kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

দুটি গাড়ি হাঁকান শফিকুল রিকশায় চলেন মামুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ নির্বাচন

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

২ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুটি গাড়ি হাঁকান শফিকুল রিকশায় চলেন মামুন

আল-মামুন সরকার ও শফিকুল আলম

আগামী ১৭ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন দুই প্রার্থী। তাঁরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আল-মামুন সরকার এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি ও পরিষদের সর্বশেষ চেয়ারম্যান শফিকুল আলম।

এর মধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন আল-মামুন সরকার। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন শফিকুল আলম।

বিজ্ঞাপন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের ওই দুই প্রার্থীর হলফনামা ঘেঁটে দেখা যায়, সহায়-সম্পদে কেউ কারো চেয়ে খুব একটা পিছিয়ে নেই। তবে ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, দোকান থাকায় সম্পদে অনেকটা এগিয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শফিকুল আলম। দুটি গাড়ি হাঁকান তিনি। অন্যদিকে নিজের গাড়ি না থাকায় রিকশা কিংবা ভাড়া করা গাড়িতে চলাচল করেন আল-মামুন সরকার।

শফিকুল সম্পদে এগিয়ে

হলফনামা থেকে জানা যায়, কৃষি খাত, বাড়িভাড়া, শেয়ার, সঞ্চয়, ব্যাংক আমানত, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রাপ্ত সম্মানী ভাতা থেকে শফিকুলের বার্ষিক আয় ১৫ লাখ ১১ হাজার টাকা। এ ছাড়া শেয়ার, সঞ্চয়পত্র বা ব্যাংক আমানত থেকে বার্ষিক আয় এক লাখ ৮২ হাজার টাকা। তাঁর ২১২.২৫ শতাংশ কৃষিজমি রয়েছে, যার অর্জনকালীন মূল্য ছয় লাখ ৭৪ হাজার ৯২৫ টাকা। নিজ নামে ঢাকায় চার বিঘা পতিত জমি রয়েছে। তা ছাড়া টঙ্গীর ভাকরালে ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকায় কেনা দোকান, ঢাকার বারিধারায় ৫৮ লাখ টাকায় কেনা একটি ফ্ল্যাট এবং পূর্বাচলে চার কাঠা জায়গা রয়েছে। পাশাপাশি এনসিসি ব্যাংক থেকে তিনি ৮৫ লাখ ৯৪ হাজার টাকার হোম লোন নিয়েছেন।

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে শফিকুল আলমের নগদ টাকা আছে ৬১ লাখ ১১ হাজার টাকা। ব্যাংকে জমা আছে এক কোটি ৮৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। তা ছাড়া ৩৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের দুটি গাড়ি রয়েছে।

মামুনের চেয়ে স্ত্রীর টাকা বেশি

হলনামার তথ্য অনুযায়ী, কৃষি খাত, বাড়িভাড়া, শেয়ার, সঞ্চয়, ব্যাংক আমানত ও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রাপ্ত সম্মানী ভাতা থেকে আল-মামুনের বার্ষিক আয় ১১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে ব্যাংকে নিজ নামে জমা আছে ৪৩ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। আর স্ত্রীর নামে রয়েছে ৯ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। নিজের কাছে নগদ আছে ১৬ লাখ ৪৪ হাজার টাকা, স্ত্রীর কাছে আছে এক লাখ টাকা। তবে নিজের নামে সঞ্চয়পত্র না থাকলেও স্ত্রীর নামে সঞ্চয়পত্র আছে ৮৩ লাখ ৫৮ হাজার ৪৩৮ টাকা।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে সদর উপজেলার বিরামপুরে রয়েছে ১.৮৪৫ একর কৃষিজমি। বিরামপুরের দামচাইলে আছে ১৫.২৫ শতাংশ অকৃষি জমি।

এ ব্যাপারে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় নিজ কার্যালয়ে বসে চেয়ারম্যান প্রার্থী আল-মামুন সরকার বলেন, ‘আমি সাদামাটা জীবনযাপনে অভ্যস্ত—এটা সবাই জানেন ও দেখেন। গাড়ি কেনা ও মেনটেইন করার মতো অবস্থাও আমার নেই। যে কারণে রিকশাতেই চলতে পছন্দ করি। ’

আরেক চেয়ারম্যান প্রার্থী শফিকুল আলম বলেন, ‘আমার পুরনো ব্যবসা। রাজনীতি থেকে কিংবা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে বাড়তি কোনো সুবিধা নিয়ে আমি কিছু করিনি। দিন দিন আমার ব্যবসার উন্নতি হয়েছে। ’

 



সাতদিনের সেরা