kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ নভেম্বর ২০২২ । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সুপ্রিম কোর্টের রায়

প্রশাসনিক নীতি গ্রহণে সরকারকে আদেশ দিতে পারেন না হাইকোর্ট

সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন হাইকোর্ট কিছু বিষয়ে আদেশ-নির্দেশ দিতে পারলেও প্রশাসনিক নীতি গ্রহণ বা নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারকে কোনো আদেশ-নির্দেশ দিতে পারেন না হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রশাসনিক নীতি গ্রহণ করার ক্ষেত্রে বা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে সরকারকে হাইকোর্ট কোনো আদেশ-নির্দেশ দিতে পারেন না। সম্প্রতি সর্বোচ্চ আদালতের এক রায়ে এ কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত আপিল বিভাগের এ রায়ে বলা হয়েছে, ‘সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন হাইকোর্ট কিছু বিষয়ে আদেশ-নির্দেশ দিতে পারলেও প্রশাসনিক নীতি গ্রহণ বা নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারকে কোনো আদেশ-নির্দেশ দিতে পারেন না হাইকোর্ট। ’

বেতন কাঠামোর উন্নয়ন, ‘প্রধান মূল্যায়নকারী’ পদ সৃষ্টি, পদোন্নতি ও পদোন্নতির তারিখ থেকে পদোন্নতিপ্রাপ্তদের বকেয়া বেতন-ভাতা দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে সভার, কুমিল্লার বরুড়া, শেরপুরের নকলা, জামালপুরের সরিষাবাড়ী ও গোপালগঞ্জ পৌরসভার ‘সহমূল্যায়নকারী’ পদের পাঁচ কর্মচারী ২০১৪ সালে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।

বিজ্ঞাপন

‘প্রধান মূল্যায়নকারী’ পদ সৃষ্টির পর সে পদে ২৫ শতাংশ সরাসরি নিয়োগ এবং পাঁচ বছর বা তার বেশি সময় ধরে ‘মূল্যায়নকারী’ পদে দায়িত্ব পালন করে আসা কর্মচারীদের পদোন্নতি দিয়ে বাকি ৭৫ শতাংশ নিয়োগ নিশ্চিত করার নির্দেশনাও চাওয়া হয় রিটে।

সে রিটের প্রাথমিক শুনানির পর হাইকোর্ট এসব বিষয়ে প্রশ্ন তুলে রুল জারিসহ কয়েকটি অন্তর্বর্তী নির্দেশনা দেন। কিন্তু চূড়ান্ত শুনানির পর ২০১৮ সালের ৯ মে রুল খারিজ করে রায় দেন উচ্চ আদালত।

রায়ে পৌরসভার কর্মচারীদের ‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’ শ্রেণি বা কাঠামো সংশোধনের মাধ্যমে ‘প্রধান মূল্যায়নকারী’ পদ সৃষ্টি করে সে পদে পাঁচ বছর বা তার বেশি সময় ধরে ‘মূল্যায়নকারী’ পদে দায়িত্ব পালন করে আসা কর্মচারীদের পদোন্নতি দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয় রায়ে।  

পরে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভটু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। সে আবেদনের শুনানির পর হাইকোর্টের রায়টি সংশোধন করে গত ২৯ আগস্ট রায় দেন বিচারপতি মো. নূরুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির আপিল বেঞ্চ। এই বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি বোরহান উদ্দিন ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ।

আপিল বিভাগের রায়ে হাইকোর্টের রায়ের ‘প্রধান মূল্যায়নকারী’ পদ সৃষ্টির নির্দেশনা বহাল রাখলেও রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে ‘মূল্যায়নকারীদের’ পদোন্নতিসংক্রান্ত নির্দেশনাটি বাদ দেওয়া হয়।

মামলার বিষয়বস্তু তুলে ধরে রায়ে এ বিষয়ে বলা হয়, ‘পৌরসভার কর্মচারী চাকুরী বিধিমালা, ১৯৯২’ অনুযায়ী বর্ণিত পদের (মূল্যায়নকারী) পদোন্নতি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে তা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তও; যা প্রার্থীদের যোগ্যতা ও সন্তোষজনক পরিষেবার দালিলিক প্রমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করে। আপিল বিভাগের ১১ পৃষ্ঠার রায়টি লিখেছেন বিচারপতি বোরহান উদ্দিন।



সাতদিনের সেরা