kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ফেসবুক থেকে পাওয়া

২ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ফেসবুক থেকে পাওয়া

তুমি আসবে বলে

রান্নাঘরের কাজ প্রায় শেষ। টেবিলে কাচের গ্লাস-প্লেট নামানো হয়েছে। পুডিং রাতেই করে রেখেছিলাম। বাকি খাবারদাবার তৈরি হলো মাত্র। এখন চুলায় বেরেস্তা হচ্ছে, খুন্তিতে খটখট করে পেঁয়াজ নাড়ছি। সঙ্গে আছে মালিহা। আমার নীরব সঙ্গী। এখন সে পুতুল খেলায় ব্যস্ত। তাকে মাদুর পেতে একটু দূরেই বসিয়েছিলাম। কিন্তু যতই দূরে দূরে বসাচ্ছি, মেয়েটা ততই আমার পাশ ঘেঁষে আসছে। কখন গরম তেলের ছাট লেগে বিপদ-আপদ হয় কে জানে!

রান্নাঘরটা খুব পুরনো। দেয়ালে ফাটল ধরেছে। ডিস্টেমপার সব খসে খসে যাচ্ছে! অল্পবিস্তর ভূমিকম্পে দেয়ালটা পাউডার হয়ে যাবে কনফার্ম!

এ বিষয়ে প্রতি মাসে রাগ ঝাড়ার পর রাফসানের সাময়িক বোধোদয় হয়। বলে, চুলা উঁচু করিয়ে দেবে, দেয়ালে রং করানো হবে। তাক বানানোর জন্য নিজেদের কড়ইগাছের কাঠ পর্যন্ত রেখে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শেষমেশ দেখা যায় কোনো মিস্ত্রির ডায়রিয়া অথবা তাদের কারোর চাচা-মামা কেউ মারা গেছেন অথবা এই মাসে এক্সট্রা টাকা নেই!

অন্যদিন বিকেলের দিকে এলেও আজ ভোরবেলায় চলে এসেছে মালিহা। আমাদের কয়েক বাসা পরে তাদের বাসা। এই তো, কয় মাস আগে গেস্টরুমের খাটের নিচের পেঁয়াজের টুকরিতে একসঙ্গে চারটা বিল্লু ছানা ফুটিয়েছিল। আমি তো মহাখুশি! ছবি তুলি—খেতে দিই। যে আসে তাকেই দেখাই। দেখাতে একদিন মালিহার মাকেও ডেকেছিলাম। মালিহাকে কোলে নিয়ে এসেছিলেন তিনি। বিল্লুগুলো চলে গেছে; কিন্তু মানুষের ছানাটার সঙ্গে আমার বেশ ভালো রকমের বন্ধুত্ব হয়েছে। বিকেল হলে মালিহা আমার সঙ্গে পুতুল খেলে।

গতদিন দাওয়াত দিয়ে এসেছি। বলেছি, ওর এক বন্ধু আসবে। তাই সে সকাল সকাল তার হাঁড়ি-পাতিল আর পুতুলের বাক্স নিয়ে হাজির! কী আর করা, রান্নাঘরে মাদুর পেতে ওকে বসিয়ে আমি রান্না করছি।

এদিকে দাদুভাই ফোন দিয়েই যাচ্ছেন। একা একা কত দূর কী করলাম, কী কী কাজ বাকি জিজ্ঞেস করছেন। জরুরি কাজ থাকায় বাজারসদাই দিয়ে রাফসান সকালেই বেরিয়ে গেছে।

মাসুম চাচার আসা উপলক্ষে আজকের আয়োজন। তিনি জাপানে থাকেন অনেক বছর হলো। এবার এসেছেন প্রায় পাঁচ বছর পর। আগেরবার যখন এসেছিলেন, তখনো আমি-রাফসান যুগলবন্দি হইনি। মাসুম চাচার গল্প রাফসানকে অনেকবার বলেছি। গ্যাংস্টার ছবির ‘ইয়া আলি’ গানের সঙ্গে আমরা নাচতাম। মাসুম চাচার গানের গলা অসম্ভব সুন্দর।  ছোটবেলা থেকেই মাসুম চাচা বলতে আমি রীতিমতো উন্মাদ! একবার বিটিভির এক ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে উনি অভিনয়ও করেছিলেন। রাফসান বলে, উনার গল্প করার সময় নাকি আমার চোখ জোড়া চিকচিক করে! চাচ্চুর গল্পগুলো ওকে এতবার বলেছি যে কোনো গল্প শুরু করলে সে শেষটুকু বলে দিতে পারে।

আজ মাসুম চাচার সঙ্গে আসছে মাহদী, দ্য জুনিয়র মাসুম! আগে হোয়াটস অ্যাপসে ছবি দেখেছি। সামনাসামনি আজই প্রথম দেখব। ওর চোখ দুটি হয়েছে চাচিমার মতো, মুখের গড়ন চাচ্চুর মতো। সবে স্কুলে ভর্তি হয়েছে। বয়সে মালিহার একটু বড় হবে। আজকে মাসুম চাচা এলে বলব, মাহদীর জন্য মালিহাকে আমার খুব পছন্দ হয়। শুনে হাসির রোল পড়ে যাবে।

যাই হোক, টেবিলে আগেই খাবার বেড়ে লাভ নেই। মেহমান এলেই বাকিটুকু সেরে নেওয়া যাবে। ড্রয়িংরুমে শেষ একটা উঁকি দিলাম। মালিহা পেছন পেছন ঘুরছে। এমন সময় দরজার কড়া নড়ল।

আমি একটা ভোঁ-দৌড় দিলাম। ধাক্কা লেগে প্লাস্টিকের ফুলদানিটা পড়ে গেল! মালিহা বোধ হয় ভয় পেয়েছে।

দরজা খুলতেই দেখা মিলল আমার ম্যাজিকম্যান মাসুম চাচা, কোলে মাহদী আর পাশে চাচি। রাফসান তাদের নিয়ে এসেছে।

দুজনের পা ছুঁয়ে সালাম করলাম। আমার দেখাদেখি রাফসানও তাই করল! চাচ্চু আমাদের কাণ্ডকারখানায় বেশ মজা পেয়েছেন বলে মনে হলো। কারণ তিনি হো হো শব্দ করে হাসছেন তো হাসছেনই!

জুয়াইরিয়া জাহরা হক

মিরপুর, ঢাকা।

 

বসন্ত বাতাসে হাহাকার

আঁধার আছড়ে পড়া শহরে তুমিই ছিলে আলো। সেই তুমি আজ অচেনা এক মায়া। তোমার কাছে চিঠি পাঠানোর কোনো ডাকবাক্স না পেয়ে ক্লান্ত হয়ে আছি। ডাকবাক্সের অভাবে যত্রতত্র অব্যক্ত কথাগুলো নীল, হলুদ, সবুজ পাতায় জমা পড়ে আছে। বিষাদগ্রস্ত এ শহরে আমার বিষাদে সুর মেলানো ঝিঁঝি পোকার গুঞ্জন নেই। কিছু নির্লিপ্ত রাত তোমাকে বড্ড হন্য হয়ে খুঁজে। কল্পনার মাঝে তোমাকে সেন্ট মার্টিন নিয়ে যাই। তোমাকে লাল কাঁকড়ার ভয় দেখাই। আবার তোমাকে একলা বনে ছেড়ে দিয়ে আমি লুকিয়ে তোমার অবুঝ শিশুর মতো মলিন মুখে পথ খোঁজার দৃশ্য দেখি। কখনো বা আমরা দুজন আত্মহারা গল্পে মেতে উঠি। গল্পের মাঝে হাসতে হাসতে তোমার নিঃশ্বাস আটকে এলে আমি তোমার হাসি থামাতে বুকে টেনে নিই। তোমার মুচকি হাসি মনের দেয়ালে লেপ্টে আছে। তোমার স্কুলের পথে দাঁড়িয়ে তোমার জন্য অপেক্ষা করা সেই রাস্তা পেরোতে পারি না। ওই পথটাও দীর্ঘ মনে হয়। তোমার স্কুলের ছুটির ঘণ্টা আমার অলিন্দে বাজে। এখনো ছুটি সেই ফনিকস বাইসাইকেলে তোমার পথে। তোমার হেঁটে চলা পথে আমার চলাচল উপলব্ধি করে তোমার থমকে তাকানোর দৃশ্য চোখের শিরায় জমে আছে। তুমি এ রাস্তায় আর আসোনি। তবু আমি নিরর্থক এ পথের দেয়ালে তোমার আসা-যাওয়ার খোঁজখবর নেই। কিন্তু ওরা চুপ করে থাকে। তোমার হাসিতে আমার নিঃসঙ্গতা উদ্বেলিত হয়। তোমার হাসিতে আমার চোখ তৃপ্তি পায়, তোমার চোখের কাজলে আমার নিউরনে টিপ্পনী কাটে, তোমার ঠোঁটে আমার জন্য রেখে দেওয়া কথা ‘ভালোবাসি’ আমার অলিন্দ শীতল করে। বসন্তের হাহাকার বাতাস তোমাকে চায়। এ শহরে ক্যাফেটেরিয়ার কাপ তোমার উষ্ণ ঠোঁটের স্পর্শ পেতে হাঁ করে আছে।

মুহসিন মুন্সী

শিক্ষার্থী, দৌলতপুর দিবা-নৈশ কলেজ

দৌলতপুর, খুলনা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা