kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ফেসবুক থেকে পাওয়া

১৯ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফেসবুক থেকে পাওয়া

তুমি না হয় রাখাল হলে

ঘুম থেকে উঠে খেয়াল করি, পৃথিবী এগিয়েছে আরেকটু আর আমি পেছনে। হাত-মুখ ধুয়ে নাশতা খেতে খেতে ভাবি—সবার সঙ্গে তাল মেলাতে না পারলে টিকব কী করে। দুশ্চিন্তায় মগ্ন হয়ে চায়ে চুমুক দিই। টের পাই মায়ের উপস্থিতি। আম্মু তাঁর নরম হাতের স্পর্শে বোঝায়—জীবনে স্বস্তি ছাড়া কিছুই সঙ্গে থাকে না। গোটা পৃথিবীর কথা ছাড়ো। তুমি তাই করো, তাই হও, যাতে তোমার স্বস্তি। অনেকে হয়তো ভাবে, পৃথিবীতে রাখালের প্রয়োজন নেই, তবু ভালো লাগলে তুমি রাখালই হও। পৃথিবী যাক এগিয়ে, পেছনে না হয় তুমি নিজের জন্য আরেকটা জগৎ গড়ো।

তারপর ধীরে ধীরে বুঝতে পারি, একজন মা থাকলে মানুষ কখনোই পেছনে পড়ে না; বরং দারুণভাবে এগিয়ে যায়।

মিথিলা আকন্দ

গাজীপুর

 

একদিন তোমার চৌকাঠ পেরিয়ে যাব

আমার বিশ্বাস ছিল—পৃথিবীতে তোমার চোখের মতো সুন্দর চোখ আর কারো নেই। সেই চাহনি, সেই মায়া, না-বলা কথা, চোখের গভীরে ভেসে ওঠা আমার জন্য টলটলে নীলাভ পদ্মপাতা।

মনে হয়, ঠিক সূর্য ওঠার আগে যে শিশির বিন্দু ঘাসফুলে নেচে ওঠে হেলেদুলে, তোমার চোখে আমার জন্য লেখা প্রেমপিয়াসী কবিতার খাতা। মনে হয় শুধু আমার জন্যই লিখেছ তুমি। মুখ ফুটে না হলেও বলেছ বারবার—প্রেমময়ী,

এত দিন কোথায় ছিলে?

বিশ্বাস করো, আমার এখনো তেমনটাই মনে হয়! সত্যি অদ্ভুত, তাই না? আজকাল অদ্ভুত জিনিসগুলোর সঙ্গে বড় বেশি অভ্যস্ত হয়ে গেছি। অবশ্য শহুরে যান্ত্রিকতায় আমার মতো অনেকের ক্ষেত্রেও কথাটা খাটে। যাক সে কথা। তুমি কেমন আছ? কোথায় কী অবস্থায় আছ? আজও মনের কিনারায় উঁকি দেয় এলোমেলো প্রলাপ। রাত গভীরে পূর্ণিমার রক্তিম আভাও মিটিমিটি মনে হয়, সে আলোয় একাকিত্ব প্রহরে খুঁজে বেড়াই সেসব। কী অবুঝ আমি তাই না? আসলে আমি এমনই, তোমার ভাষায় ‘পাগলি’। আমি এমনটাই থাকব। হয়তো কোনো একদিন আমার আলতা রাঙা চরণ পেরিয়ে যাবে তোমার চৌকাঠ আর রেশমি চুড়ির রিনিক-ঝিনিক তোমার মনে বেহালার সুর তুলবে। আবারও ঠিক আগের মতো? যেমনটি তোমার চাহনি আমায় বলে দিত। পারবে ফিরিয়ে দিতে সেই দিনগুলো?

হাসিনা সাঈদ মুক্তা

ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট।

 

প্রিয় নন্দিতা

প্রাতরাশ শুরু হয় কাঠঠোকরার কাচের দেয়াল ভাঙার প্রত্যয়ে। সময়ের গতিধারা মহাকাল আঁকড়ে ধরে বিচ্ছেদের গহিন অরণ্য। এই যে সঙ্গীহীন কাঠঠোকরা তার প্রতিবিম্বের আঁচড়ে প্রতিনিয়ত ঠোকর দিচ্ছে ভাবনামৃতের কাচের দেয়ালে। আমরা মানুষরাও তাই করি। খুঁজে ফিরি অকাল রোদনে ম্রিয়মাণ কোনো এক সঙ্গীকে। আদৌ কি কাচের দেয়াল পদদলিত হবে ঘৃণায় উপচে পড়া প্রতিবিম্ব?

জানি না!

কোনো এক ভাবনায় দখিনের খোলা জানালায় কপাট লাগিয়ে পুব আকাশে অঞ্চল মেলে ধরেছিলে।

আজ বারবার কাঠঠোকরার অবাধ চেষ্টার কর্মফলস্বরূপ আমাকে নিমজ্জিত হতে হয় তোমার বিলাপে।

কি মহামারি চলছে ভাবনায়!

শতবর্ষ করুণায় আমি ও কাঠঠোকরা প্রতিবিম্ব দেখে আঁতকে উঠে কাচের দেয়ালে ওষ্ঠাঘাত করে যাচ্ছি।

এভাবে ঘুরে-ফিরে মহাকাল কলঙ্কিত করছি হরহামেশা—

চলো না, প্রতিবিম্ব চিনে নেই। লাঘব হোক আমাদের জন্মের দোষ। কাচের দেয়াল ভেঙে গড়ে তুলি শুভ্রতার আবেশ!

নন্দিতা এই হলো তোমার শেষ চিঠির উত্তর। বলেছিলাম না! একটা কাঠঠোকরা আমার ঘুম ভাঙানিয়া পাখি। তার একটা নামও দিয়েছিলাম। মনে নেই তো?

হা হা হা! আমরা ভুলে যাই। সব ভুলে যাই। আজ আর আমি তোমাকে কিছু মনে করিয়ে দেব না।

আজকাল তোমার চিঠির অপেক্ষায় আর সময় কাটে না। হিসাবের ডেবিট-ক্রেডিট সব ভুলে যাই। শুনলাম খুব ভালো গাইছো ইদানিং। তোমার খবর তো কাঠঠোকরা এসে দিয়ে যায় দিনের প্রথম প্রহরে।

তোমার নাম হোক, যশ হোক, শুভ কামনা রইল।

সেদিনের চিঠিতে যে কতগুলো কথা লিখেছি—শান্তি পাচ্ছিলাম না। আমার ভাবনাগুলোকে তোমার পর্যন্ত পৌঁছানোর ভয় এখনো কাটেনি। নতুন একটা চশমা নিয়েছি; কিন্তু কাচ পরিষ্কার করার জন্য এক টুকরো সুতির ওড়না নেই আশপাশে।

সৈয়দ হকের সেই কবিতার লাইন দুটোই আমার পছন্দের তালিকায় আজীবনই থেকে গেল বোধ হয়—

‘মানুষ এমন তয়,

একবার পাইবার পর নিতান্ত মাটির মনে হয় তার সোনার মোহর।’

পুনশ্চ : রাত জেগো না। চোখে কাজল দেওয়াটা কমে গেল, কিন্তু আমি তোমার চোখের কাজল দেখতেই আবার জন্মাতে চাই।

—ইতি

এইচ এস রাজন

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়

ত্রিশাল, ময়মনসিংহ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা