kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৯ নভেম্বর ২০২২ । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ভাঙনে দৌলতদিয়ায় একটি ঘাট বন্ধ

কালকিনিতে বিলীন অনেক ঘরবাড়ি

মাদারীপুর ও গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভাঙনে দৌলতদিয়ায় একটি ঘাট বন্ধ

আড়িয়ালখাঁ নদের পারে বসে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন ৮০ বছর বয়সী গিয়াসউদ্দিন সরদার। ছবি : কালের কণ্ঠ

মাদারীপুরের কালকিনির উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল সাহেবরামপুর এলাকার পূর্ব সাহেবরামপুর লঞ্চঘাট ও নতুন আন্ডারচর গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া আড়িয়ালখাঁর তাণ্ডবে কয়েক বছরে বিলীন হয়ে গেছে হাজারো বাড়িঘর।

এ বছরেই নদীগর্ভে চলে গেছে প্রায় শতাধিক বসতঘর। নতুন করে ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে লঞ্চঘাট এলাকার আরো শতাধিক পরিবার। এ অবস্থায় স্থায়ী বাঁধের দাবি করছে স্থানীয়রা।

বিজ্ঞাপন

এদিকে নদীভাঙনে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ২০ মিটার বিলীন হয়ে গেছে।

সম্প্র্রতি সরেজমিনে চর সাহেবরামপুর ও লঞ্চঘাট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আড়িয়ালখাঁর পানি কমায় নদের পারের বেশ কয়েকটি জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের ফলে লঞ্চঘাট থেকে চর সাহেবরামপুর যাওয়ার একমাত্র সড়কটির প্রায় ৫০০ মিটার অংশ নদের মধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। চর সাহেবরামপুর লঞ্চঘাট এলাকার ৮০ বছর বয়সী গিয়াসউদ্দিন সরদারের এক সময় ছিল কয়েক বিঘা ফসলি জমি ও বসতভিটা। নদীভাঙনে সেই সব কিছু হারিয়ে হয়েছেন নিঃস্ব। এরপর নদের পারের সরকারি জমিতে ছোট একটি টিনের ঘর তুলে বসবাস করছেন। দুপুরে আড়িয়ালখাঁ নদের পারে বসে অপলক দৃষ্টিতে কী দেখছিলেন তিনি? জানতে চাইলে বলেন, ‘ওই যে নদীর ওপার দেখতেছেন। ওই পারে আমাগো বাড়িঘর সব আছিল, এখন আর কিছুুই নাই। আমার এই জীবনে তিনবার আমাগো বাড়িঘর নদীর পেটে গেছে। ’

কালকিনি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিংকি সাহা বলেন, ‘সাহেবরামপুর লঞ্চঘাট এলাকার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ১৩৮ ব্যক্তিকে নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও ভাঙনকবলিত ৫৯ জনের তালিকা করে পাঠানো হয়েছে। ’

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ২০ মিটার বিলীন : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভাঙনের কবলে পড়ে ঘাটসংলগ্ন সিদ্দিক কাজীরপাড়া গ্রামের ২০ মিটার অংশ পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের হুমকির মুখে পন্টুন সরিয়ে দৌলতদিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ৩ নম্বর ফেরিঘাটটি বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে পদ্মার পানি অনেক কমেছে। কিন্তু নদীতে তীব্র স্রোত বইছে। এতে ভাঙন শুরু হয়। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় নদীভাঙনে ঘাটসংলগ্ন সিদ্দিক কাজীরপাড়া গ্রামের ২০ মিটার অংশ পদ্মায় বিলীন হয়ে যায়।

বিআইডাব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন জানান, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বড় ফেরি ভেড়ার উপযোগী তিনটি ঘাটের মধ্যে দুটি ঘাট বন্ধ রয়েছে। চালু থাকা ৭ নম্বর ঘাট দিয়ে রো রো (বড়) ফেরিগুলো এখন কোনোরকমে গাড়ি পারাপার করছে।

 



সাতদিনের সেরা