kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ বৈশাখ ১৪২৮। ১১ মে ২০২১। ২৮ রমজান ১৪৪২

ইতিহাসে লিপু

২৩ জুন আমেরিকান হিস্ট্রি চ্যানেলে শুরু হয়েছে রিয়াল   

১১ জুলাই, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



ইতিহাসে লিপু

আসল নাম নিজামউদ্দিন আউলিয়া। ডাক নাম লিপু। ১৯৬৮ সালের অক্টোবর মাসে তাঁর জন্ম, ঢাকায়। পরিচিতি পেয়েছেন বাংলাদেশি অটোমোটিভ প্রকৌশলী হিসেবে। তিনি গাড়ির নকশাও করেন, আবার কোচ বিল্ডারও। বড় হয়েছেন সৌদি আরবে। বাবা সেখানে কর্মরত ছিলেন। ১৬ বছর বয়সে বাবার সঙ্গে একটা মোটর শোতে গিয়েছিলেন লিপু। বাবা কিনে দিয়েছিলেন একটি জাপানি মাজদা গাড়ি। তো শুরু হলো লিপুর গাড়ির জীবন। ভাই-বোনদের কেউ ক্রিকেট খেলেন, কেউ ভলিবল। কিন্তু লিপুর রইল গাড়ি। তিনি গাড়ি খুঁজতে শুরু করেন। দেখেন এর ইঞ্জিন, আসনবিন্যাস, মালামাল রাখার জায়গা। তিনি একটি গাড়ির সঙ্গে আরেকটি গাড়ির তুলনা করে দেখতে থাকেন। বেশি দামি গাড়ির নকশা কেমন হয়, কেমন হয় কম দামি গাড়ির নকশা। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেন কমবেশি ১৪ ফুট বাই ৬ ফুট দৈর্ঘ্য-প্রস্থের একটা জায়গায় কিভাবে মানুষের, জিনিসপত্রের, ইঞ্জিনের জায়গা হয়ে যায়? এর মধ্যেই আবার কত না নকশা! টয়োটা এক রকম করে তো মাজদা, হোন্ডা আরেক রকম। রোলস রয়েস, মার্সিডিজ যায় আরো দূর। ফেরারি, অডি, ল্যাম্বরজিনি তো দেখার মতো! আবার আছে ফর্মুলা ওয়ানের রেসিং কার।

লিমো-বিল

১৯৯৪ সালে লিমো-বিল নামে একটি গাড়ি বানিয়ে ফেললেন লিপু। এটি তাঁর স্বপ্নের ল্যাম্বরজিনি কুনটাখের একটি সংস্করণ। যদিও তিনি তখনো গাড়িতে পেইন্ট করতে জানতেন না। যা-ই হোক, ২০০০ সালে লিপু ঢাকায় নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। ল্যাম্বরজিনি ডায়াব্লোর একটি সংস্করণ বানিয়ে আলোড়ন তোলেন। কাছাকাছি সময়ে তিনি একটি ডাইহাটসু ক্যারাড গাড়িকে 'লিমো-বিল' এ রূপান্তরিত করেন। খরচ হয়েছিল আড়াই হাজার পাউন্ড।

লিপু যা করেন

আসলে স্বপ্নের গাড়ি গড়েন লিপু। সাধারণ নকশার গাড়িকে তিনি অসাধারণ নকশার গাড়িতে রূপান্তরিত করেন। ফোর্ড, টয়োটা বা হোন্ডার বিভিন্ন মডেলের পরিত্যক্ত বা পুরনো গাড়িগুলোকে তিনি ল্যাম্বরজিনি বা ফেরারির চেহারা দেন। কিংবা প্রকৃতির কোনো ফর্মে নতুন করে গড়েন পুরনো গাড়ি। এগুলো করেনও খুব কম খরচে। কোনো এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, অত দামের গাড়ি কিনতে পারি না, তাই তৈরি করি। লিপু গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে জেনারেল মোটরসের ইনস্টিটিউটে। সেখানে অনেক রকম কারিগরি দেখেন ও শেখেন। অতঃপর নিজের একটা ওয়ার্কশপ তৈরি করেন। কিছু অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেন। তিন বছর পর বাংলাদেশে ফিরে আসেন এবং পুরনো কিছু ডাইহাটসু ও টয়োটা নতুন করে সাজানোর অর্ডার পান।

জানাজানি হয়ে যায়

২০০৪ সালে লিপু ইন্টারসেকশন ম্যাগাজিনের নজরে আসেন এবং বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পান। যুক্তরাজ্যের ঢাকা সিটি এক্সিবিশনেও নিজেকে তুলে ধরার সুযোগ পান লিপু। ২০০৬ সালে ডিসকভারি চ্যানেল লিপুকে প্রস্তাব দেয় আট সপ্তাহে দুটি গাড়ি তৈরি করে দিতে। ককনি কার মেকানিক বার্নি ফাইনম্যানের সাহায্যে লিপু তা সাত সপ্তাহেই সম্পন্ন করেন। ওই বছরের এপ্রিল মাসে প্রথম গাড়িটি বাংলাদেশ-চায়না কনফারেন্স সেন্টারে আয়োজিত ঢাকা মোটর শোতে প্রদর্শিত হয়। এটি ছিল একটি স্পোর্টস কার, নাম এম টোয়েন্টিসিক্স। ওটি বানানো হয়েছিল ২২ বছরের পুরনো একটি টয়োটা স্প্রিন্টার থেকে। বানাতে লিপু সময় নিয়েছিলেন চার সপ্তাহ। দ্বিতীয় গাড়িটি প্রদর্শিত হয় বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে মে মাসের ৭ তারিখে। ১৯৭৯ মডেলের একটি টয়োটা ক্রাউনকে তিনি এমন চেহারা দিয়েছিলেন যে চেনাই যাচ্ছিল না।

ইংল্যান্ডে আর্টিস্ট ইন রেসিডেন্স

২০০৬ সালে ৬ জুন লিপুকে লন্ডনে একটি গাড়ি রূপান্তর প্রকল্পে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তিনি রিচ মিক্স সেন্টারের আর্টিস্ট ইন রেসিডেন্স হন তিনি। দুই মাস ধরে ফোর্ডের একটি ক্যাপরি গাড়িকে হ্যান্ডক্রাফটিং করেন, যেটি পরে সামার শোতে একটি প্রামাণ্যচিত্রের সঙ্গে প্রদর্শিত হয়। সে প্রামাণ্যচিত্রে লিপু কিভাবে গাড়িটি তৈরি করেছেন তা দেখানো হয়। ২০০৭ সালের মে মাসে লিপুর 'অ্যাঞ্জেল কার' ব্রিক লেনের বৈশাখী মেলায় প্রদর্শিত হয়। ফাইনম্যানের সহযোগিতায় লিপু এ গাড়িটি তৈরি করেন হোয়াইট চ্যাপেল রেলওয়ে খিলানের নিচে মাত্র তিন সপ্তাহে।

ডিসকভারি টিভি শো

২০০৭ ও ২০০৮ সালে ডিসকভারি লিপুর কার-কাস্টমাইজিং নিয়ে একটি জোড়া শো তৈরি করে। প্রথমটি ছিল ঢাকার বিজনেস নিয়ে নাম, বাংলা বাঙ্গারস। দ্বিতীয়টির নাম ছিল চপ শপ : লন্ডন গ্যারেজ। এসব শোতে ফাইনম্যান তাঁর সঙ্গী ছিলেন।

লিপু এখন আমেরিকায়

বিয়ে করেছেন দাদার মতে। দাদার বয়স ১০০। স্ত্রীর নাম দিপাই। দাদাই খুঁজে বের করেছেন। ২০১৩ সাল থেকে তাঁরা বসবাস করছেন আমেরিকার ইডাহোতে। তাঁদের তিন সন্তান। লিপু কাগজে নকশা করেন না বা নোট নেন না। তিনি প্রেরণা খুঁজে নেন অদ্ভুত জায়গা থেকে, গাছ থেকে, ধাতু থেকে বা ঈগল পাখি থেকে।

