kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

ফেসবুক থেকে পাওয়া

নিজেকে বাজেভাবে উপস্থাপন করেছি

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বিভা, আমার অস্তিত্বজুড়ে থাকা একটি নাম। পরিচয় ফেসবুকে। তিন বছর আগের কথা। এইচএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট জানার সুবাদে মোবাইল নম্বর আদান-প্রদান। সামান্য কিছু পয়েন্টের জন্য ওর এ+ মিস হয়েছিল। আমাকে ফোন করে সে কী কান্নাকাটি। কান্নাকাটি দেখে ওর প্রতি কেমন যেন একটা মায়া কাজ করছিল। সেদিনের পর থেকে সময়-অসময়ে ফোন। আর অজস্র কথার ফুলঝুরি। যতই দিন গেছে ততই আমি যেন ওর প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ছি; কিন্তু একটা ভাবনা ছিল, আর যা-ই হোক ওর প্রেমে পড়া যাবে না। তারপর থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে ওর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রাখার চেষ্টা করতাম; কিন্তু কোনোভাবেই ওর সঙ্গে যোগাযোগ না করে থাকতে পারতাম না। অবশেষে একদিন সাহস করে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বসি। রাজি হয়নি বন্ধুত্বের দোহাই দিয়ে। মাসখানেক পর রাজি হলো; কিন্তু কিছুদিন যেতেই ওর আর আমার মধ্যে কিছু একটা পার্থক্য বুঝতে পারি। আর সেটা হলো দুজনের সামাজিক অবস্থান। ও উচ্চবিত্ত পড়িবারের মেয়ে, আর আমি তার উল্টোটা। যতই সময় যাচ্ছে, ততই ব্যাপারটা আমার কাছে পানির মতো পরিষ্কার হতে লাগল। ওর সঙ্গে আমার সম্পর্ক পারিবারিক ও সামাজিক অবস্থান থেকে উপযুক্ত নয়। তা ছাড়া আমরা দুজন একই ক্লাসের। তারপর থেকে বিভিন্ন সময় নানা অজুহাতে ওর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিতাম। আর চাইতাম এখানেই সম্পর্কের ইতি ঘটুক। কিন্তু নিজেকে সামলে রাখতে পারিনি। বুঝতে পারলাম আমার পক্ষে ওকে ছেড়ে থাকা সম্ভব নয়। বাধ্য হয়ে শুরু করলাম এক নাটক। নিজেকে বাজেভাবে উপস্থাপন করা শুরু করলাম ওর কাছে। যাতে ও নিজ থেকে আমাকে ছেড়ে চলে যায়। যেমন আমি সিগারেট খাই, ড্রিংক করি, পড়াশোনা ঠিকমতো করি না, ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া করি না ইত্যাদি। অনার্স প্রথম বর্ষে ফার্স্টক্লাস পেয়ে পাস করেছিলাম; কিন্তু ওকে বলেছিলাম দুই বিষয়ে ফেল করেছি। ও অনেক চেষ্টা করেছে আমাকে ভালো পথে ফিরিয়ে আনতে। কারণ ওকে বিশ্বাস করাতে পেরেছিলাম আমি বাজে পথে চলে গেছি। অবশেষে আমাদের সম্পর্কের ইতি ঘটে। তবে সবশেষে আমি ওকেই দোষারোপ করেছিলাম, ‘তুমি আমাকে ছেড়ে চলে গেছ।’ এতটা পথ পাড়ি দিয়ে এসে আজও মনে হয়, আমি ওকেই ভালোবাসি।

শাহীন ইসলাম

সাইনবোর্ড, নারায়ণগঞ্জ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা