kalerkantho

রবিবার । ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৭ রবিউস সানি                    

মহাপৃথিবী

নতুন করে পুরনো দেশ

প্রায় তিন সপ্তাহ ফ্রান্স ঘুরেছেন। সঙ্গে ছিল ক্যামেরা। তা দিয়ে দেশটাকে ধরেছেন নিজের মতো করে। শিবলী সিরাজের তোলা ছবির প্রদর্শনী চলছে আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে। দেখতে গিয়ে তাঁর ঘোরাঘুরির গল্প শুনে এসেছেন পিন্টু রঞ্জন অর্ক

৩ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নতুন করে পুরনো দেশ

একজন শিবলী সিরাজ

জন্ম ঢাকার হাতিরপুলে ১৯৭৩ সালে। বাবা সিরাজুল ইসলাম ব্যবসায়ী ছিলেন। মা দিলরুবা ইসলাম বাংলাদেশ বেতারে চাকরি করতেন। ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেছেন। সোহরাওয়ার্দী কলেজ থেকে বিকম পাস করেন। ১৯৯৩ সালে আমেরিকায় পাড়ি জমান। সেখানে ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ওকলাহোমা থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছেন। ২০১২ সাল থেকে ছবি তুলছেন শখের বশেই। যেখানে যান ক্যামেরা সঙ্গে থাকে।

বলতে পারেন ২০১২ সাল থেকেই পৃথিবীর পথে পথে হাঁটছি। সঙ্গে থাকে ক্যামেরা। প্রকৃতিকে ধরতে ভালো লাগে বেশি। জায়গাভেদে তার নানা রূপ। গেল বছর মিসর, জর্দান, তিব্বত ঘুরে এসেছি। এবার ঠিক করলাম ফ্রান্সে যাব। এয়ারপোর্ট থেকেই গাড়ি ভাড়া করেছিলাম। প্রথমে প্যারিসে। এক রাত ছিলাম। পরদিন থেকেই ঘোরাঘুরি শুরু। স্ত্রী এ যাত্রায় আমার সঙ্গী হয়েছিলেন। ফ্রান্সে কখন, কোথায়, কী দেখব—তা নিয়ে কোনো পরিকল্পনা ছিল না। আগে থেকে কোনো হোটেলও ঠিক করিনি। এ অবস্থায় মার্সেই, মপলিয়ে, নিসে, কান ইত্যাদি অনেক শহরেই গেছি। তবে প্যারিস বাদে আর কোথাও এক রাতের বেশি কাটাইনি। মার্সেইতেও রাতটা হোটেলে কাটিয়ে সকাল সকাল প্রকৃতির কাছে চলে গিয়েছি। গ্রামের পথ ধরে যেতে যেতে ছবি তুলেছি। গুগলে সার্চ দিয়ে সুন্দর জায়গার সন্ধান পেলেই চলে গেছি। অনেক জায়গায়ই গাড়ি নিয়ে যাওয়া যায়নি। তাই হাঁটতেও হয়েছে অনেক।

ফ্রান্সে গেলে লোকে প্যারিস বেশি দেখে। আমার স্ত্রীর মোনালিসা দেখার আগ্রহ ছিল। তাই ল্যুভে গিয়েছি। শহর আমাকে তেমন টানে না। প্রকৃতির আকর্ষণ বেশি বোধ করি। গাড়ি চালাতে চালাতে প্রকৃতির মাঝে কোথাও রঙের খেলা দেখলে থেমে যাই। ছবি তুলি। নীল আকাশ আমাকে টানে। নীল আকাশে সাদা মেঘ আরো ভালো লাগে। ছবি তোলার সময় রঙের কথা মাথায় থাকে। প্রকৃতিতে রং লেগেছে দেখতে পেলে আমাকে আর থামানো যায় না। প্রকৃতির রেখাগুলোও পছন্দ করি। হলুদ রঙের একটা ছবি এই প্রদর্শনীতে দেখবেন, মনে হবে তুলিতে আঁকা।

ফ্রান্সের সব জায়গায় মানুষ আমাদের সাদরে গ্রহণ করেছে। আমার স্ত্রী হিজাব পরে। ফ্রান্সে বোরকা নিষিদ্ধ। ফলে বন্ধুবান্ধবের অনেকে পরামর্শ দিয়েছিল, যেন ওখানে হিজাব না পরে। কিন্তু হিজাব পরে ঘুরে বেড়িয়েও তার কোনো সমস্যা হয়নি। আমি মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে পছন্দ করি। ফ্রান্সে অনেকের সঙ্গে কথা হয়েছে। এক ফটোগ্রাফারের সঙ্গে তো কথা বলে দেড় ঘণ্টা কাটিয়ে দিয়েছি।

মার্সেই থেকে কানে যাওয়ার পথে হাইওয়েতে গ্যাস স্টেশনে থামলাম তেল নেওয়ার জন্য। স্টেশন থেকে বেরিয়ে দেখি গাড়ির চাকা ফুটো হয়ে গেছে। প্রথমে পুলিশকে কল দিলাম। পরে গাড়ি কম্পানিকে। ওরা একটা ট্রাক পাঠিয়ে গাড়িসহ আমাদের তুলে আরেক শহরে নিয়ে গেল একটা গাড়ির কারখানায়। ওখানে প্রায় ঘণ্টা দুয়েকের মতো অপেক্ষা করেছি।

একবার ঠিক করলাম আল্পস পর্বতমালার মধ্য দিয়ে অন্য একটি শহরে যাব। কিন্তু অর্ধেকের বেশি যাওয়ার পর দেখলাম বরফ পড়ে রাস্তা বন্ধ। তাই নতুন পথ ধরলাম। কিন্তু ওই পথেও বরফ। আমরা একটি রেস্টুরেন্টে লাঞ্চ করতে গিয়ে পরিবেশনকারীকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘রাস্তা তো বন্ধ। এখন কিভাবে যাব?’ তিনি বললেন, ‘এই পাহাড়ের নিচ দিয়ে একটা ট্রেন যায়। ট্রেনটা গাড়ি পারাপার করে। আপনারা গাড়িসহ ট্রেনে উঠে পড়বেন।’ ওই ট্রেনই আমাদের বাঁচিয়েছিল।

ফ্রান্সে যাওয়ার আগে আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার প্রেসিডেন্ট আবদুল মজিদ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। বললাম, ‘ফ্রান্সে যাচ্ছি। প্রকৃতির ছবি তুলব। আপনারা আগ্রহী হলে সেসব ছবি নিয়ে প্রদর্শনী করতে চাই।’ শুনে তিনি খুশি হলেন। বললেন, ‘সবাই মনে করে ফ্রান্স মানেই প্যারিস। তুমি নেচারের ছবি তুলবে জেনে ভালো লাগছে। ঘুরে আসো। ছবিগুলো দেখি। তারপর দেখা যাবে।’ ফেরার পর ছবিগুলো দেখে তিনি প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করে দিলেন।

ছবি : শিবলী সিরাজ ও সংগ্রহ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা