kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০২২ । ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

দেশে ১৮ লাখ বস্তিবাসী

জহিরুল ইসলাম   

৩ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দেশে ১৮ লাখ বস্তিবাসী

গৃহহীনমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে সরকার। মুজিববর্ষে শতভাগ গৃহহীনমুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যয়ে সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের এ ব্যাপারে তত্পরতা রয়েছে। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর আশা, ২০২৩ সালের শুরুতে গৃহহীনমুক্ত দেশ ঘোষণা করতে পারবে সরকার।

প্রাথমিক জনসংখ্যা ও আবাসন শুমারি ২০২২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে প্রায় ১৮ লাখ মানুষ বস্তিতে বাস করে এবং ২২ হাজার ১৮৫টি পরিবার গৃহহীন।

বিজ্ঞাপন

প্রায় আট লাখ ৮৪ হাজার বস্তিবাসী ঢাকায় এবং ৩৬ হাজার ৪৯১ বস্তিবাসী ময়মনসিংহে বাস করে। ভাসমান মানুষের সংখ্যাও ঢাকায় সবচেয়ে বেশি, ৯ হাজার ৪৭০ জন, যেখানে ময়মনসিংহে ৬৯৬ জন। এমন পরিস্থিতিতে আজ পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব বসতি দিবস’। এবারের প্রতিপাদ্য ‘বৈষম্য হ্রাসের অঙ্গীকার করি, সবার জন্য টেকসই নগর গড়ি’।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অপরিকল্পিত শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ঢাকার আবাসনের ওপর ক্রমাগত চাপ ফেলেছে, যা একই সঙ্গে ঢাকামুখী অভিগমনেরও অন্যতম কারণ। ফলে সার্বিকভাবে সবার জন্য মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। নিম্নমধ্যবিত্ত আয়ের লোকদের জন্য ভূমির সংস্থান করা ও পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেলে আবাসন উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। ’

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আবাসন সংকট নিরসনে দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ফ্ল্যাট ও প্লটের কিছু প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এসব প্রকল্প স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) যে শহরগুলো করছে, সেখানেও একটা জোন রাখা হচ্ছে, যাতে স্বল্প আয়ের মানুষ নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী বাসা নিয়ে থাকতে পারে। দেশের ১০০টি ইকোনমিক জোনের আশপাশে খালি জায়গায় প্রকল্পের পরিকল্পনা চলছে।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, দেশে কোনো গৃহহীন পরিবার থাকবে না। বিষয়টি বাস্তবায়নে আমরা সর্বোচ্চ কাজ করে যাচ্ছি। এর মধ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যেমন ভূমিহীনদের নিয়ে প্রকল্প তৈরি হচ্ছে, তেমনি রাজধানীর মানুষের কথাও ভাবা হচ্ছে। ’

সচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে প্রকৃত গৃহহীনরা জমিসহ ঘর পাচ্ছে। মিরপুরে পাঁচ শতাধিক বস্তি পরিবারের জন্য ফ্ল্যাট করে দিয়েছি, যেখানে বস্তির ভাড়ার কাছাকাছি ভাড়ায় বস্তিবাসী থাকতে পারছে। এ ছাড়া দুই সিটি করপোরেশন পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্যও আবাসনের ব্যবস্থা করেছে। ’

আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প অফিস সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী দেশে ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবার ছিল দুই লাখ ৬১ হাজার ৬৩০টি। মুজিববর্ষ উপলক্ষে পুনর্বাসিত করা হয়েছে দুই লাখ ১৩ হাজার ৮৯৮টি পরিবারকে (আগস্ট, ২০২২ পর্যন্ত)। আরো ৪৭ হাজার ৭৩২টি পুনর্বাসনযোগ্য ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবার রয়েছে। এ ছাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে এ পর্যন্ত পাঁচ লাখ ৩৮ হাজার ১৩৯টি (১৯৯৭ থেকে আগস্ট, ২০২২), ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে ৭২ হাজার ৪৫২টি, গৃহায়ণ তহবিল থেকে ৮৮ হাজার ৭৮৬টি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে চার হাজার ২৩৭টি, নির্বাহী সেল, পিএমও থেকে সাত হাজার ৮০৯টি এবং দুর্যোগ মন্ত্রণালয় ২৮ হাজার ৬০৯টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করেছে। এই হিসাবে সর্বমোট সাত লাখ ৪০ হাজার ৩২টি পরিবারকে ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সরকার গৃহহীন ও বস্তিবাসীদের নিয়ে ভাবলেও মধ্যবিত্তদের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে মনে করছেন অনেকে। গতকাল রবিবার এক সরকারি কর্মকর্তার গাড়িচালক আব্দুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঢাকায় যে কাজই করি না কেন, থাকতে হয় ভাড়া বাসায়। কম টাকায় নিজের একটি বাসস্থানের সুযোগ পেলে অনেক ভালো হতো। যে টাকা বেতন পাই, তা দিয়ে তো আর ফ্ল্যাট কিনে থাকতে পারি না। ’

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা আজহার উদ্দিন বলেন, ‘গরিব হলে সরকারের দেওয়া ঘর পেতাম। বড়লোক হলে কিনে নিতে পারতাম। এমন একটা পরিস্থিতিতে আছি, না পারি কিনতে, না পারি নিতে। ’

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনার (ড্যাপ) প্রকল্প পরিচালক আশরাফুল ইসলাম বলেন, এবারের ড্যাপে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে, পাশাপাশি নিম্ন আয়ের লোকদের জন্য আবাসন ইউনিট তৈরি করা হয়েছে।

 



সাতদিনের সেরা