স্টিভ পিটবুল

তিনি 'স্টিভস পিটবুল মোটরস ইনকরপোরেটেড' নামে একটি অটোমোটিভ গ্যারেজের মালিক। এটি নিউ ইয়র্কের লং আইল্যান্ডে। ১৭ বছর বয়সে স্টিভ গ্যারেজটি চালু করেন এবং একাই একে সাফল্য পাইয়ে দেন। তিনি একজন মাস্টার মেকানিক। গতি আর শক্তি নিয়ে আগ্রহী। স্টিভ পুরনো জিনিসপত্র ফেলে দেন না; বরং সেগুলোকে আরো নতুন করে গড়ে তোলায় মনোযোগী। তিনি রেসে অংশ নিতে ভালোবাসেন এবং অনেক ট্রফি জিতেছেন। স্ত্রীর নাম প্যাম। তাঁদের তিন সন্তান। তাঁর আছে চারটি রেসিং কার, দুটি রেসিং বোট এবং একটি কুকুর। তিনি খুব দ্রুত কথা বলেন। পিটবুল উপাধি পেয়েছেন হৃদয় বড় বলে। তাঁর আসল নাম স্টিভ ট্রিমবলি।

লিপু অ্যান্ড পিটবুল শো

এটি একটি রিয়ালিটি শো। এতে লিপু গাড়ির নকশা করেন আর পিটবুল কারিগরি দিকটি সামলান। প্রথম এপিসোডে তাঁরা ১৯৮১ সালের একটি 'ক্যামারো' ধরেন। তাদের কাছে চ্যালেঞ্জ ছিল জেনারেল মোটরসের এই দ্বিতীয় প্রজন্মের শেভ্রলেকে কিভাবে আরো আধুনিক করে তোলা যায় ও সাধ্যের মধ্যে আনা যায়। ৩০ জুনের শোর নাম ছিল ওয়াইল্ড রাইড। এখানে তাঁরা ১৯৭২ সালের একটি ফোর্ড র‌্যাঞ্চেরোকে একটি স্যুপড আপ (ঘোড়াকে দ্রুতগামী করার জন্য ইনজেকশন দেওয়ার প্রক্রিয়া) গাড়িতে রূপান্তরিত করেন। গাড়িটি নিয়ে এসেছিলেন ডিইউবি ম্যাগাজিনের সম্পাদক মাইলস কোভাকস। গাড়িটি ছিল তাঁর বাবার। গাড়িটি মাইলসের মনমতো তৈরি হওয়ায়, মানে আপ টু দ্য মার্কস হওয়ায় নিউ ইয়র্ক মোটর শোতে প্রদর্শিত হবে। ৭ জুলাইয়ের শোতে তাঁরা একটি জাপানিজ জাঙ্ক গাড়িকে আমেরিকান মাসল কারে রূপান্তরিত করেন। ১২, ১৩ ও ১৮ জুলাই ৩ নম্বর এপিসোডের ধারাবাহিকতা চলতে থাকবে। এপিসোড ৪ শুরু হবে ২৮ জুলাই। নাম আমেরিকান ক্রোম।

এক নজরে লিপু অ্যান্ড পিটবুল

ধরন : রিয়ালিটি শো

পরিচালক : শন লুইস ও জো বারকার

শ্রেষ্ঠাংশে : নিজামউদ্দিন 'লিপু' আউলিয়া ও স্টিভ 'পিটবুল' ট্রিম্বলি

সংগীতকার : এডওয়ার্ড হোয়াইট

দেশ : যুক্তরাষ্ট্র

ভাষা : ইংরেজি

সিজন : ১

নির্বাহী প্রযোজক: স্যাম মেনার্ড

লোকেশন : নাসাউ কাউন্টি, নিউ ইয়র্ক

সিনেমাটোগ্রাফার : বেন জয়নার

প্রতি এপিসোড : ৬০ মি.

প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান : র প্রোডাকশনস

ডিস্ট্রিবিউটর : এ অ্যান্ড ই টেলিভিশন নেটওয়ার্কস

অরিজিনাল চ্যানেল : হিস্টরি

অরিজিনাল রিলিজ : জুন ২৩, ২০১৫ থেকে চলমান



সাতদিনের সেরা