kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মানুষ মানুষের জন্য

তাঁর উপকারী মন

২৬ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তাঁর উপকারী মন

কে টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছে না, কার একটি হুইলচেয়ার দরকার, কোন ছাত্রটির টাকার অভাবে লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার জোগাড়—সারা দিন এসবেরই খোঁজে থাকেন এম মনসুর আলী। আকিব রাজা জানতে পেরে খুশি হয়েছিলেন

 

মাত্র এক বছর তিন মাসে মনসুর আলীর ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে সহায়তা পেয়েছে ১০০-র বেশি অসহায় মানুষ। মুক্তিযোদ্ধা মন্তাজ আলীই যেমন মরতে বসেছিলেন। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না। শয্যাশায়ী ছিলেন পাঁচ মাস। বাঁচার আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন তাঁর আপনজনরা। মনসুর আলী গিয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে। খবরাখবর নিয়ে এসে ফেসবুকে একটা পোস্ট দেন। সাহায্যের আবেদন জানান। পরে সরাইল সার্কেলের এএসপি মনিরুজ্জামান ফকির মন্তাজ আলীর চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। পাশে দাঁড়ান আরো কিছু হৃদয়বান ব্যক্তি। মন্তাজ আলীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরে তাঁকে ঢাকায়ও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এখন তিনি সুস্থ জীবনযাপন করছেন।

 

এবার সাগরের কথা

মুড়ি বিক্রি করে পড়াশোনার খরচ চালায় সাগর বিশ্বাস। স্কুল ছুটির পর প্রতিদিন অরুয়াইল জনতা ব্যাংকের গেটের সামনে বসে মায়ের হাতে ভাজা মুড়ি বিক্রি করে। প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ টাকা লাভ হয়। এই টাকার অর্ধেক মাকে দেয়, বাকি অর্ধেক দিয়ে স্কুল খরচ চালায়। অভাবের তাড়নায় সাগরের বাবা সংসার ছেড়ে পালিয়েছিল ১৫ বছর আগে। সাগর বিশ্বাসের করুণ কাহিনি ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করেন এম মনসুর আলী। এগিয়ে আসেন বিত্তবান কয়েকজন মানুষ। তাঁদের সহায়তায় সাগর এখন মন দিয়ে পড়াশোনা করছে।

 

হঠাৎ দেখলেন

এক দিন এক বাজারের মধ্য দিয়ে হাঁটছিলেন এম মনসুর আলী। হঠাৎ দেখলেন ১২-১৩ বছরের একটি ছেলে দুই হাত ও দুই পা ব্যবহার করে ব্যাঙের মতো লাফিয়ে লাফিয়ে ভিক্ষা করছে। এভাবে হাতে-পায়ে ভর করে চলতে চলতে হাঁটুতে ঘা হয়ে গেছে ছেলেটির। মনসুর আলী ছেলেটির কাছে গিয়ে বসলেন। জানলেন তাঁর পরিচয়। তারপর ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। ১০ মিনিটের মধ্যেই সাড়া পেয়েছিলেন সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ইসরাতের কাছ থেকে। তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থেকেও দুদিনের মধ্যেই প্রতিবন্ধী হোসাইনকে হুইলচেয়ার প্রদান করেন। চেয়ারে বসে হোসাইন স্বর্গের হাসি হেসেছিল। এ ছাড়া মনসুর আলী বিধবাদের সেলাই মেশিন, দরিদ্র ও এতিম ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা উপকরণ, বৃদ্ধদের শ্রবণযন্ত্র জোগাড় করে দিয়েছেন। বেশ কয়েকজন গরিব রোগীকে নিয়মিত ওষুধও কিনে দেন মনসুর আলী। 

        

একজন মনসুর আলী

মনসুর আলী একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের বড়ইছড়া গ্রামে তাঁর বাড়ি। বয়স ৪২ বছর।  মনসুর আলীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশ ও দেশের বাইরে থেকে অনেকেই অর্থ সাহায্য পাঠান। সেই বিশ্বাস তিনি অর্জন করেছেন। এ ব্যাপারে সরাইল সার্কেলের এএসপি মনিরুজ্জামান ফকির বলেন, ‘আসলে সাংবাদিক এম মনসুর আলীর সঙ্গে আমার পরিচয় মুক্তিযোদ্ধা মন্তাজ আলীর চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে গিয়ে। একদিন সারা দেশে মানবসেবার উদাহরণ হয়ে দাঁড়াবেন তিনি।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা