kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

খাবার ও পানির কষ্টে মেসে থাকা শিক্ষার্থীরা

কৌশিক দে, খুলনা   

২ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খাবার ও পানির কষ্টে মেসে থাকা শিক্ষার্থীরা

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী পাঁচ সহস্রাধিক। তিন অনুষদের ২০টি বিভাগ ও তিনটি ইনস্টিটিউটের সবুজে ঘেরা ক্যাম্পাসে দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে বাড়ছে না আবাসন। অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থীকে থাকতে হচ্ছে ক্যাম্পাসের বাইরে।

বিজ্ঞাপন

এতে আবাসনে তাঁদের বাড়তি খরচ হচ্ছে। বিড়ম্বনার শিকারও হতে হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রাবাস ফজলুল হক হল। ১৯৭৪ সালে স্থাপিত এই ছাত্রাবাসে আসনসংখ্যা ১৭। ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত লালন শাহ হলে আসন ৩০০টি। ১৯৭৭ সালে স্থাপিত খান জাহান আলী হলে আসন ৩০০টি। ১৯৮৪ সালে স্থাপিত ড. এম এ রশিদ হলে আসন ১৭৫টি। ২০০০ সালে মেয়েদের জন্য স্থাপিত রোকেয়া হলে আসনসংখ্যা ৪০০। ২০০৬ সালে স্থাপিত অমর একুশে হলের আসন ৫৫০টি। সর্বশেষ ২০১৩ সালে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে আসন ৫৫০টি। সব মিলিয়ে এসব ছাত্রাবাসে আসনসংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। কিন্তু বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা পাঁচ হাজার ২৪০ জন। নতুন শিক্ষাবর্ষে আবার যুক্ত হবেন এক হাজার ৬৫ জন। ফলে অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থীকে থাকতে হচ্ছে বাইরে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আবীর হোসেন বলেন, ‘ছাত্রাবাসে আসন পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। দুই বছরে এখনো আসন মেলেনি। বাইরের মেসে থাকতে হচ্ছে। ঘরভাড়া, বিদ্যুৎ-পানি ও খাওয়া খরচ মেটাতে জনপ্রতি ৮-৯ হাজার টাকায়ও হচ্ছে না। ক্যাম্পাসে থাকলে ক্লাস-প্রাকটিক্যালে অংশ নেওয়া সহজ; কিন্তু সেটি তো হচ্ছে না। এরপর তো নিরাপত্তাহীনতা আছে। ২০১২ ও ২০১৮ সালেও বহিরাগতদের কারণে কয়েকবার সংঘর্ষ ও ক্যাম্পাস বন্ধ হয়েছিল। ’

ফুলবাড়ীগেটে মেসে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্র নীহার রঞ্জন জানান, তাঁরা কয়েকজন বন্ধু মিলে বাসা ভাড়া নিয়েছেন। সেখানে প্রায়ই পানিসংকট হয়। বাড়িওয়ালাকে অভিযোগ দিলে বাড়ি ছেড়ে দিতে বলেন। ব্যাচেলর বাসা ভাড়া পাওয়াও কষ্টকর। রান্নার লোক, পানি দেওয়ার লোক পাওয়া যায় না। সমস্যার শেষ নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. এম রশিদ হলের বাসিন্দা রাফসাদ রেজয়ানুল হক রিফাত বলেন, ‘কুয়েটের আবাসন অবস্থা ভালো। এখানে ব্যাংকের মাধ্যমে মিল অনুযায়ী বিল পরিশোধ করতে হয়। টাকার চিন্তা করতে হয় না। এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকায় মাসের খাওয়া হয়ে যায়। ’

একই হলের বাসিন্দা শাওন জানান, হলটিতে বাহ্যিক ব্যবহারের জন্য নোনা পানি তাঁদের বিড়ম্বনায় ফেলছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের রাগীব হাসান বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশের দিক থেকে তাঁদের ছাত্রাবাসটি ভালো। এখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হলেও পরিবেশ স্বাভাবিক আছে।

আবাসনসংকট প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মিহির রঞ্জন হালদার কালের কণ্ঠকে বলেন, শিক্ষার্থীদের আবসানসংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮ সালে প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু করোনাসহ বিভিন্ন কারণে প্রকল্পগুলো ঠিকমতো এগোয়নি। এরই মধ্যে ১০ তলা দুটি হল নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ শেষ হয়েছে। দুটি হলের আসনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য সম্প্রসারণকাজ শেষ হওয়ার পথে। সব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আবাসনসংকট অনেকটাই কমে আসবে।



সাতদিনের সেরা