আমাদের দেশে এই ব্যাপারগুলো অনেকটাই উল্টো। এগুলো ভবিষ্যতে আমার শোতে কাজে লাগাব।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা