kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রাজশাহী

মোশাররফ হোসেন আখুঞ্জী

ভাষা আন্দোলনে রাজশাহী থেকে যাঁরা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, মোশাররফ হোসেন আখুঞ্জী তাঁদের একজন। আটচল্লিশের সেই যুবকের পথচলা আজও থেমে নেই। রফিকুল ইসলাম দেখা করতে গিয়েছিলেন

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মোশাররফ হোসেন আখুঞ্জী

এই বয়সেও আখুঞ্জী তাঁর ব্যবসা ধরে রেখেছেন। সংসার আগলে রেখেছেন। ছোট থেকেই আখুঞ্জী ছিলেন রাজনীতি ও সমাজসচেতন। সমাজের নানা অসংগতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় ভাষা আন্দোলনে যুক্ত হন তিনি। পড়তেন রাজশাহীর লোকনাথ বিদ্যালয়ে। সহপাঠীদের তিনি বোঝাতেন, উর্দু রাষ্ট্রভাষা হলে কী পরিণতি হবে।

ভাষার দাবি নিয়ে রাজশাহীতে গঠিত হয়েছিল ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ। ওই পরিষদের সভাপতি ছিলেন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র এস এম গাফ্ফার এবং যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন রাজশাহী কলেজের জ্যেষ্ঠ ছাত্র চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোলাম আরিফ টিপু (বর্তমানে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর) ও নাটোরের হাবিবুর রহমান। প্রথম সারিতে আরো ছিলেন মোশাররফ হোসেন আখুঞ্জী, আব্দুর রাজ্জাক, মনোয়ারা বেগম, আবুল হোসেন ও সাইদউদ্দিন আহমেদ।

 

সেই দিন

আখুঞ্জী বলছিলেন, ‘১৯৪৮ থেকেই রাজশাহীর ছাত্র-জনতা ভাষার দাবিতে সরব ছিল। আন্দোলনের সূতিকাগার ছিল রাজশাহী কলেজ। আমিও ওই কলেজেরই ছাত্র ছিলাম। ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকায় ভাষার দাবিতে ছাত্র-জনতার আন্দোলন তখন তুঙ্গে। আমরাও রাজশাহীতে ভাষার দাবিতে আন্দোলন করছি। ২১শে ফেব্রুয়ারি রাজশাহীতে আমরা দিনভর ঢাকার খবর জানতে অপেক্ষা করছিলাম। আমাদের আশঙ্কা ছিল ঢাকায় বড় কিছু ঘটতে পারে। অবশেষে সন্ধ্যার দিকে খবর এলো ঢাকায় ছাত্রদের ওপর গুলি হয়েছে। অনেক ছাত্র আহত ও নিহত হয়েছেন। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহী শহরে বিষাদের ছায়া নেমে এলো। দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেল। সন্ধ্যার কিছু পরই কলেজের নিউ হোস্টেলে একে একে রাজশাহীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা জমতে শুরু করল। একপর্যায়ে কয়েক শ ছাত্র জমায়েত হলো হোস্টেল প্রাঙ্গণে। সবার  চোখে-মুখে ভীষণ উৎকণ্ঠা, কিন্তু দৃঢ় প্রত্যয়ে সবার কণ্ঠেই উচ্চারিত হচ্ছে, ‘ছাত্র হত্যার বিচার চাই, রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই।’ রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের সিনিয়র ছাত্র এস এম গাফ্ফারের সভাপতিত্বে শুরু হলো সভা। সভায় দুটি প্রস্তাব গৃহীত হলো। রাজশাহীতে দুর্বার গতিতে ভাষা আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ গঠন ও শহীদ ছাত্রদের স্মরণে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। এরপর ওই রাতেই ইট ও কাদামাটি দিয়ে শহীদদের স্মরণে একটি শহীদ মিনার তৈরি করা হলো। সেটি রাত জেগে পাহারাও দেওয়া হলো; কিন্তু সকাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুসলিম লীগের সন্ত্রাসীরা ও পুলিশ এসে শহীদ মিনারটি ভেঙে দেয়।

রাজনৈতিক জীবন

শিক্ষাজীবনে ন্যাপের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হন আখুঞ্জী। বললেন, ‘ছোট থেকেই দেশের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে খোঁজখবর রাখতাম। নানা অসংগতিতে সোচ্চার ছিলাম। একপর্যায়ে যুক্ত হই ন্যাপের রাজনীতির সঙ্গে। সে সময় থেকেই বাম রাজনীতিতে বিশ্বাসী। এখনো সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছি।’

 

বৈবাহিক জীবন

শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার কিছুদিনের মাথায় বিয়ে করেন ভাষাসৈনিক মোশাররফ হোসেন আখুঞ্জী। ঘরে আসে দুই মেয়ে ও এক ছেলে। বড় মেয়ে রাজধানীর একটি ইংরেজি মাধ্যম কলেজে উপাধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত আছেন। ছোট মেয়ে আগে চাকরি করতেন। তবে এখন গৃহিণী। আর একমাত্র ছেলে রাজশাহী নগরীর সাহেব বাজার আরডিএ মার্কেটে বাবা-দাদার ব্যবসায় যুক্ত আছেন। তাঁদের এ ব্যবসার বয়স পৌনে ২০০ বছর। আখুঞ্জী রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে চাকরিজীবন শুরু করেন। অবশ্য আরডিএ মার্কেটের মেসার্স ১ নম্বর গদি নামের মুদির দোকানটিকে সব সময়ই আগলে রেখেছেন। আখুঞ্জী বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত আছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা