kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ফেসবুক থেকে পাওয়া

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



ফেসবুক থেকে পাওয়া

যখন বাপ হবি, তখন বুঝবি

ভার্সিটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হলে বাবা খুব খুশি মনে মাকে বলতেন, ‘আমার খুব ভালো লাগছে। ছেলে এবার বহুদিন আমার কাছে থাকবে।’ অসুস্থ শরীর নিয়েও গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করতেন, ছেলে তাঁর রাজশাহী না, যেন রাশিয়া থেকে ফিরছে। রাজশাহী থাকলে প্রায়ই দুপুরে মাকে বলতেন, ‘আমার ছেলেকে একটু এনে দাও। একসঙ্গে ভাত খাই।’ বাসায় থাকলে সকালে উঠে রুমে গিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরতেন। তাঁর এমন শিশুসুলভ আচরণে আমি অবাক হয়ে যেতাম। একদিন তাঁকে বলেছিলাম, ‘তুমি এমন করো কেন?’ উত্তরে তিনি বললেন, ‘যখন বাপ হবি, তখন বুঝবি।’

হ্যাঁ, আমি বুঝেছি। আমার ছেলের কানে আজান দেওয়ার সময় প্রথমবার। তার পর প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে।

—সায়েক সজীব

প্রভাষক (ইংরেজি)

এনডিএমএসসি, গাজীপুর।

 

আমাদের বিল্লি বেবি

বাসায় বিড়াল পাললে হাঁপানি-ডিপথেরিয়াসহ আরো কী কী সব রোগবালাই নাকি হয়। হোক। তবু আমরা বাড়িতে একটি বিড়ালছানা পুষতে চাই। তাই একদিন নানুর রাগ রাগ চোখ আর মামির যাবতীয় বকা উপেক্ষা করে রাস্তা থেকে একটি অসম্ভব সুন্দর পুঁচকে বিড়ালছানা তুলে আনলাম। চুপি চুপি তাকে জুতার বাক্সে ভরে আমরা হুলুস্থুল কাণ্ড শুরু করে দিয়েছিলাম। মনে পড়ে, ওর ঘুমানোর জন্য যে জুতার বাক্সটি ঠিক করেছিলাম, আম্মু সেটাতে মোটা কাপড় বিছিয়ে দিয়েছিল। ওর জন্য একটি দুধের বাটি ঠিক করে দিল। সেদিন আমরা একটি জরুরি পারিবারিক বৈঠকের ডাক দিই। সে বৈঠকে বাড়ির নতুন চার পেয়ে সদস্যের নামকরণ করি। আমরা সবাই একটি করে নাম উপস্থাপন করি এবং মজার ব্যাপার হচ্ছে, সবার সম্মতিতে আমার নামটিই গ্রহণ করা হয়। বিড়ালছানার নাম হয় ‘ডোনাট’।

ঠিক সেদিন থেকে ডোনাট আমাদের বাসার একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। আদুরে আমুদে স্বভাবের ডোনাটের সবচেয়ে পেয়ারের মানুষ আমার আম্মু। তাই দিনের বেশির ভাগ সময় আম্মুর আশপাশে ঘুরঘুর করতে থাকে সে। আম্মু সবজি কাটতে থাকলে চুপ করে পাশে বসে সবজি কাটা দেখতে থাকে। বিকেল ডোনাটের বড় পছন্দের সময়। বিকেলে ও আম্মুর সঙ্গে ছাদে গিয়ে আম্মুর ছাদ-বাগানে খেলা করে। টবগুলোর পেছনে লুকিয়ে আম্মুর সঙ্গে লুকোচুরি খেলতে চায়। পোকা দেখলে ধরার জন্য আকুল হয়ে থাকে। রাত হলে নিজ দায়িত্বে অধিকার খাটিয়ে আম্মুর কোল ঘেঁষে ঘুমিয়ে যায়। 

ডোনাট দু-একবার খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। আম্মুর সে কয় দিনের অস্থিরতা দেখলে যে কেউ বুঝতে পারবে ডোনাটকে সে কতটা ভালোবাসে! ওকে ডাক্তারের কাছে নেওয়ার জন্য তখন আম্মু তার স্কুল থেকে ছুটি নিয়েছিল এই বলে যে আম্মুর ছোট ছেলের অসুখ! সে কয়দিন আম্মু ওর জন্য চিন্তা করে, কান্না করে হয়রান হয়ে গিয়েছিল!

ছোট্ট ডোনাট এখন একটুখানি বড় হয়েছে। প্রায়ই সে বাসা থেকে পালিয়ে যায় এবং কিছুদিনের জন্য নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। এলাকার এক বুড়ো ছেলে বিড়ালের সঙ্গে তার কঠিন ঝগড়া। সুযোগ পেলেই দুজন দুনিয়া জানান দিয়ে ইয়া ঢিশুম ধরনের মারামারি করে আর আম্মু ভয়ে তটস্থ হয়ে থাকে! ধুন্ধুমার মারামারি শেষে কাহিল হয়ে আবার বাসায় ফিরে এসে আম্মুকে আদর করে।

আমার ভাই-বোনদের বদ্ধমূল ধারণা, আম্মু আমাদের চেয়ে ডোনাটকে বেশি স্নেহ করে। এই বলে আমরা আম্মুর সঙ্গে মাঝেমাঝে ঠাট্টা-অভিমানও করি! আসলে কি বলব, ডোনাট এমনই এক ‘বিল্লি বেবি’ যে সবার কাছ থেকে আদর কেড়ে নিতে জানে।

জুয়াইরিয়া জাহরা হক

মিরপুর, ঢাকা।

 

প্রিয়

আমাকে প্রেম শিখিয়েছিলে তুমি, জুগিয়েছিলে কাছে যাওয়ার অফুরন্ত সাহস, দেখিয়েছিলে রঙিন স্বপ্ন। তাতে আমি হারিয়েছিলাম তোমাতে। জীবনে প্রথম এবং একমাত্র চিঠি লিখেছিলাম তোমারই উদ্দেশ্যে, কিন্তু তা পৌঁছানো সম্ভব হয়নি তোমার ঠিকানায়। সে তো ছিল অপরিপক্ব বয়সের কথা। তোমাতে ডুবতে ডুবতে নিজের অস্তিত্ব বিলীন করে ফেলেছিলাম। কিন্তু দীর্ঘ বিরতির পর যখন দুদিনের জন্য দেখা পাই, তখন তোমাকে বড্ড অচেনা লাগে। বিদায় বেলায় যখন ‘ভালো থাকিস’ বলছিলে, তখন মনে হলো তুমি আর আমার নেই! ইচ্ছা ছিল তোমাকে খুব কাছে পাওয়ার!  যদিও না পাই তবু সারা জীবন চাইব! ভালোবাসি আজও, সারা জীবনই বাসব! তবে রবীন্দ্রনাথের যে কথাগুলো স্মরণ করিয়ে দিতে চাই—‘যদি আরো কারে ভালোবাসো, যদি আর নাহি ফিরে আসো, তবে তুমি যাহা চাও তাই যেন পাও, আমি যত দুঃখ পাই গো!’

—মুহাম্মদ আবু তালহা

স্নাতক তৃতীয় বর্ষ

লোকপ্রশাসন বিভাগ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।

 

গণপিটুনির ভয়ে

ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিলে হৈচৈ হয়, এভারেস্ট জয় করলে মিডিয়া প্রচার করে। আজ যে আমি বর্তমান বাংলাদেশে এত বড় একটা দুঃসাহসিক কাজ করলাম, সেটা নিয়ে হৈ হৈ রৈ রৈ হলো না! খুলেই বলি। সাড়ে চার বছরের ভাগ্নিকে নিয়ে রাস্তায় গেলাম। চারদিকে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি চলছে। চারদিক মানে শুধু বাংলাদেশে। এসব কর্ম বাংলাদেশেই বেশি! সন্তানের মাকে পর্যন্ত গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। মাকেই যেখানে মারা হয়েছে, আমি তো মামা!

যা হোক, বাইরে গিয়ে প্রথমেই ভাগ্নিকে চিপস আর চকো চকো চকোলেট কিনে দিলাম। কাঁদলে তো সমস্যা। কান্না শুরু করলে লোকজন এসে যদি বলে এটা তোমার বাবা? ভাগ্নি বলবে ‘না’। শুরু হবে মাইর। অথচ কথা তো সত্য। আমি তো মামা। কিন্তু বাংলাদেশে কিছু একটা শুরু হলে সেটা সিরিজ আকারে চলে।

পিচ্চিকে ঠিকঠাক রাখাই মূল কাজ। কাঁদলে মুশকিল। ভাগ্নি বলল, ‘ডেকচির আইসক্রিম খাব।’

ডেকচিতে নতুন এক ধরনের আইসক্রিম বের হয়েছে। বলা হয় দুধের। আসলে ক ফোঁটা দুধ আছে বলা মুশকিল।

বললাম আইসক্রিম খেলে ঠাণ্ডা লাগবে, মা মাইর দেবে। সে বলে, মা জানবে না, বাইরে থেকে খেয়ে বাসায় যাব!

বুঝলাম আমার কপালে খারাপ কিছু অপেক্ষা করছে! এখন আইসক্রিমের জন্য যদি কান্না শুরু করে, তখন গণপিটুনির হাত থেকে আমাকে বাঁচাবে কে? যে দেশে একজন মাকেই প্রকাশ্যে পিটিয়ে মারা হয় ছেলেধরা সন্দেহে, সে দেশে সবাই-ই তো ঝুঁকির মধ্যে!

যা হোক, নিরাপদে বাসায় এলাম। গণপিটুনির ঝক্কিঝামেলায় পড়তে হলো না। বর্তমান বাংলাদেশে এটা তো এক বিশাল অর্জন। আহা অর্জন!

—সঞ্জয় দেবনাথ

নাজিরহাট, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা