kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

বিশাল বাংলা

বানারীপাড়ার ধান-চালের হাট

ছোট ছোট ডিঙি নৌকা ভেসে বেড়াচ্ছে। মানুষের কলরবে মুখরিত চারপাশ। এক রে এক, দু বেড়ে দুই, তেও বেড়ে তিন—সুরে সুরে ধানের মাপ চলছে। এখানে সব কাজ নৌকার মধ্যে। নৌকাগুলো সন্ধ্যা নদীতে। মুহাম্মদ শফিকুর রহমান দেখে এসেছেন

৩ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বানারীপাড়ার ধান-চালের হাট

ধান নদী খাল—এই তিনে বরিশাল। বরিশালের একটি উপজেলা বানারীপাড়া, সন্ধ্যা নদীর তীরে। নদীর বুকে শত শত নৌকা ভেসে বেড়ায়। ধান-চাল বিক্রি হয়। নদীর পারে ধান-চালের আড়ত। রাইস মিলও আছে কিছু। সেখানে ধান থেকে চাল হয়। মোল্লা, বেপারী, মৃধা, সরদারদের শোরগোল। জানা যায়, প্রায় দুই শ বছর ধরে এখানে হাট বসছে। দূর-দূরান্ত থেকে বেপারীরা আসেন। ধান বিক্রি করে চাল কিনে নিয়ে যান। বিবিসি ট্রাভেল ২০১৭ সালে বাংলাদেশের সাতটি দর্শনীয় স্থানের কথা প্রকাশ করে। এই ভাসমান হাটটি তার অন্যতম।

সুগন্ধি বালাম চালের সুখ্যাতি

বালাম চালের জন্য বিখ্যাত বানারীপাড়া। সরু হয় এই চাল। সবচেয়ে বেশি হয় বানারীপাড়ায়। বালাম ছাড়াও গোদাই, আউশ চাল পাওয়া যায়। মানের দিক থেকে এখানকার চাল অন্যান্য জায়গার চেয়ে উন্নত।

কুটিয়ালদের কথকতা

ধান থেকে চাল—মাঝখানে অনেকগুলো ধাপ পেরোতে হয়। এই কাজটি যাঁরা করেন, তাঁদের বলে কুটিয়াল। কুটিয়ালরা ধান কিনে নৌকায় ভিজিয়ে রাখেন। ভোর রাতে তাফালে (বড় চুলা) দিয়ে ডোঙায় (সিদ্ধ করার পাত্র) সিদ্ধ করে পরের দুই থেকে তিন দিন রোদে শুকান। তারপর রাইস মিলে নিয়ে ভাঙালে সুন্দর ঝরঝরে চাল বের হয়। কিছুদিন আগে পর্যন্ত প্রায় পঁচিশ হাজার কুটিয়াল ছিল এই উপজেলায়। নদীভাঙন, ব্যবসায় মন্দা, আধুনিক মেশিন ইত্যাদি কারণে এই পেশায় লোকসংখ্যা কমে গেছে। এখানে চাল তৈরি হয় সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে। চালে রং দেওয়া, পলিশ করে সুন্দর করা ইত্যাদি ব্যাপার এখানে নেই।

বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুরসহ বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা এখানে ধান বিক্রি করতে আসেন। পরে তাঁরাই চাল কিনে নিয়ে বাড়ি ফেরেন। জামাল উদ্দিন যেমন বরগুনা থেকে এক নৌকা ধান নিয়ে এসেছেন। বললেন, ‘এখানে ধানের দাম ভালো পেয়ে থাকি। আবার তুলনামূলক কম দামে ভালো চাল কিনতে পারি। দূরত্ব বেশি হলেও এসব কারণেই এখানে আসি।’

হাটবার

প্রধান হাট বসে শনি ও মঙ্গলবার। আগের দিনের হাটের রেশ ধরে রবি ও বুধবারও হাট বসে। পাইকার, কুটিয়াল, শ্রমিকরা হাটের দিনে দম ফেলার সুযোগ পান না। শত শত নৌকায় ধান-চাল বিক্রি হয়। ছোট নৌকায় মুড়ির মোয়া বিক্রি করে এক দল লোক। কাজের ফাঁকে মোয়া খেয়ে শ্রমিকরা পেটের ক্ষুধা মেটায়। নদীভাঙনের কারণে আগের জায়গায় হাট নেই। অনেকটাই সরে এসেছে। চাল কিনতে এসেছেন জয়নাল মিয়া। তিনি বললেন, ‘এখানে ভালো মানের চাল পাওয়া যায়। সারা বছরের খাবারের চাল এখান থেকেই কিনি।’

ভাটা পড়েছে

‘আগে বানারীপাড়ার ধান-চাল ব্যবসায় যে রমরমা ছিল তা এখন আর নেই।’ ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম আরো বলছিলেন, ‘আগে নানা জায়গা থেকে ব্যবসায়ীরা চাল কিনতে আসতেন। কিন্তু এখন অনেক জায়গায়ই রাইস মিল হয়েছে। তাই আগের মতো বেশি লোক আর আসে না এখানে।’

ছবি : লেখক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা