kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সুখী হও বাংলাদেশ

লোকগান সংগ্রাহক

২৬ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লোকগান সংগ্রাহক

গান সংগ্রহের জন্য দেশের নানা জায়গায় গিয়েছেন পিয়াল।

মাহবুব পিয়াল লোকগান সংগ্রহ করছেন ৩০ বছর ধরে। দেশের নানা এলাকা ঘুরেছেন গান সংগ্রহের জন্য। গড়ে তুলেছেন একটি অনলাইন আর্কাইভ। মাহবুবর রহমান সুমন দেখা করে এসেছেন

১৯৬৯ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্ম পিয়ালের। স্কুলে থাকতেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাহিত্য একাডেমি ও বাংলাদেশ মুক্ত নাটক দলের সঙ্গে যুক্ত হন। নাটকে কাজ করতে করতেই লোকগানের প্রতি টান তৈরি হয়। সেই থেকেই লোকগান সংগ্রহ শুরু করেন। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে এসে সারিগানের সংগ্রহ বাড়াতে থাকেন। এরপর চাকরি করতে গিয়ে ছিলেন ময়মনসিংহে। বৃহত্তর ময়মনসিংহ এলাকার গান নিয়েও তখন অনেক কাজ করেছেন। এখন তিনি ইনডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের লিবারেল আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস বিভাগের ডিন।

 

যেভাবে আর্কাইভ

ইনডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ড. আলী শিহাব সাব্বিরেরও গানের প্রতি টান আছে। ২০১৫ সালের শুরুর দিকের এক আড্ডায় তিনি পিয়ালের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ দেখান। তিনিই পিয়ালের সংগৃহীত গানগুলো অনলাইনে সংরক্ষণের কথা তোলেন। পরে প্রস্তাবটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ খালেক ও মেজর সালেক বীর-উত্তম ট্রাস্ট ফান্ড থেকে সহযোগিতাও পাওয়া যায়। আর্কাইভটি চালু হয় ২০১৫ সালের জুন মাসে।

 

আর্কাইভে যা আছে

বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে গড়া আর্কাইভের ঠিকানা যঃঃঢ়://ভড়ষশধৎপয.রঁন.বফঁ.নফ. এখন সেখানে দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রায় তিন হাজার গান সংরক্ষিত আছে। যে কেউ এই সাইট ভিজিট করে গানগুলো শুনতে পারেন। এ ছাড়া এখানে যুক্ত করা হয়েছে গায়কের সাক্ষাৎকার ও জীবনী। আর প্রতিটি গানের বিস্তারিত ইতিহাসও জানার সুযোগ আছে। গান সংগ্রহের সময়কার স্থিরচিত্রও যুক্ত আছে সাইটে।

 

ভবিষ্যৎ ভাবনা

পিয়াল বললেন, ‘আমাদের সংগ্রহে আরো অনেক লোকগান আছে; কিন্তু সেগুলো সব এখনো অনলাইন আর্কাইভে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। খুব দ্রুতই করার ইচ্ছা আছে। আর্কাইভ সাইট আরো শ্রোতাবান্ধব করার জন্যও কাজ চলছে। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি রুমের একটি অংশে গড়ে তোলা হয়েছে একটি স্টুডিও। প্রতি সপ্তাহে সেখানে লোকগানের আসর করার কথা ভাবছি। যাদের লোকগান নিয়ে আগ্রহ আছে, তাদের এই প্রকল্পে যোগ দেওয়ার সুযোগ আছে।’

 

একটি বিশেষ ঘটনা

২০১৫ সালের ঘটনা। ঈদের ছুটিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া গিয়েছিলেন পিয়াল। সেখানকার একটি পরিবারের সঙ্গে আগে থেকেই পিয়ালের পরিচয় ছিল। ওই পরিবারটির ছয় সদস্যই অন্ধ এবং তারা সবাই গান গায়। সেইবার পিয়ালের কাছে তারা সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিল। পিয়াল তাদের গান গাওয়ার দৃশ্য ভিডিও করে বিস্তারিত বর্ণনা আর সাহায্য পাঠাবার ঠিকানা দিয়ে নিজের ফেসবুকে প্রকাশ করেন। পিয়ালের সেই ফেসবুক পোস্টের কারণেই পরিবারটিকে ডাকা হয় জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদিতে।

 

গেয়েছেন পিয়ালও

পিয়াল নিজেও গান করেন। ২০০৮ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম অ্যালবাম। নাম ‘কোন রঙে ডাকো রে’। এরপর ২০০৯ সালে ‘মেঘরাজা’। ২০১০ সালে সারিগান নিয়ে প্রকাশ করেছেন ‘গাঙ্গে নয়া পানি’। আর শেষ অ্যালবামটির নাম ‘মন মন উড়াপাখি’। এটি মারফতি গানের অ্যালবাম। এ ছাড়া তিনি লোকগান নিয়ে বইও লিখেছেন।

 

গান নিয়েই বাঁচি

বিশ্ববিদ্যালয়ে এ প্রকল্প যোগ হওয়ার পরে পিয়াল গিয়েছেন ২৯টি এলাকায়। আর নিজে থেকে যেসব জায়গায় গিয়েছেন তার তালিকা অনেক দীর্ঘ। একবার নয়, কয়েকবার করেই গিয়েছেন। বললেন, ‘৩০ বছরে যে কাজে যেখানেই গিয়েছি, গানের খোঁজ করেছি। আবার গান খুঁজতে খুঁজতেও এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় চলে গেছি। যত দিন বাঁচি লোকগান নিয়েই বাঁচতে চাই।’

লোকগান অনলাইন আর্কাইভে সংরক্ষণের জন্য শ্যূটিং করছেন পিয়াল

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা