kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৫ রবিউস সানি          

ফেসবুক থেকে পাওয়া

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ফেসবুক থেকে পাওয়া

সেই মুহূর্ত ভোলা অসম্ভব

মুক্তমঞ্চের দর্শকসারিতে বসে গেলাম। মুগ্ধ হয়ে শ্রুতিনাট্য দেবদাস শুনছি। শেষ হলে উৎফুল্ল দর্শক আবৃত্তিশিল্পীদের দিকে ছুটে যাচ্ছে, প্রশংসা করছে, অভিনন্দন জানাচ্ছে। আমি একা বসেছিলাম। পাশের দর্শকরা চলে গেছে। কিন্তু আমি উঠিনি। ধুতি পরা ছেলেটি ছুটে এসে জিজ্ঞেস করল, ‘কেমন লাগল?’

ছেলেটা দেবদাসের চরিত্রে কণ্ঠ দিয়েছে। সবাই তাকে খুঁজছে। অথচ আমার ভালোলাগাটা জানতে পারলেই যেন সে সুখী হবে। তাই আমার কাছে ছুটে এসেছে। আমার মতো নির্গুণ, নিষ্কর্মা, অলস কারো জন্য এ ঘটনা অনেক বড়! ভাবটাকে ভাষায় তুলতে না পারার ব্যর্থতা মাথা পেতে নিলেও সেদিনের সেই মুহূর্ত ভোলা সম্ভব নয়। রবীন্দ্রনাথের ‘একরাত্রি’ গল্পের মতো সন্ধ্যার এমন একটি মুহূর্ত আমার জীবনের চরম সার্থকতা।

—মুবাশ্বির আলম

নওগাঁ সরকারি কলেজ, নওগাঁ

 

বিষণ্ন ঈদ

ছোটবেলায় আমাদের আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ ছিল। আমরা ভাই-বোনেরা প্রায়ই ঈদ করতাম পুরনো কাপড়, পুরনো জুতা দিয়ে। এ জন্য আমরা খুব মনঃকষ্টে ভুগতাম। অভিমান করতাম, আমরা ঈদগাহে যাব না, আমাদের নতুন কাপড় নেই। তখন আমরা ভাই-বোনেরা একেকজন ভিন্ন জায়গায় বসে বসে কাঁদতাম।

আম্মা ঘাম মুছতে মুছতে রান্নাঘর থেকে বের হতেন। আমাদের বুকে জড়িয়ে এটা-সেটা বলে বোঝানোর চেষ্টা করতেন। আব্বা কিছু বলতেন না, কিন্তু ভেতরে ভেতরে মনে হয় খুব পুড়তেন নিজের অক্ষমতার জন্য। আম্মা আমাদের সাজিয়ে দিতেন। আমরা মুখ ভার করে ঈদগাহে যেতাম। ঈদগাহে গিয়ে আমাদের আরো বেশি মন খারাপ হয়ে যেত পাড়ার ছেলে-মেয়েদের রংবেরঙের জামাকাপড় দেখে। আমরা ঈদগাহেই অনেক সময় ভাই-বোনেরা মিলে কান্নার আসর জমাতাম। তবে ঈদে একটা বিষয় আমাদের দারুণ আনন্দ দিত। তা হলো—দাদার  দেওয়া কেয়া সাবান।

ঈদ এলেই দাদা আমাদের জন্য ছোট ছোট কেয়া সাবান আনতেন। কেয়া সাবান দিয়ে যখন গোসল করতাম, তখন সাবানের ঘ্রাণ দারুণ লাগত। এখনো যখন কেয়া সাবানের ঘ্রাণ নাকে আসে, শৈশবের ঈদের স্মৃতি আর দাদার কথা খুব মনে পড়ে। দাদা আজ বেঁচে নেই। সেই ঈদ নেই আগের মতো।

মো. জুনাইদ

কানাইঘাট, সিলেট।

 

তুমি আরেকবার আসিয়া

নিতু এক প্রকার রাগ করেই বলল—এসব কী পরেছ?

—কোন সব?

—এই যে রংচটা একটা প্যান্ট।

—গতকাল পকেটে কলমের কালি পড়ে একটা প্যান্ট নষ্ট হয়ে গেছে, বাকি যে দুইটা আছে একটারও কোমর ঠিকমতো হয় না। মটু হয়ে গেছি তো।

—দুটো প্যান্ট কিনে নিলেই তো পারো।

—কিনতে গিয়েছিলাম। ঈদ বলে আকাশছোঁয়া দাম চায়। ঈদের পর কিনব।

নিতু কথাটা শুনে ফ্যাল ফ্যাল করে আমার দিকে তাকিয়ে থাকল। নিতুর এই তাকানোটা আমার সব থেকে ভালো লাগে। কেমন যেন মায়া ভরা চাহনি। সব মেয়ের চোখেই নাকি মায়া থাকে, তবে নিতুর হয়তো কিছুটা বেশি। নিতু আগামী মাসে আমেরিকা চলে যাবে। মা-বাবা সবাই সেখানে। তাই শেষবারের মতো দেখা করতে এসেছে।

হঠাৎ নীরবতা ভেঙে নিতু বলে উঠল, ‘এতগুলো বছর প্রেম করেও তোমাকে আজও চিনতে পারলাম না। কী চাও-না চাও, কিছুই বুঝি না। আগামী মাসে আমি দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছি, তুমি যদি নিজের খেয়াল না রাখতে পারো তাহলে আমি কিন্তু আর দেশে ফিরব না।’

কথা শেষ করেই নিতু হাঁটতে শুরু করল। জানি ও কাঁদছিল, তবু কান্না দেখাতে চায়নি আমাকে। আমি আর তার পিছু নিলাম না। মেয়েদের কান্নায় নাকি জাদু থাকে, এই জাদু আমাকে আবার পেয়ে বসলে নিতুর স্বপ্ন আর পূরণই হবে না।

২.

নিতু চলে গেছে আজ প্রায় চার বছর। এখন অবশ্য আমি নিজের খেয়াল নিজেই রাখছি। তবে নিতু আর ফিরে আসেনি। মাঝেমধ্যে ইচ্ছা হয়, আবার বেখেয়াল হয়ে যাই। নিতু আবার ফিরে আসুক। আবার আমার অগোছালো জীবনটাকে গুছিয়ে দিয়ে হুমকি দিক—এইবার যদি নিজের খেয়াল ঠিকমতো না রাখো তাহলে কিন্তু আমি আর আসব না।

আল সানি

সাউথইস্ট ইউনির্ভাসিটি

 

ভালোবাসি বলা হলো না

ক্লাসে বিরক্তিকর লেকচারগুলো থেকে একটুখানি নিস্তার মিলত ফেসবুকে ঢুকলে। সেখান থেকেই কথা বলা শুরু। অথচ দুজনই একই ক্লাসের। তবু সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার মতো সাহস তখনো হয়নি। প্রথমে চোখাচোখি, এক কথা, দুই কথা, একসঙ্গে চাঁদ দেখা, তারপর কবিতার মাধ্যমে বলার চেষ্টা করেছি অনেকবার। কিন্তু কখনো ভাবিনি—তুমি কিভাবে শুনতে চেয়েছ। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে অনেক অনুষ্ঠানে তোমাকে দেখেছি। প্রতিবারই কোনো না কোনো ছুতায় কথা বলার সুযোগ খুঁজেছি। কিন্তু বলা হয়ে ওঠেনি। নাটক আসলে মঞ্চেই ভালো লাগে। নাটকের মতো বাস্তবে যদি কেউ প্রেমের প্রস্তাব দেয়, তাহলে অনেক বিশ্রী দেখাবে—নিজের কাছে এমনটাই মনে হতো। এভাবেই ধীরে ধীরে দূরে সরে আসি।

তারপর অনেক সময় কেটে গেছে। একসময় দেখি তুমি নিজেই প্রপোজ করলে। মন বলছিল ‘হ্যাঁ’ বলি। কিন্তু দেহ আর মন কি এক সরল রেখায় চলে? মুখ থেকে ‘না’ বের হলো। তারপর দুজনই চুপ করে গেলাম। সেদিনের পর থেকে তোমার মেসেজ আসাও কমে গেল, আমিও আর সাহস করে পা বাড়ালাম না। ছুটি শেষ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট দিয়ে ঢুকতেই দেখলাম তোমাকে রিকশা থেকে নামতে। ভাবলাম আজকে যে করেই হোক কিছু একটা সামনে সামনে বলব। কিন্তু পাশের সিট থেকে একটা ছেলে নামল আর তোমার হাতটা ধরে এগিয়ে চলে গেল। তাই আর বলা হলো না।

অমিয় রহমান

মিরপুর-১২, ঢাকা

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা