kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

এটাও প্রেম

তিনি বৃক্ষপ্রেমী

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তিনি বৃক্ষপ্রেমী

সেলিম শাহ নাম তাঁর। বয়স পঞ্চাশের বেশি। ফলদ বৃক্ষ লাগিয়ে চলেছেন ১৭ বছর ধরে। তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন এম আর মাসুদ

যশোর সদর উপজেলার দেয়ারা ইউনিয়নের তেঘরিয়া গ্রামের মৃত আবদুল আজিজ সরকারের ছেলে সেলিম। দুই সন্তানের মধ্যে মেয়ে মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার্থী আর ছেলে দশম শ্রেণিতে পড়ে। যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের নতুনহাট বাজার লেভেলক্রসিংয়ের পাশে ভুসিমালের ব্যবসা তাঁর। তবে বেশির ভাগ সময় রাস্তায় রাস্তায় ঘোরেন গাছ পরিচর্যার জন্য।

শুরুর দিন

২০০২ সালে সেলিম শাহ ৯০টি আমগাছ লাগানোর মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ শুরু করেন। সে সময় তিনি নতুনহাট বাজার এলাকার রাস্তায় চারাগুলো রোপণ করেন। এর পর থেকে প্রতিবছরই প্রায় ২০ হাজার টাকার ফলদ বৃক্ষ তিনি রোপণ করেন রাস্তার দুই ধারে বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করে গাছ লাগানো ও পরিচর্যার অনুমতি নিয়েছেন।

 

যেসব স্থানে গাছ লাগিয়েছেন

যশোর সদরের নতুনহাট বাজার, বাজে দুর্গাপুর বাজার, বাজে দুর্গা মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাজে দুর্গাপুর রাস্তা, এড়েন্দা বাজার, এড়েন্দা রাস্তা, নারাঙ্গালি বাজার, নারাঙ্গালি রাস্তা, হালসা বাজার ও রাস্তা, নতুনহাট-ডুমদিয়া রাস্তা, তেঘরিয়া-ধোপাখোলা রাস্তা, ঝিকরগাছা উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রাস্তা, যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের নতুনহাট-লাউজানি ও গাজীর দরগাহ ইয়াতিম কমপ্লেক্সে গাছ লাগিয়েছেন। তাঁর রোপণ করা ফলদ বৃক্ষের মধ্যে আম, কাঁঠাল, বেল ও বিদেশি গাবগাছ আছে। নতুনহাট বাজার থেকে গাজীর দরগাহ ফিলিং স্টেশন পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে শতাধিক বেলগাছও লাগিয়েছেন।

 

বৃক্ষ নিয়ে তিনি যা বলেন

চৈত্র মাসে প্রতিকূল আবহাওয়ায় শুধু ফলদ বৃক্ষেই পাতা থাকে। তখন চরম আবহাওয়া থেকে জীবকুলকে রক্ষা করে এই ফলদ বৃক্ষই। তাই আমি ফলদ বৃক্ষের প্রতি দুর্বল। আমি যেসব আমের চারা রোপণ করি সেগুলো আঁটির গাছ, কলম নয়। আঁটির গাছ অনেক বড় এবং এর পাতা বেশি সবুজ; আম লাল হয়।

শুধু রোপণ করেই শেষ করি না, বেড়া দেওয়া, গোবর লেপনসহ গাছের ক্ষতি ঠেকাতে সব রকম ব্যবস্থা নিই। আমি বাকি জীবনও এই কাজেই ব্যয় করতে চাই।

 

তাঁকে নিয়ে

যশোর সদরের নতুনহাট পাবলিক কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র রাব্বি হোসেন বৃক্ষপ্রেমিক হিসেবে সেলিমকে চেনেন। পাঁচ বছর আগে সেলিম শাহ বাজে দুর্গাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যখন আমগাছের চারা রোপণ করতে গিয়েছিলেন, তখন থেকে তাঁর চেনা। ইউপি মেম্বার মোহাম্মদ মোনকির জানান, সেলিম শাহ যে কাজটি করছেন, তা একটি মহৎ কাজ। আমাদের সবার উচিত তাঁকে সহযোগিতা করা। যশোর সদরের দেয়াড়া মডেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান সেলিমের বৃক্ষরোপণকে ইহকাল-পরকালের জন্য মঙ্গলকাজ বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, তাঁকে সবার সহযোগিতা করা উচিত।

ছবি : লেখক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা