kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

তোমাদের ভালোবেসে

তিনি বধিরদের জন্য

আব্দুল হাই বখশ একটি বধির স্কুল গড়েছেন। প্রায় সাড়ে তিন দশক আগে। স্কুলটি বরিশালের বানারীপাড়ায়। সে সময় উপজেলা পর্যায়ে এমন স্কুল আর ছিল না। মুহাম্মদ শফিকুর রহমান জেনে এসেছেন আরো অনেক কথা

২৬ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তিনি বধিরদের জন্য

একমাত্র শিশুসন্তানটি কানে শোনে না। বলতে পারে না তার চাওয়া-পাওয়ার কথা। বাবা হিসেবে আব্দুল হাই বখশ খুব ব্যথিত। ভেবে পান না কী করবেন। ডাক্তার, কবিরাজ অনেক দেখালেন। কিছুতেই কিছু হয় না। তারপর নিজেই প্রশিক্ষণ নিলেন। জানলেন বধিরদের কথা শেখানোর কৌশল। সন্তানই হলো তাঁর প্রথম ছাত্র। দিনের পর দিন সন্তানকে কথা শেখানোর চেষ্টা করলেন। একদিন সন্তান কথা বলে উঠল। তিনি বুঝলেন, বধিরতা জয় করা সম্ভব। তারপর ঢাকা লেদার টেকনোলজি কলেজের অধ্যাপক তারিকুল ইসলামের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ১৯৮৪ সালের মার্চ মাসে তিন দিনের একটি বধির ক্যাম্প করলেন আব্দুল হাই বখশ। ১০৮ জন অংশ নেয় সে ক্যাম্পে। তিনি নিজেই ছিলেন প্রশিক্ষক। 

 

ভাবতে লাগলেন

গ্রামগঞ্জে কতই না গরিব বধির ছেলে-মেয়ে আছে। কে তাদের কথা শেখাবে। সুযোগ দেবে কে? তখনো কিন্তু অভিভাবকরা বিশ্বাস করত না—বধিররা কথা বলতে পারবে; বরং কিছু বোঝাতে গেলে দরজা লাগিয়ে দিত। বখশ কিন্তু হতাশ হননি; বরং লেগে থাকলেন। অবশেষে আব্দুল হাই নিজেই প্রতিষ্ঠা করলেন একটি বধির স্কুল। নাম রাখলেন হাইকেয়ার স্কুল, বানারীপাড়া। এটি ১৯৮৫ সালের কথা। ছাত্র মাত্র ১২ জন। তখন শুধু ঢাকা আর চট্টগ্রামেই বধির স্কুল ছিল। সে সময় স্কুলে অনুদান দিয়ে সাহায্য করেন খালিদ হক, তামজিদা জেসমিন, ডালিয়া, কিন্নারী জাহান শিমু প্রমুখ। আর হাইকেয়ার সোসাইটি দিয়েছিল ১২টি হিয়ারিং এইড।

 

কঠিন যাত্রা

খোলা আকাশের নিচে বধিরদের কথা শেখাতে থাকেন আব্দুল হাই বখশ। স্কুলের জন্য এর-ওর কাছে জায়গা চেয়ে বেড়ান। অবশেষে তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম ইকবালের চেষ্টায় স্কুলটি ১৯ শতাংশ জায়গা পায়। সেখানেই গড়ে তোলা হয় হাইকেয়ার স্কুলের ভবন। এবার তিনি ছাত্র-ছাত্রী বাড়ানোর কথা ভাবতে থাকলেন। অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির জন্য অভিভাবকসহ বধির ক্যাম্পের আয়োজন করলেন। উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ হাইকেয়ার সোসাইটি বানারীপাড়ার স্কুলটিকে স্বীকৃতি দেয়।   

 

আব্দুল হাই বললেন

স্কুলের অনেক খরচ। নিজের মান-সম্মানের কথা একটিবারও ভাবিনি। নিজের স্বার্থ, উন্নতি চাইনি। স্কুলটিকে সন্তানের মতো আগলে রেখেছি। চারজন শিক্ষক আর একজন আয়া আছে এখন। তাঁরা পঁচিশ জন ছাত্র-ছাত্রীকে কথা শেখান। তাঁদের বেতন-ভাতা সামান্য। ছাত্রাবাস নেই, দূর-দূরান্তের ছাত্র-ছাত্রীরা পড়তে পারছে না। বধিরদের কথা শেখানোর আধুনিক যন্ত্রপাতি তেমন কিছুই নেই। আমি নিজেও এখন অসুস্থ। তবে সুখের ব্যাপার, লুবনা নামের যে মেয়েটিকে কথা শেখানোর মাধ্যমে স্কুলের সূচনা; ১৯৯৯ সালে সে প্রথম বিভাগে এসএসসি পাস করে। পরে সে এই স্কুলে শিক্ষকও হয়।

 

তাঁর কর্মময় জীবন

আব্দুল হাই বখশ নিজে একজন সফল শিক্ষক। ১৯৭৩ সালে ২৫ জুন তিনি বানারীপাড়া বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। এই স্কুল থেকে ১৯৮৪ সালে চারজন ছাত্র প্রাথমিক বৃত্তি পায়। সে সময়ে এটি একটি সাড়া জাগানো ঘটনা। ১৯৮৫ সালে জেলাপর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষকও নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

ছবি : কিরণ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা