kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

এই মোরা বেশ আছি

শিল্পী শেখ আফজাল শিক্ষকও বটে। আমুদে মানুষ। সহকর্মীদের নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র আঁকেন। সেগুলো নিয়ে ফোল্ডারও প্রকাশিত হয়েছে। প্রথমটি ২০১৬ সালের জয়নুল উৎসবে। আর গেল জয়নুল উৎসবে আরো তিনটি। মোহাম্মদ আসাদকে শুনিয়েছেন মজার সব গল্প

২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এই মোরা বেশ আছি

আমি তখন চারুকলায় ফাইনাল ইয়ারে পড়ি, একটা পত্রিকা বের করতাম। নাম ছিল ব্যঙ্গ। শিল্পী মামুন রিয়াজি, মনিরুল ইসলাম (আমেরিকাপ্রবাসী শিল্পী) আমাদের এক বছরের সিনিয়র ছিলেন। আর ছিলাম আমি ও সাইফুল ভাই (শিল্পী সাইফুল ইসলাম)। আমি কার্টুন করতাম। মামুনও করত। নিসার (চারুকলা অনুষদের ডিন শিল্পী নিসার হোসেন) আমাকে আইডিয়া দিত। সেই সময় দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকায় অনেক কার্টুন করেছি।

জাপান থেকে ফিরে আসার পর ১৯৯৫ সালে চারুকলায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দিলাম। তখন বসে বসে একজন আরেকজনের কার্টুন আঁকতাম। দেখা গেল শিশির (শিল্পী শিশির ভট্টাচার্য) আমার একটা কার্টুন করল, আমি মনে মনে বললাম, দাঁড়াও তোমাকে দেখাচ্ছি। তখন ওরও একটা কার্টুন করলাম। তারপর অবশ্য অনেক দিন কার্টুন আঁকা হয়নি। ২০১৫ সালের দিকে দোহা ভাইয়ের (শিল্পী সামসুদ্দোহা) একটা কার্টুন একে তাঁর মেইলে পাঠিয়ে দিলাম। দোহা ভাই ফেসবুক থেকে আমার একটা ছবি নিয়ে মাথার টুপিতে চান-তারা লাগিয়ে দিল। তার পর থেকে শুরু হয়ে গেল দোহা ভাইকে নিয়ে কার্টুন করা। এরপর ইউনুস ভাই (শিল্পী মোহাম্মদ ইউনুস) বললেন, ‘আফজাল আমারটা করতে পারবা না।’ চ্যালেঞ্জটা নিলাম। নবী স্যারেরটাও (শিল্পী রফিকুন নবী) করলাম। তবে তিনি স্যার তো, তাই বেশি ব্যঙ্গ করা যায় না।

মোস্তাফিজ ভাই (শিল্পী মোস্তাফিজুল হক) অনেক রকম গান গাইতেন। নাসরিন বেগমও (প্রাচ্যকলা বিভাগের শিক্ষক, শিল্পী) শিক্ষকের কাছে গান শিখতেন। একটা ভালো প্লট পেয়ে গেলাম। এই দুজনকে বানালাম ভোকাল। শিশিরের হাতে দিলাম ঢাক। দোহা ভাইকে ধরিয়ে দিলাম খোল। আমার হাতে দোতারা। দাঁড়িয়ে গেল আমাদের কাল্পনিক ব্যান্ডদল। একটা ছবি আঁকলাম সে ব্যান্ডদলের।

বাঁ থেকে: জামাল আহম্মেদ, মোহাম্মদ ইউনুস, নিসার হোসেন, মোহাম্মদ ইকবাল, সামসুদ্দোহা, শেখ আফজাল, রফিকুন নবী, শিশির ভট্টাচার্য, মোস্তাফিজুল হক ও আবুল বারক আলভী ।

নিসার মাঝে মাঝে বলত, এটা করো-ওটা করো। মজা করার জন্যই করতাম। বেশি করেছি দোহা ভাইকে নিয়ে। তাঁর ফেসটা অন্য রকম। মজা করে এঁকেছি। মোস্তাফিজ ভাইও একসময় বলেছিলেন, ‘আমাকে কার্টুন আঁকতে পারবা না।’ আমি ডাব এঁকে তার মধ্যে মোস্তাফিজ ভাইয়ের চেহারা দিয়ে দিলাম। আর ইউনুস ভাইকে একবার সিংহ বানিয়ে দিয়েছিলাম। নিসারকে ফকির-টকির করেছি। শিশিরকে রাগানোর জন্য নানাভাবে এঁকেছি।

প্রথম ছবিটা এঁকেছিলাম সুন্দরবন যাওয়ার সময়। মোস্তাফিজ ভাইয়ের বাড়ি বাগেরহাটে। আমাদের  একটা ওয়ার্কশপে নিয়ে গিয়েছিলেন। লঞ্চের ডেকে বসে সকাল-সন্ধ্যা গল্প করেছি। সেটাই আঁকলাম। দোহা ভাই সবার ফটো তুলছিল। নবী স্যার বসা ছিলেন মাঝখানে। সামনে নিসার, মোস্তাফিজ ভাই আর আমাকে রাখলাম। পেছনে শিশিরও ছবি তুলছিল।

আরেকটি ছবিতে আছি আমরা সবাই। নবী স্যার একটু বড়, আমাদের শিক্ষক বলে আমরা ওনার চারপাশে আছি। সামনে আলভী স্যার (শিল্পী আবুল বারাক আলভী) আছেন, শিশির, মোস্তাফিজ ভাই, জামাল ভাই, নিসার এবং ইউনুস ভাইও আছেন। পেছনে আমি, দোহা ভাই আর ইকবাল (শিল্পী মোহাম্মদ ইকবাল)। জামাল ভাইয়ের (শিল্পী জামাল আহমেদ) কিছুদিন পায়ে ব্যথা ছিল। সে সময় লাঠি নিয়ে স্টাইল করে আসতেন। সে চিন্তা করেই তাঁকে আঁকা।

ক্যারিকেচারগুলো ফেসবুকে সবাই লাইক দিচ্ছিল। আমি কার্টুনগুলো ডিপার্টেমেন্টেই রাখি। নিসার বলল, ‘এগুলো দিয়ে আমরা একটা ফোল্ডার করব। সেটা বিক্রি করে ফান্ড কালেক্ট করা যাবে।’ আমরা জয়নুল উৎসবে স্বল্প মূল্যে ছবি বিক্রি করে ফান্ড কালেক্ট করি। আমার আঁকা ছবিগুলো নিয়ে প্রথম ফোল্ডার হলো ২০১৬ সালের জয়নুল উৎসবে। আমি ঘোষণা দিলাম, যে একটা কিনবে তার একটা পোর্ট্রেট করে দেব। সত্যি সত্যি যারা কিনেছিল, তাদের সবারই একটা করে ক্যারিকেচার করে দিয়েছিলাম। তাই অনেক ফোল্ডার বিক্রি হয়েছিল।

এগুলো আঁকছিলাম কিন্তু নিয়মিতই। সবাই মজাই পাচ্ছিল। ছাপার পরও কেউ মাইন্ড করেনি। একটা ছবিতে আমাদের ভবিষ্যৎ এঁকেছি। সেখানে নিসার গাছ লাগাচ্ছে। শিশির বুড়া হয়ে গেছে। তাঁর হাতে লাঠি। কাপড় তালি মারা। আমার হাতেও লাঠি। আর পেছনে ইকবাল। নিসারের ইচ্ছা আছে এটা নিয়ে বইটই কিছু একটা করার। তাহলে এগুলো দেখে আমরা অনেক বছর পরও আনন্দ পাব।

ছবি : লেখক

 বাঁ থেকে: শেখ আফজাল, মোহাম্মদ ইকবাল, শিশির ভট্টাচার্য ও নিসার হোসেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা