kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

আবর্জনার স্তূপে নাকাল নগরবাসী

তৌফিক হাসান   

২ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আবর্জনার স্তূপে নাকাল নগরবাসী

রাজধানীর নতুনবাজার ময়লার ডিপো সংস্কারকাজের জন্য বন্ধ থাকায় গুলশানে মার্কিন দূতাবাসের পাশের রাস্তা বন্ধ করে ময়লা ফেলা হচ্ছে। গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘দুর্ভোগের কথা আর কী বলব! রাস্তায় হাঁটাই তো মুশকিল। একদিকে গাড়ির চাপ, অন্যদিকে ময়লার স্তূপ। প্রচণ্ড দুর্গন্ধে চলাচল করা দায়!’ অফিসে যাওয়ার সময় এভাবে দুর্ভোগের বর্ণনা দিলেন রাজধানীর বনশ্রীর ‘জি’ ব্লকের বাসিন্দা ইয়াসিন আরাফাত।

আরাফাতের মতো হাজারো মানুষ প্রতিদিন বনশ্রী এলাকায় যাতায়াত করে।

বিজ্ঞাপন

রাস্তার পাশে ছড়িয়ে পড়া আবর্জনার স্তূপের অসহ্য দুর্গন্ধের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয় তাদের। বৃষ্টি হলে তো কথাই নেই, দুর্ভোগ বেড়ে যায় বহুগুণ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাজধানীর মেরাদিয়া থেকে রামপুরা  সেতু পর্যন্ত তিনটি এসটিএস (ময়লা স্তূপ করে রাখার স্থান) রয়েছে। বনশ্রীর ‘জি’ ব্লকে এবং রামপুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুটি পূর্ণাঙ্গ এসটিএস থাকলেও বনশ্রীর ‘বি’ ব্লকে রয়েছে খালি দুটি কনটেইনার। এগুলো এসটিএস হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসটিএসগুলোর সামনেই ভ্যান থেকে শুকনা ও ভেজা ময়লা আলাদা করা হচ্ছে। এতে বেশির ভাগ ময়লা রাস্তায় পড়ে স্তূপ হয়ে যাচ্ছে।

ময়লা পৃথক করার কাজ এসটিএসের ভেতরে করার কথা থাকলেও বাইরে কেন করা হচ্ছে—জানতে চাইলে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী হজরত আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতিদিন যে পরিমাণ ময়লা আসে, তা  ভেতরে সরানো সম্ভব হয় না। ’

শুধু বনশ্রী নয়, একই অবস্থা রাজধানীর আরেকটি ব্যস্ত সড়ক ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে। সন্ধ্যা হলেই এই রাস্তা অনেকটা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে ময়লার কারণে। একদিকে গাড়ির চাপ, অন্যদিকে রাস্তা আটকে ময়লা সরানোর কাজ করেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। শুধু ময়লা সরানোর কাজ নয়, বিপরীত দিক থেকে ময়লার ভ্যানও আসতে থাকে। এতে পুরো রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে ময়লা-আবর্জনা। দুর্ভোগের শিকার হয় এই রাস্তা ব্যবহারকারীরা।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩২টিতে এসটিএস নির্মাণ করা হয়েছে। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৫৬টিতে এসটিএস রয়েছে।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, এখনো উত্তর সিটির ২২টি এবং দক্ষিণ সিটির ১৯টি ওয়ার্ডে বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা তৈরি হয়নি। এতে এসব ওয়ার্ডের বর্জ্য পাশের ওয়ার্ডের এসটিএসে নিয়ে আসা হয়। নির্মাণাধীন এসটিএসগুলোর সামনে ময়লার ভ্যানের জট লেগে যায়। রাস্তায় জমে যায় ময়লার স্তূপ।

পর্যাপ্ত জায়গা না পাওয়ায় এই সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে জানান ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘এসটিএস তৈরির জন্য আমার কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু এসটিএস তৈরি করার মতো পর্যাপ্ত জায়গা পাচ্ছি না। ’

দক্ষিণে এসটিএস নির্মাণে জমি অধিগ্রহণ করা হবে বলে জানান দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘আমরা ৫৬টি ওয়ার্ডে এসটিএস নির্মাণ শেষ করেছি। বাকি ওয়ার্ডগুলোতেও খুব দ্রুত এসটিএস নির্মাণ হয়ে যাবে। ’

সুষ্ঠু পরিকল্পনা না থাকার কারণে এই সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে জানান নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মোহাম্মদ খান। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের যেহেতু জায়গার সংকট, তাই তারা যেখানে জায়গা পায়, সেখানেই এসটিএস তৈরি করে। কিন্তু এসটিএস নির্মাণে যে পরিমাণ জায়গা এবং যে স্থান প্রয়োজন, সে স্থান তারা নির্বাচন করে না। পাশাপাশি আমাদের এসটিএসগুলো বহুতল না হওয়ায় রাস্তায় ময়লার কাজ করা হয়। সিটি করপোরেশনকে সুষ্ঠু পরিকল্পনা তৈরির মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। ’



সাতদিনের সেরা