kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

অদম্য মানুষ

আফজাল এগিয়ে যাচ্ছেন

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আফজাল এগিয়ে যাচ্ছেন

ইচ্ছাশক্তি সম্বল করে আফজাল পড়াশোনাও করেছেন

শৈশবেই আফজাল পিতাকে হারান। মানুষটির একটি হাত নেই, অন্যটিও বিকল। ইচ্ছাশক্তি সম্বল করে পড়াশোনা করেছেন। শেষে ফিরে এসেছেন গ্রামে। কাজকর্ম করে জীবিকা উপার্জন করছেন। মাহফুজ শাকিল দেখা করে এসেছেন তাঁর সঙ্গে

 

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের পাট্টাই গ্রামে বাড়ি আফজালের। জন্ম ১৯৮৫ সালের ১ মার্চ। তাঁর পিতার নাম কারি আব্দুল লতিফ, মায়ের নাম মোসাম্মৎ ফজিরুন বেগম। পরিবারের চার ভাইয়ের মধ্যে আফজাল তৃতীয়। তাঁর দুই বোনও রয়েছে। সিলেটের একটি মাদরাসা থেকে তিনি টাইটেল পাস করেছেন। প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে অবহেলার শিকার হয়েছিলেন, কিন্তু থেমে যাননি। পড়াশোনা শেষে মায়ের অনুরোধে এলাকায় এসে ওষুধের দোকান দেন। 

আফজালের পড়ালেখা

আফজাল স্থানীয় জামেয়া ইসলামিয়া কর্মধা টাইটেল মাদরাসায় পড়েছেন দশম শ্রেণি পর্যন্ত। পরে তাঁর মা ফজিরুন বেগমের প্রচেষ্টায় সিলেট খাস্তগীর দারুস সালাম মাদরাসায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হন। এরপর সিলেটের বিশ্বনাথের জামেয়া ইসলামিয়া মাদানিয়া মাদরাসা থেকে টাইটেল (মাস্টার্স) পাস করেন। পড়াশোনা করার সময় কয়েকটি বাড়িতে লজিং থাকার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু প্রতিবন্ধী বলে সুযোগ মেলেনি। একপর্যায়ে বিশ্বনাথের এক বাড়িতে চার মাসের জন্য একটি অস্থায়ী বন্দোবস্ত হয়। শর্ত ছিল চার মাসের মধ্যে আরেকটি লজিং খুঁজে নেবেন। কিন্তু বাড়ির লোক তাঁর আচার-আচরণে এতটাই খুশি হয়ে ওঠে যে পুরো আট বছর সেখানেই থাকার সুযোগ হয়। তত দিনে তাঁর টাইটেল পড়াও শেষ। এর পরও লজিংবাড়ির মালিক তাঁকে রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু কম্পিউটার ট্রেনিং ও ওষুধের দোকান চালানোর প্রশিক্ষণ নিতে তাঁকে সে বাড়ি ছাড়তে হয়।

 

আফজালের ব্যবসা

পড়াশোনা শেষ করে এলাকায় ফিরে আসেন। ২০১০ সালে মাত্র ২৩ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে স্থানীয় কাঁঠালতলী বাজারে ওষুধের দোকান দেন আফজাল। পাশাপাশি বিকাশের এজেন্ট হন এবং মোবাইল রিচার্জের কাজ করতে থাকেন। এখন তাঁর পুঁজি তিন লাখ টাকা। প্রতি মাসে প্রায় ১৫ হাজার টাকা আয় হয়।

 

আফজালের কাজকর্ম

সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত আফজালের ফার্মেসি খোলা থাকে। তবে গভীর রাতে ডাকলেও তিনি সেবা দিতে বাড়ি বাড়ি ছোটেন। রক্তচাপ মাপার ডিজিটাল মেশিন আছে। প্রাথমিক চিকিত্সা বিষয়ে তাঁর প্রশিক্ষণ নেওয়া আছে।

 

আফজাল বলছিলেন

শৈশবে বাবাকে হারাই। পরে মায়ের প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছি। প্রতিবন্ধী হওয়ায় বিভিন্ন সময় অবহেলার পাত্রে পরিণত হয়েছি। কিন্তু চেষ্টা থেকে সরে দাঁড়াইনি। দুই বছর সিলেটের জিন্দাবাজারে প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছি।

 

পরিচিতজনরা বললেন

সমাজকর্মী ও ব্যবসায়ী হাজি মারুফ আহমেদ বলেন, আফজাল প্রতিবন্ধী হয়েও সমাজের মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর ব্যবসাকে আমরা সেবা হিসেবে দেখছি।

স্থানীয় লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক গোলাপ মিয়া বলেন, প্রতিবন্ধী হওয়া মানেই সমাজের বোঝা নয়। তারাও সমাজের সম্পদ। আফজাল নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে এলাকায় আজ উদাহরণ স্থাপন করেছেন। একটি হাত দিয়েই তিনি সাধারণ মানুষের মতো কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।

ছবি : লেখক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা