kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ধর্মপাশায় জলমহাল ইজারায় এমপির বাধা

শামস শামীম, সুনামগঞ্জ   

৭ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ধর্মপাশায় জলমহাল ইজারায় এমপির বাধা

একটি জলমহাল ইজারা দিতে সুনামগঞ্জ-১ (ধর্মপাশা-তাহিরপুর-জামালগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মোয়াজ্জেম হোসেন রতন নিষেধ করেছেন। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্যও। গত মঙ্গলবার ধর্মপাশা উপজেলা জলমহাল কমিটির সভায় মহালটি খাস কালেকশনে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এতে সরকার বিপুল অঙ্কের রাজস্ব বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ধর্মপাশা উপজেলা প্রশাসন ও একাধিক মৎস্যজীবী সমিতির নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জলমহাল নীতিমালা অনুযায়ী চলতি বঙ্গাব্দের ১ বৈশাখের মধ্যে উপজেলা প্রশাসন জলমহাল ইজারা দেওয়ার কথা। ধর্মপাশায় ২০ একরের নিচে জলমহালগুলো ১৪২৯-১৪৩১ বাংলা সনের জন্য ইজারা দিতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। জালধরা জলমহালের পারের দক্ষিণ সলপ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির পক্ষে সমিতির সম্পাদক সৈয়দ সবুজ আবেদন করেন। পরবর্তী সময়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এবং উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার মাধ্যমে সরেজমিনে তদন্ত করেন। গত ২৮ এপ্রিল জলমহাল ইজারার জন্য সব যোগ্যতা থাকায় দক্ষিণ সলপ মৎস্যজীবী সমিতির পক্ষে প্রতিবেদন দেন। ইজারা বিষয়ে গত ৪ আগস্ট উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলার জালধরা, বারিয়া নদী জলমহাল ও কোদালিয়া পেকুয়া দেবুয়ার খাল জলমহালের বিষয়ে পুনঃ তদন্তের সিদ্ধান্ত হয়।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পুনঃ তদন্তে যোগ্য ও জলমহালের তীরবর্তী সমিতি হিসেবে ইজারা পাওয়ার পক্ষে গত ১৩ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন দেওয়া হয়। পুনঃ তদন্তের প্রতিবেদন জমা হওয়ার পর উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি কমিটি জরুরি সভা গত ১৫ সেপ্টেম্বর হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু এমপি মোয়াজ্জেম উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে সভায় উপস্থিত থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেন। ফলে প্রশাসন ওই সভা স্থগিত করে। গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এমপি মোয়াজ্জেম সভার শুরুতেই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কার কথা বলে জালধরা জলমহালটি ইজারা দেওয়ার বিরুদ্ধে মতামত দেন। ইজারা দেওয়ার বদলে তিনি খাস কালেকশন দেওয়ার পরামর্শ দেন। সভায় উপস্থিত ধর্মপাশার ইউএনও ও কমিটির সভাপতি সরকারের রাজস্ব হারানোর দিকে ইঙ্গিত করেন। জলমহাল আইনের ব্যত্যয় হওয়ার আশঙ্কার কথা অবগত করে এমপির কথায় অসম্মতি জানান। কিন্তু এমপি তাঁর সিদ্ধান্ত থেকে নড়চড় হননি। এতে বিব্রত হয়ে ইউএনও বিষয়টি জেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেনকে ফোনে অবগত করেন এবং পরামর্শ চান। ফলে জলমহালটির ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।

দক্ষিণ সলপ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সম্পাদক সৈয়দ সবুজ বলেন, ‘এই মহাল ইজারা হলে সরকার এক লাখ ৩৩ হাজার টাকা রাজস্ব পেত। এমপি এটি পছন্দের লোকজনকে খাস কালেকশনে দিতে চাইছেন। এতে সরকার পাবে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। ’

উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ইউএনও মো. মুনতাসির হাসান পলাশ বলেন, ‘স্থানীয় এমপির আপত্তির মুখে আমরা এটি ইজারা দিতে পারছি না। ’

এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, ‘গণ্ডগোলের আশঙ্কায় আমি ইজারার বদলে খাস কালেকশনে দিতে বলেছি। ’ খাস কালেকশনে গেলে গণ্ডগোল হবে না—এমন নিশ্চয়তা কিভাবে দেওয়া সম্ভব জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি দুই পক্ষকে মিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি। ’

 



সাতদিনের সেরা