kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সেই প্রতিবাদী নারীকে পেটালেন এমপি আয়েনের লোকজন

প্রতিবাদে উপজেলা চত্বরেই অনশনে বসেন হাবিবা। এরপর তাঁকে আবারও পেটাতে পেটাতে মোহনপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে নিয়ে আটকে রাখা হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

২৪ নভেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিনের বিরুদ্ধে দখলদারি, নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলনসহ গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ায় সাবেক ইউপি সদস্য ও উপজেলা কৃষক লীগের মহিলা সম্পাদক শেখ হাবিবাকে পেটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার দুপুরে তাঁকে মোহনপুর উপজেলা চত্বরে এমপি আয়েন উদ্দিনের সাবেক পিএস একরামুল হক বিজয়ের নেতৃত্বে পেটানো হয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে উপজেলা চত্বরেই অনশনে বসেন হাবিবা। এরপর তাঁকে আবারও পেটাতে পেটাতে মোহনপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে নিয়ে আটকে রাখা হয়।

বিজ্ঞাপন

পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে একই ঘটনার জেরে হাবিবাকে দুই দফা পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করিয়ে নির্যাতন করার অভিযোগও রয়েছে সংসদ সদস্য আয়েনের বিরুদ্ধে।

গতকাল হাবিবা জানান, তিনি দুপুরে উপজেলা চত্বরে এলে বিনা কারণে আয়েন উদ্দিন ও তাঁর দুলাভাই উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুস সালামের উপস্থিতিতে এনামুল হক বিজয় তাঁকে পেটাতে থাকেন। হাবিবা এর প্রতিবাদ জানিয়ে সেখানেই অনশনে বসে পড়েন। পরে বিকেলে আবারও বিজয়ের নেতৃত্বে কয়েকজন এসে টেনেহিঁচড়ে এবং পেটাতে পেটাতে তাঁকে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে নিয়ে আটকে রাখা হয়। এ সময় তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় উদ্ধার হন হাবিবা। এরপর চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সুরঞ্জিত সরকার বলেন, ‘এমপি আয়েন উদ্দিনের দখলসহ বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ায় এর আগে হাবিবার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করানো হয়। সে মামলায় হাবিবাকে পুলিশ দিয়ে আটকে নির্যাতন করা হয়েছিল। তাঁকে দুই দফা কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর আবারও বুধবার দুপুরে এমপি আয়েন উদ্দিনের উপস্থিতিতেই মারপিট করা হয়। ’

এ বিষয়ে আয়েন উদ্দীনের সাবেক পিএস ও চাচাতো ভাই এনামুল হক বিজয় বলেন, ‘হাবিবাকে আমি কি মাইরবো, আমাকেই কামড় দিয়ে খামছে আহত করেছে। ’ এ কথা বলেই ফোন কেটে দেন বিজয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহনপুর থানার ওসি সেলিম বাদশা বলেন, ‘আমি আইজিপি স্যারের অনুষ্ঠানে শহরে আছি। এ বিষয়ে অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। ’

জানতে চাইলে এমপি আয়েন উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নাই। কারা হাবিবাকে মেরেছে বলতে পারব না। ’



সাতদিনের সেরা