kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

জীবন তোমায় ভালোবাসি

আগামীকাল নূর-এ-সাফী আহনাফের জন্মদিন, যার ক্যান্সার ধরা পড়ে কলেজে থাকতেই। সেই থেকে লড়ছেন, হাসপাতালে ঘুরে ঘুরে অন্যদেরও সাহস জোগাচ্ছেন। প্রতিষ্ঠা করেছেন লিউকোমিয়া অ্যান্ড লিম্ফোমা সোসাইটি অব বাংলাদেশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্রের জীবনযুদ্ধের গল্প শুনেছেন পিন্টু রঞ্জন অর্ক

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



জীবন তোমায় ভালোবাসি

২০১৩ সাল। তখন আমি ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে একাদশ শ্রেণির ছাত্র। বেশ কিছুদিন ধরে অস্বস্তি লাগছিল। ভেতর থেকে মনে হচ্ছিল কিছু একটা হচ্ছে। মনে হচ্ছিল, সামথিং রং। তখন কোরবানির ঈদের ছুটি শুরু হয়েছে। বাবার সঙ্গে আমি এ বি এম আব্দুল্লাহ স্যারের কাছে যাই। ওই সময় গায়ে একটু ছোপ ছোপ দাগ ছিল। ডাক্তার প্রথমে ভাবলেন, হয়তো খেলতে গিয়ে ব্যথা পেয়েছি। চলে আসার সময় হঠাৎ বললেন, ‘এই টেস্টগুলো করিও।’ পরদিন টেস্টের রিপোর্টগুলো নিয়ে আবার গেলাম।

ভেবেছিলাম টেস্টের রিপোর্টগুলো ডাক্তারকে দেখিয়েই সোজা জামালপুরের গাড়ি ধরব। রিপোর্ট দেখেই ডাক্তার বললেন, ‘কালই হসপিটালে ভর্তি করান।’

 

এ কেমন কথা

পরদিন পিজিতে ভর্তি হলাম। ছোটবেলা থেকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলাম। ফলে আমার একটা বড় সার্কেল তৈরি হয়েছিল। দেখলাম, একে একে সবাই আসছে দেখতে। তারপর ফেসবুকে ঢুকে দেখি আমাকে নিয়ে বন্ধুরা নানা কথাবার্তা লিখেছে। জানলাম, আমার ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়ছে! যত দিন বাঁচব, লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।

দেশের বাইরে গেলাম

ডাক্তার বললেন—এটার আলটিমেট ট্রিটমেন্ট হলো বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট। প্রায় সপ্তাহ তিনেক পর ভারতে গেলাম। কলকাতার টাটা মেডিক্যাল সেন্টারে। ডাক্তার বললেন, বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করার আগে ওরাল কেমোথেরাপি চলবে। সেই থেকে চলছে। কিন্তু যে রকম রেসপন্স করার কথা সেভাবে রেসপন্স করছে না। প্রায় ছয় বছর হয়ে গেল।

এখনো খুঁজছি

বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট খুব রিস্কি একটা প্রসেস। যারা করে, দেখা যায় তাদের ৫০-৬০ শতাংশ অনস্পট মারা যায়। অনেকের আবার চোখ বা কানের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ নষ্ট হয়ে যায়। তার পরও ডাক্তার বলেছেন, যেহেতু কেমো আশানুরূপ সাড়া দিচ্ছে না, ফলে বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টই সমাধান। বোনম্যারো খুব কমই ম্যাচ করে। লাখে একজনের সঙ্গে হয়তো। আপন ভাই-বোনের সঙ্গেই বেশি করে। কিন্তু আমার বোনের সঙ্গে ম্যাচ করেনি। এরপর ডাক্তার বললেন, দেশের বাইরে কিছু অর্গানাইজেশন আছে, যারা বোনম্যারো কালেক্ট করে। সেখানে লেগে আছি প্রায় আড়াই বছর ধরে, এখনো পাইনি। 

 

এভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম

এটা খুব লংটার্ম ট্রিটমেন্ট। ভারতে নিয়মিত যাই-আসি। এ অবস্থায়ই এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছি। কলেজে ঠিকমতো ক্লাস করতে পারতাম না। কোনো রকমে প্রি-টেস্ট, টেস্ট পরীক্ষায় অ্যাটেন্ড করি। ফাইনালে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছি। ভর্তি পরীক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যালে চান্স পেলাম। মেডিক্যালে পড়া হয়নি। কারণ আমার রোগ প্রতিরোধক্ষমতা খুবই কম। তাই বেশি হাসপাতালে যেতে মানা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম অর্থনীতিতে। এখন অনার্স শেষ বর্ষে পড়ছি। খুব একটা ক্লাস করতে পারি না। তবে ফলাফল খারাপ করিনি। সিজিপিএ চারের মধ্যে তিনের বেশি আছে।  স্কুলবেলা থেকেই ডিবেট করি। কলেজে ডিবেটিং সোসাইটির প্রেসিডেন্ট ছিলাম। কলেজ থেকে ডিবেট, উপস্থিত বক্তৃতা, মঞ্চনাটক ইত্যাদির জন্য পুরস্কার পেয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেও ডিবেট চালিয়ে গেছি। জসীমউদ্দীন হলের ছাত্র আমি। হল ডিবেটিং সোসাইটির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। বঙ্গবন্ধু হলে আন্তঃ ক্লাব বিতর্ক প্রতিযোগিতায় একবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম। সেকেন্ড ইয়ারের পর থেকে ডিবেট কমিয়ে দিয়েছি। আমাদের বিভাগের একটা ক্লাব আছে—ইকোনমিকস ক্যারিয়ার অ্যালায়েন্স। আমি সেটার জেনারেল সেক্রেটারি। এখন ক্যান্সার পেশেন্ট নিয়ে কাজ করার ফলে এসব জায়গায় সময় দেওয়া কমে গেছে।

 

রাষ্ট্রনায়ক হতে চাইতাম

ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল রাষ্ট্রনায়ক হওয়া। কেউ কারণ জানতে চাইলে বলতাম—দেশটাকে খুব সুন্দর করে, নিজের মতো করে সাজাব। যেকোনো খারাপ কিছু দেখলেই ভাবতাম—আমি যখন রাষ্ট্রনায়ক হব, তখন এই জিনিসগুলো থাকবে না।

 

যুদ্ধটা সবার

আমাদের একটা সংগঠন আছে—লিউকেমিয়া অ্যান্ড লিম্ফোমা সোসাইটি অব বাংলাদেশ। আমি সেটির ফাউন্ডার। ২০১৬ সালে এটির যাত্রা শুরু। ক্যান্সার রোগীদের হাসিখুশি রাখাই ছিল উদ্দেশ্য। আমরা প্রথমে ব্লাড ক্যান্সারের রোগীদের নিয়ে কাজ করা শুরু করেছিলাম। এখন আমরা সব ধরনের ক্যান্সার রোগীকে নিয়ে কাজ করি। এটাকে সংগঠন না বলে একটা যাত্রা বা একসঙ্গে লড়াইও বলতে পারেন। কারণ ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধটা সবার। ক্যান্সার ধরা পড়ার পর যখন ইন্ডিয়া গেলাম, দেখলাম প্রচুর বাংলাদেশি। প্রত্যেকের সঙ্গে আড্ডা বা গল্পে একটা জিনিস ফুটে উঠল—তারা সবাই একা! এমনও অনেকে আছে, যাদের পরিবারেরও কেউ সহায়তা করে না। তাই ভাবলাম, এদের কিভাবে একত্র করা যায়, একটা প্ল্যাটফর্মে আনা যায়। সবাই মিলে কিভাবে হাসিখুশি থাকা যায়। সে থেকেই ওই সোসাইটি।

 

মানুষগুলোর হাসিমুখ দেখলে ভালো লাগে

ক্যান্সার ধরা পড়লে সবাই হতাশ হয়ে পড়ে। একটা ভয় কাজ করে। অনেকেই জানতে চায়—কী করব, কোথায় যাব, কোন ডাক্তার দেখাব, কিছুই তো বুঝতে পারছি না। আমরা রোগীকে চিকিৎসাসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সরবরাহ করি। আরেকটা বিষয়—এখানে রোগীদের সঙ্গে ডাক্তারদের ডিসকাশন পর্বটা খুব স্বল্প সময়ের। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়—ক্যান্সার কেন হলো, এখন কী করতে হবে, কিভাবে লাইফ লিড করব—রোগীরা এসব বিষয়ে ডাক্তারের সঙ্গে খুব একটা কনসাল্ট করার সুযোগ পায় না। আমরা এই জায়গাটিতেও তথ্য দিয়ে সহায়তা করি। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে যারা, তারা খুব উপেক্ষিত। আমরা অন্তত আশ্বস্ত করতে চাই যে সে একা না। 

যারা হাসপাতালে শুয়ে আছে তাদের সঙ্গে একটু আড্ডা দেওয়া, রোগীদের নিয়ে একটা গেট টুগেদার, একসঙ্গে কোথাও খেতে যাওয়া, খেলতে যাওয়া—এ সবই আমরা করি। ফেসবুক পেজের মাধ্যমে কার্যক্রম চলে। ট্রিটমেন্ট কমিউনিটি নামে আমাদের একটা গ্রুপ আছে।

 

পৃথিবী বদলে গেছে

ক্যান্সার আমার জীবনকে আমূল বদলে দিয়েছে। আমার মনে হয় আমি সৌভাগ্যবান। এখন মনে হয়, ওপরে ওঠার জন্য কাদা ছোড়াছুড়ি, কিছু না পাওয়ার হতাশা—এগুলোর আসলে কোনো মানে নেই। জীবনটা এত সুন্দর, এত বড় একটা জীবন আমরা সেটাকে খুব ছোট করে দেখি। এই উপলব্ধিটাই আমার জীবনে সবচেয়ে বড় পাওয়া। এটা আমাকে ক্যান্সারই দিয়েছে। আমার যে ক্যান্সার সেটা সিএমএল (ক্রনিক মাইলোজেনাস লিউকোমিয়া)। ২২ সেপ্টেম্বর ওয়ার্ল্ড সিএমএল ডে পালিত হয়। আমার জন্মদিনও এই ২২ সেপ্টেম্বর!

 

কেমো নিই দুই বেলা

ওরাল কেমো খুব খারাপ একটা জিনিস। সাইড ইফেক্ট খুব বেশি। কেমো নেওয়ার পরের এক-দেড় ঘণ্টা ‘ডিজি ফিল’ হয়, মানে মাথা ঘোরায়। বমি হয়। মনে হয়, অন্য কোনো দেশে আছি। সব উঁচু-নিচু লাগে। হাঁটতে গেলে মনে হবে পড়ে যাচ্ছি। ওই সময় স্বাভাবিক কোনো কাজ করা যায় না। আমি তার পরও ভার্সিটিতে আসি। ক্লাস করি। ক্যাম্পাসে ঘুরি। টুকটাক কিছু কাজ করি। কষ্ট তো হয়। তার পরও আমি খুব হ্যাপি। কেমো দুই বেলা চলে—সকালে আর রাতে। আমি টাইমটা এমনভাবে সেট করে নিয়েছি, যাতে ডেইলি রুটিন হ্যাম্পার না হয়।

 

রোগীদের সঙ্গে সময় ভালো কাটে

আমার দিনের বড় একটা সময় কাটে রোগীদের সঙ্গে। দিনে পাঁচ-সাতজন ক্যান্সার পেশেন্টের কল পাই। এর মধ্যে তিন-চারজন থাকে ক্যান্সার নতুন ধরা পড়েছে এমন। আর বাকিরা পুরনো রোগী। তারা খোঁজখবর জানতে ও জানাতে কল দেয়। দু-একজনের স্বজন মৃত্যুর খবর দেয়। একটু আগে এক পেশেন্টের ভাই কল দিল। ল্যাবএইডে ভর্তি। ক্যান্সার পেশেন্ট বলে তার বিফ বা রেড মিট খাওয়া নিষেধ। গতকাল দেখে এসেছি। রোগী বলছিল, ‘ভাই অনেক দিন কাচ্চি খাই না।’ আমি তার ভাইকে বলেছিলাম, ‘একদিন কাচ্চি বিরিয়ানি এনে খাওয়ান।’ তিনি কল দিয়ে বলেছেন, ‘ভাই, ইফতারের জন্য খাসির কাচ্চি নিয়া আসছি। তুমি আইসো। একসঙ্গে খাব।’ একজন পেশেন্টের মুখে যখন হাসি দেখি, তখন ভালো লাগে। সত্যি বলতে কি ক্যান্সার হওয়ার পর আমি অনেক মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের বন্ধু-বড় ভাইদের কাছ থেকে যে পরিমাণ সহায়তা পেয়েছি, তা কখনো ভুলতে পারব না। আমি দেশের সবার প্রতি কৃতজ্ঞ।

 

ভাই, আমি একটু পানি খেতে চাই

ক্যান্সার পেশেন্টদের নিয়ে লড়াই করতে গিয়ে আমার একটা বড় সার্কেল হয়ে গেছে। যেমন আজ সকালে একজনকে দেখতে গেলাম। কিডনি রোগী। তার দুটি কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে। তাকে ডাক্তার দৈনিক ২৫০ মিলির বেশি পানি খেতে নিষেধ করেছেন। সে আমাকে শুধু বলছিল, ‘ভাই, এমন কিছু করতে পারবেন, যাতে আমি একটু গলা ভিজিয়ে পানি খেতে পারব। ভাই, আমি একটু পানি খেতে চাই। এক লিটার ঠাণ্ডা পানি।’

কিছু একটা না হলে অনেকেই সুইসাইড করে বসেন। আমরা যদি লড়াই করে বেঁচে থাকতে পারি, তাহলে প্রেমে ব্যর্থ হয়ে, পরীক্ষায় ভালো না করে, বিসিএস না হলে, পদ না পেয়ে কেন সুইসাইড করবেন। যখন কারো সুইসাইড করার খবর শুনি ওই সময়টা আমার সবচেয়ে খারাপ লাগে।

 

অনেক স্মৃতি

রোগীদের সঙ্গে অনেক স্মৃতি আছে। আকাশ ভাই আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। নিজে কোচিং করিয়ে পরিবারকে চালাতেন। তিনি মাস্টার্সে পড়তেন। একাডেমিক লাইফের  একেবারে শেষে গিয়ে তাঁর ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়ে। কলকাতায় তিনি যে বাসায় ছিলেন তার পাশে ছিল আমাদের বাসা। তিনি বিছানায় শুয়ে আছেন এবং প্ল্যান করছিলেন সুস্থ হয়ে কী করবেন, না করবেন। বলছিলাম, ‘ভাই, আপনি সুস্থ হন। একসঙ্গে অনেক কিছু করব। একসঙ্গে বাইরে ঘুরে আসব। বিদেশে যাব।’ ভারত থেকে আসার ১০-১৫ দিন পরে তাঁর মৃত্যুর খবর পেলাম।

একটা মেয়ে ছিল পিজি হাসপাতালে ভর্তি। আড়াই-তিন বছরের মতো বয়স। পহেলা ফাল্গুনের আগের দিন ওকে দেখতে গিয়েছিলাম। হাসপাতালে শুয়ে আছে। খুব খারাপ অবস্থা। রক্ত লাগবে। কালেক্ট করে দিলাম। চলে আসব, এমন সময় ও বলছে, ‘ভাইয়া, ভাইয়া, চুড়ি আনবা, চুড়ি।’ হয়তো সে দেখেছে, ডাক্তার-নার্সরা নতুন চুড়ি পরেছে। ভাবলাম পরের দিন চুড়ি নিয়ে যাব। কিন্তু পরদিন সকাল ৮টায় কল পেলাম, মেয়েটা আর নেই!

 

অন্তত এক দিন হলেও রোগীকে দেখতে যান

রমজান মাসে আমার একটা প্রজেক্ট ছিল—প্রতি সপ্তাহে যেন একজন মানুষ একজন করে রোগী দেখতে যায়। ফেসবুকের মাধ্যমে লোকজনকে অনুরোধ করেছি। ব্যক্তিগতভাবে বেশ কয়েকজন জানিয়েছে, তারা প্রতি সপ্তাহে যায়নি। কিন্তু এক দিন-দুদিন হলেও গিয়েছে।

 

স্বপ্নগুলো বড়

দেশের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখেছি বন্ধুদের সঙ্গে। দার্জিলিং গিয়েছি। সম্প্রতি ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ প্রগ্রামের অধীনে চীনে গেলাম। আমি চাই যে কয় দিন বাঁচি যেন সুস্থ হয়ে বাঁচতে পারি আর এই মানুষগুলোর সেবা করতে পারি। আমার প্রথম স্বপ্ন ক্যান্সার হাসপাতাল দেওয়া, দ্বিতীয় স্বপ্ন পৃথিবীটাকে ঘুরে দেখা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা