kalerkantho

রবিবার । ৪ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সড়কে নর্দমার পানি দুই বছর ধরে দুর্ভোগ

জহিরুল ইসলাম   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সড়কে নর্দমার পানি দুই বছর ধরে দুর্ভোগ

বৃষ্টি হোক বা না হোক, সব সময় নর্দমার ময়লা পানি জমে থাকে রাজধানীর মীরহাজীরবাগের ওয়াসা রোডে। সম্প্রতি তোলা। ছবি : শেখ হাসান

দুপুর দেড়টা। রাজধানীর মীরহাজীরবাগ আদর্শ স্কুল থেকে ছেলে সিয়াম রহমানকে নিয়ে ওয়াসা গলির বাসার সামনে এসে রিকশা থেকে নামেন গৃহিণী সায়মা রহমান। গলি দিয়ে ঢুকতে তিনটি বাড়ি পরেই তাঁদেরটি। গলির সড়কে নর্দমার ময়লা পানি।

বিজ্ঞাপন

পানির নিচে খানাখন্দ। তাই বেশ সাবধানে রিকশা থেকে নামেন সায়মা।

ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এক দিন বা দুই দিন নয়, প্রায় দুই বছর পার হতে চলল সড়কের এই বাজে অবস্থা। সব সময় ময়লা পানি জমে থাকছে। আর পানির নিচে তো গর্তটর্ত আছেই। গলির প্রতিটি পরিবারেরই ভোগান্তির শেষ নেই। ’

সম্প্রতি মীরহাজীরবাগের ওয়াসা রোড গলিতে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় হাঁটু সমান ময়লা পানি। সেই পানি পার হতে যানবাহনের সাহায্য নিতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। মোটরসাইকেল নিয়ে গলির ভেতর ঢুকলে গর্তে পড়ে যাওয়ার অবস্থা তৈরি হয়।

ময়লা পানি মাড়িয়ে কাজীবাড়ী চৌরাস্তায় যাচ্ছিলেন মুদি দোকানি নাহিদ মিয়া। জানতে চাইলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতিদিন তিন বেলা এই ময়লা পানি মাড়িয়েই চলতে হচ্ছে। গত দুটি বছর এক অশুভ জীবন যাপন করছি। বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকেও জানানো হয়েছে। তবে এখনো সমাধানের কিছু দেখছি না। ’

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দুই বছরের বেশি সময় ধরে সড়কের এই বেহাল। সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। নোংরা পানির দুর্গন্ধে বাসায় থাকা যায় না। আর বের হলেই সেই ময়লা পানি মাড়িয়ে যেতে হয়। এ ছাড়া সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ১০ মিনিটের বৃষ্টির পানি যেতে সময় লাগে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা।

গত সোমবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় আধাঘণ্টা বৃষ্টির পর মীরহাজীরবাগের ৩৫০ নম্বর বাড়ির সামনে থেকে কাজীবাড়ী রোড হয়ে চৌরাস্তা, মুন্সিবাড়ী রোড, বড়বাড়ী রোড এবং আশপাশের সড়কে পানি জমে আছে। ৩৫০ নম্বর বাড়িটি আবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাজী হাবিবুর রহমান হাবুর।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেনেজব্যবস্থা বিকল হওয়ায় এই পানি সড়ক থেকে সরছে না। আর এটি সরানোরও উদ্যোগ নেই।

এলাকার বাসিন্দা মুজিবুর রহমান জানান, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করলে এ সমস্যা দূর হবে না। সিটি করপোরেশন থেকে অনেকবার পরিদর্শন করলেও তাতে কোনো অগ্রগতি নেই।

আরেক বাসিন্দা জানান,  বৃষ্টি হলে ড্রেনের ময়লা পানি আর বৃষ্টির পানি এক হয়ে চলাচলের উপযোগী থাকে না। পারলে এলাকা ছেড়ে চলে যেতাম, কিন্তু নিজের বাড়ি ছেড়ে যাওয়ারও সুযোগ নেই। তাই কষ্ট হলেও সহ্য করে পড়ে আছি।

৫১ নম্বর ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, মোড়ে মোড়ে সড়কের পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে ময়লা। বেশির ভাগ সড়ক খানাখন্দে ভরা। কিছু সড়কে ওয়াসার পানির লাইনের কাজ করা হলেও সে সড়কগুলো আর সংস্কারের মুখ দেখেনি।

তামান্না ফেরদৌসী নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘কোথাও পানি জমে আছে আর কোথাও ভাঙা সড়ক। সব মিলিয়ে ভালো নেই আমরা। ’

কাউন্সিলর কাজী হাবিবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টিতে পানি জমার বড় কারণ সিটি করপোরেশনের ড্রেনে জমে থাকা ময়লা। ওয়াসার গলিতে পানি একেবারেই সরতে পারে না। উল্টো বাসাবাড়ির পানি জমে যাচ্ছে, তাই এই অবস্থা। ’

কাউন্সিলর বলেন, ‘সিটি করপোরেশনকে বিষয়টি জানানোর পর আপাতত ড্রেন পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে ড্রেন পরিষ্কার করা হবে। এতেও যদি সমাধান না হয় তবে এলাকাবাসীর সুবিধার্থে ড্রেনের পাইপ পরিবর্তনের জন্য চেষ্টা করব। ’

 



সাতদিনের সেরা