kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৯ নভেম্বর ২০২২ । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

কুলাউড়ায় দেবে গেছে ছয় সেতু

মাহফুজ শাকিল, কুলাউড়া (মৌলভীবাজার)   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কুলাউড়ায় দেবে গেছে ছয় সেতু

ফানাই নদী পুনঃখননের পর পাহাড়ি ঢলে কুলাউড়ার লক্ষ্মীপুর-হাসিমপুর সড়কের ওপর নির্মিত সেতুটি মাঝ বরাবর দেবে গেছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ফানাই নদীর ওপর থাকা ছয়টি সেতু  ভেঙে ও দেবে গেছে। প্রায় দেড় বছর ধরে দেবে যাওয়া সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে উপজেলার চার ইউনিয়নের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ।

সেতুগুলো দেবে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ বলছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অপরিকল্পিতভাবে নদীখননের জন্য সেতুগুলো দেবে গেছে। অন্যদিকে পাউবো কর্তৃপক্ষ বলছে, নদীর পরিমাপ বিবেচনায় না নিয়ে অপরিকল্পিতভাবে সেতু নির্মাণ করায় এখন সেতু দেবে গেছে।

বিজ্ঞাপন

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১১-১২ অর্থবছরে ফানাই নদীর ওপর ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে রাউত্গাঁও ইউনিয়নের পালগাঁও-মুকুন্দপুর যাওয়ার রাস্তায় কোরপান উল্ল্যাহর বাড়ির কাছে ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ভবানীপুর-হেলাপুর সড়কে আরেকটি সেতু নির্মাণ করা হয়। এর আগে ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উদ্যোগে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলার হাসিমপুর-লক্ষ্মীপুর সড়ক, রাউত্গাঁও ইউনিয়নের ভবানীপুর-নর্তন-তিলাসীজুড়া সড়ক, মুকুন্দপুর কবিরাজী সড়ক ও গুতগুতি-কবিরাজী সড়কে চারটি সেতু নির্মাণ করা হয়।

এদিকে ২০২১-২২ অর্থবছরে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ফানাই নদীর প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকা পুনঃখনন করে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পালগাঁও-মুকুন্দপুর যাওয়ার রাস্তার ওপর সেতুটি গত পাঁচ মাস আগে দেবে গেছে। স্থানীয় লোকজন বাঁশের সাঁকো বানিয়ে ঝুঁকি নিয়ে সেতু দিয়ে চলাচল করছে। ছয়টি সেতুর মধ্যে দুটি সেতু এক বছর আগে দেবে গেছে। সেখানে এলজিইডির সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড ও লাল পতাকা বাঁধা রয়েছে।

কুলাউড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শিমুল আলী বলেন, ‘ত্রাণ ও দুর্যোগ অধিদপ্তরের আওতায় ৫০ ফুট প্রস্থের সেতু করার অনুমোদন রয়েছে। কিন্তু ফানাই নদীখননের পর নদীর প্রস্থ অনেক বেড়েছে। নদীটি খননের আগে চারটি নতুন সেতু নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। নদীর প্রস্থ বেড়ে যাওয়ার কারণে পরে ওই চারটি সেতু অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়। কারণ বর্তমানে আমাদের দপ্তর থেকে ৫০ ফুট প্রস্থের বেশি বড় সেতু বাস্তবায়নের কোনো সুযোগ নেই। ’

কুলাউড়ার রাউত্গাঁও ইউনিয়নের পালগাঁও-মুকুন্দপুর সড়কে নির্মিত সেতুটি দেবে গেছে। সাঁকো দিয়ে সেতুতে উঠতে হচ্ছে স্থানীয়দের।        ছবি : কালের কণ্ঠ

এলজিইডির মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আজীম উদ্দীন সরদার বলেন, অপরিকল্পিত নদীখননের কারণে সেতুগুলোর এই অবস্থা হয়েছে।

তবে অপরিকল্পিত নদীখননের অভিযোগটি অস্বীকার করে পাউবোর মৌলভীবাজার পওর বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশনের জন্য পরিমাপ অনুযায়ীই নদী পুনঃখননের কাজ হয়েছে। সেতুগুলো তৈরি করা হয়েছে অনেক আগে। তখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নদীর পরিমাপ বিবেচনায় আনেনি। ফলে সেতুর এই অবস্থা ঘটেছে। ’

 



সাতদিনের সেরা