kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

সুখবর বাংলাদেশ

ফয়সালের স্বপ্ন যাত্রা

গিনেস বুকে সবচেয়ে বেশিবার দেশের নাম লেখাতে চাইছেন মাহমুদুল হাসান ফয়সাল। এরই মধ্যে তিনবার নাম তুলেও ফেলেছেন। মাগুরা থেকে লিখছেন শামীম খান

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফয়সালের স্বপ্ন যাত্রা

তিন বছর ধরে বাস্কেটবল ও ফুটবলের ফ্রিস্টাইলিং চর্চা করছেন ফয়সাল। গেল ১৫ আগস্ট মিলল আরেকটি স্বীকৃতি। ঘাড়ের ওপর একটি বাস্কেটবল এক মিনিটে ৩৪ বার ক্যাচ করতে পেরেছেন। একে বলা হয় নেক ক্যাচিং বাস্কেটবল। গিনেসের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় স্বীকৃতি তিনি পেয়েছিলেন এ বছরেরই শুরুর দিকে। দুই বাহুর মধ্যে মিনিটে ১৪৪ বার বাস্কেটবল ঘুরিয়ে তিনি বিশ্বরেকর্ড গড়েন। প্রথম রেকর্ডটি গড়েছিলেন ২০১৮ সালের শেষ দিকে। এক মিনিটে ১৩৪ বার দুই হাতের (আর্ম রোলিং) মধ্যে ফুটবল ঘোরাতে পেরেছিলেন।

 

ফয়সালের পরিচয়

মাগুরা সদর উপজেলার হাজিপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য সোহেল রানার ছেলে ফয়সাল। দুই ভাই-বোনের মধ্যে ফয়সাল সবার ছোট। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য বাবা ঢাকায় একটি প্রাইভেট কম্পানিতে চাকরি করেন বলে মা-বাবা ঢাকায়ই থাকেন। হাজিপুরের বাড়িতে একাই থাকেন ফয়সাল। মাগুরা ভোকেশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পাস করে ভর্তি হন মাগুরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে। মেকাট্রনিকস ট্রেড বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র তিনি। তাঁর ইচ্ছা আগামী দিনে গিনেস বুকে নতুন নতুন রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফ্রিস্টাইল ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরবেন।

 

শুরুর বেলা

ছেলেবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি ঝোঁক। ইচ্ছা ছিল ভালো ফুটবলার বা ভালো ক্রিকেটার হওয়া। একপর্যায়ে ২০১৭ সালে ইন্টারনেট থেকে বাস্কেটবল ও ফুটবলের ফ্রিস্টাইলিং বিষয়ে জানতে পারেন। সেই থেকে লেখাপড়ার পাশাপাশি বাড়ির আঙ্গিনা ও স্থানীয় মাঠে ফুটবল নিয়ে অনুশীলন করতে থাকেন। আয়ত্তে আনতে থাকেন নানা কলাকৌশল। দিনে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টার কঠোর অনুশীলন চালিয়ে যান। এক বছরের মাথায় ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে আসে প্রথম সাফল্য। এক মিনিটে একটি ফুটবল দুই বাহুর বেষ্টনীতে ১৩৪ বার ঘুরিয়ে গিনেসের পক্ষ থেকে বিশ্ব স্বীকৃতি পান। আগের রেকর্ডটি ছিল রাশিয়ার ডেভিড নামের একজনের। তিনি এক মিনিটে ১২৭ বার ফুটবল আর্ম রোল করে রেকর্ডটি গড়েছিলেন। পরে ফয়সাল বাস্কেটবলেও আর্ম রোলিং করে স্বীকৃতি আদায় করেন। দ্বিতীয়বার নাম লেখান গিনেস বুকে। এক মিনিটে ১৪৪ বার বাস্কেটবল ঘোরাতে পেরেছিলেন তিনি। এখানে আগের রেকর্ডটি ছিল ইংল্যান্ডের টম নামের একজনের। তিনি এক মিনিটে ১২১ বার আর্ম রোলিং করে গড়েছিলেন রেকর্ডটি। আর শেষ সুসংবাদটি পান ১৫ আগস্ট রাতে। ই-মেইল বার্তায় গিনেস কর্তৃপক্ষ তাঁকে নেক ক্যাচিংয়ে নতুন রেকর্ড গড়ার কৃতিত্ব দেন।

 

ফয়সালের প্রত্যাশা

খেলাধুলার আরো বিষয়ের মতো ফুটবল ও বাস্কেটবলের ফ্রিস্টাইলিংয়ে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ুক। তখন অনেকেই আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আরো স্বীকৃতি এনে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে। দেশে ফ্রিস্টাইলিংয়ের ওপর প্রতিযোগিতার আয়োজন করাও জরুরি। এ ছাড়া যারা এটিকে পেশা হিসেবে নিতে চায়, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোরও তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসা দরকার। ফয়সাল চান, ফ্রিস্টাইলিং ফুটবল ও বাস্কেটবলের যত ইভেন্ট আছে সবগুলোতে সাফল্য পেতে এবং গিনেস বুকে দেশের নাম সবচেয়ে বেশিবার লেখাতে।

ছবি : লেখক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা