kalerkantho

ফেসবুক থেকে পাওয়া

৩ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



ফেসবুক থেকে পাওয়া

হুমায়ূন আহমেদের বই পড়তে টয়লেটে

ছেলেবেলা থেকেই আমি বইয়ের পোকা। হুমায়ূন আহমেদের অন্ধ ভক্ত। মূলত হুমায়ূন আহমেদের কারণেই আমার বইপোকা হয়ে ওঠা। পাঠ্য বইয়ের জ্ঞান নিয়ে উদাসীন থাকলেও হুমায়ূন আহমেদের শিশু-কিশোর কিংবা ভূতের গল্পের বইয়ের প্রতি ছিল তীব্র আকর্ষণ। এমনিতেই আমি বেশ দুষ্টু আর লেখাপড়ায় অমনোযোগী ছিলাম। তার পরও কিভাবে যেন পরীক্ষার খাতায় মোটামুটি ভালো নম্বর পেয়ে যেতাম। এতে আমি নিজেও যেমন আশ্চর্য হতাম, তেমনি আব্বু-আম্মুও বিস্ময় প্রকাশ করতেন। যেন আরো ভালো নম্বর পেয়ে ক্লাসে প্রথম স্থান অধিকার করতে পারি, সে জন্য আম্মুর বকুনি আমাকে অতিষ্ঠ করে রাখত। পড়ার টেবিলে বসে ঠিকমতো লেখাপড়া করছি কি না আড়ালে লুকিয়ে তিনি দেখতেন।

আম্মুর কড়া নির্দেশ ছিল, বিকেলের অবসরে গল্পের বই আর সন্ধ্যার পর পাঠ্য বই ছাড়া আর অন্য কোনো বই পড়া নিষেধ। বিকেলে নিয়মিত খেলাধুলা করতাম আর প্রতিদিন রাতে একটা নির্দিষ্ট সময়ে টেলিভিশন দেখতাম। দিনের বেলা স্কুল ও কোচিং তো আছেই। তাই গল্পের বই পড়ার জন্য আমার কাছে আলাদা কোনো সময় ছিল না। সে জন্য পড়ার টেবিলে বসে প্রায়ই লুকিয়ে গল্পের বই পড়তাম। পাঠ্য বই বাদ দিয়ে গল্পের বই পড়ার অপরাধে আম্মুর কাছে বহুবার কান মলা খেয়েছি। তবু বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে রাতের বেলা গল্পের বইয়ের মাঝে ডুব দিতাম।

আমাদের বাসায় তখন রেওয়াজ ছিল, রাত সাড়ে ১০টার পর বিছানায় ঘুমাতে যাওয়া। আম্মু সবার রুমের লাইট অফ করে দিয়ে আসতেন। আমিও ঘুমানোর ভান করে বিছানায় শুয়ে থাকতাম। কিছু সময় পর উঠে দরজা লাগিয়ে লাইট জ্বালিয়ে গল্পের বই পড়া শুরু করে দিতাম। তবে আম্মুও ছিলেন অতন্দ্র প্রহরীর মতো। মাঝেমধ্যে ঘুম থেকে উঠে দেখতেন, আমার রুমে লাইট জ্বালানো কি না। দরজায় নক করে বলতেন, ‘গল্পের বই পড়া বন্ধ, লাইট অফ করে ঘুমাও।’ এভাবে কিছুদিন যাওয়ার পর আমাকে দরজা লাগিয়ে ঘুমাতে কড়াকড়িভাবে নিষেধ করা হলো। এবার তো পড়ে গেলাম বিপদে। তবে বিকল্প ভাবলাম। নিজের রুমে বিছানায় শুয়ে আরাম করে গল্পের বই পড়তে না পারলেও টয়লেটে ঢুকে দরজা লাগিয়ে গল্পের বই পড়া শুরু করলাম।

এভাবে কিছুদিন ভালোই যাচ্ছিল। টয়লেটের কমোডে বসে বেশ মজা করে হুমায়ূন আহমেদের গল্পের বই পড়ছি। একদিকে মশার কামড়, অন্যদিকে আম্মুর ভয়। তবু গল্পের বই পড়া থেমে নেই। তবে কথায় আছে, চোরের দশ দিন আর গৃহস্থের একদিন। বেশির ভাগ সময় গল্পের বই পড়ে হেসে ওঠার কারণেই আম্মুর কাছে ধরা পড়েছি। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। আম্মু কিছুদিন যাবত্ লক্ষ করছেন, রাতের বেলা টয়লেট থেকে চাপাস্বরে হাসির শব্দ আসছে। একদিন এই রহস্য উদ্ঘাটন করতে তিনি টয়লেটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আর আমি তখন হুমায়ূন আহমেদের ‘এলেবেলে’ পড়ছি। এই বই পড়লে না হেসে থাকা অসম্ভব। পড়তে পড়তে হঠাত্ হেসে উঠলাম। তখন দরজায় ধুমাধুম আওয়াজ আর আম্মু বলছেন, ‘এক্ষুনি দরজা খোল।’

জামার ভেতরে বইটা লুকিয়ে টয়লেট থেকে বের হলাম। আর মনে মনে আল্লাহ আল্লাহ করছি। টয়লেট থেকে বের হতেই আম্মু আমার চুলের মুঠি ধরে বললেন, ‘রাতে না ঘুমিয়ে টয়লেটে বসে গল্পের বই পড়া, আজকে দেখাচ্ছি মজা।’ তখন বই পড়ার কথা অস্বীকার করলাম। আম্মু আমার শরীর তল্লাশি করে বইটি পেয়ে যান। তারপর শক্ত মাইর দিলেন। পরের দিন বাসায় রাখা হুমায়ূন আহমেদের সব বই বস্তাবন্দি করে রেখে দিলেন। সেই মাইরের কথা আমার এখনো মনে পড়ে। আর তক্ষুনি প্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদের প্রতি ভালোবাসা আরো বেশি উথলে ওঠে। তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই; কিন্তু আমার মতো হুমায়ূনভক্তদের হূদয়ের বাঁ পাশে ঠিকই এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে বসে আছেন। তিনি ছিলেন আমার ছেলেবেলার মার্ক টোয়েন। তাঁর লেখা নির্মল আনন্দে ভরিয়ে দিয়েছিল আমার শৈশব।

—সৈয়দ আসাদুজ্জামান সুহান

 চৌধুরীপাড়া, মালিবাগ, ঢাকা।

 

কেন এমন করলে?

২০১২ সালের কথা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় তোমার সঙ্গে আমার পরিচয়। প্রথম দুই বছরের সম্পর্কটা বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ থাকলেও পরবর্তী সময়ে তোমার প্রবল ইচ্ছায় শুরু আমাদের একসঙ্গে পথচলা। তোমার সংস্পর্শে আমি ভালোবাসা শিখলাম। প্রথম দিকে ঠিকভাবে তোমার সঙ্গে কথা বলতে পারতাম না বলে কত বকুনিঝকুনিই না দিতে আমাকে। তুমি ঢাকায় আর আমি চট্টগ্রামে থাকতাম। দেখাটা আমাদের খুব কম হতো। প্রথম যে দিন নরসিংদীতে আমাদের দেখা হয়েছিল সেদিন লজ্জায় কাঁপছিলাম। লাল জামায় তোমাকে অনেক পছন্দ করতাম বলে প্রথম দেখায় লাল জামাটাই পরে এসেছিলে। লজ্জায় পারিনি তোমার মুখের দিকে চোখ তুলে থাকাতে।

আমাদের ভালোলাগা আর ভালোবাসার প্রতিটি মুহূর্তই কেটেছে ফোনে কথা বলে। কত রাত ফোনে কথা বলতে বলতে ভোর করেছি। লাল লাল চোখে সকালে ক্লাসে গিয়েছি। একটা মুহূর্ত মোবাইলটা বন্ধ থাকলে অস্থির হয়ে যেতে তুমি। গ্রামের বাড়িতে গেলে ক্রিকেট খেলতাম আমি। খেলার মাঝে যদি ফোন না ধরতে পারতাম, তাহলে তোমার কাছে মনে হতো আমি তোমায় ভুলে যাব। তোমার কষ্ট হয় এটাও বলতে আমায়। একদিন গ্রীষ্মের দুপুরে তোমার সঙ্গে দেখা করতে ঢাকা গিয়েছিলাম। অচেনা ঢাকায় অনেক কষ্ট করে আজিমপুরে যাই আমি। সেখানেই তোমার সঙ্গে দেখা। একসঙ্গে রিকশায় ঘুরেছিলাম অনেকক্ষণ। সন্ধ্যায় হোম ইকোনমিকস কলেজের সামনে বসলাম দুজন। প্রচণ্ড গরমে তুমিও ঘামছিলে, আমিও।

সময়গুলো ভালোই চলছিল আমাদের। মনে হতো তুমিই আমার সব। হঠাত্ একদিন শুনলাম, ঢাকায় তুমি তোমার পুরনো এক স্কুলবন্ধুকে বিয়ে করছ। আমার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছ। পারিবারিকভাবে বিয়ে ঠিক হলেও বিয়েটা আর করেনি তোমার স্কুলবন্ধু। আমাকে আবার নিজ থেকে ফোন দিয়েছিলে। অনেক কান্নাকাটি করতে তুমি। আমি তোমার চোখের পানি সহ্য করতে পারিনি। সব মেনে নিয়েছিলাম। পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েই তোমার খারাপ সময়ে কাছে থেকেছি। কিন্তু আবার তুমি আমাকে কষ্ট দিলে। দ্বিতীয় বিয়ের আগে ভালো করে সময়ও দাওনি আমায়। কত যে কেঁদেছি। কেন এমন করলে?

আবদুল্লাহ আল মাউন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

মন্তব্য