kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

বগুড়ার শেরপুর

ঘুমন্ত শিশুকে পুকুরে ছুড়ে ফেললেন বাবা

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রথম সন্তান মেয়ে। এরপর তিনি ছেলের প্রত্যাশায় ছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয়বারও মেয়ে হলো। এ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে খিটিমিটি-ঝগড়া লেগেই থাকত।

বিজ্ঞাপন

এই দাম্পত্য কলহের জেরে গভীর রাতে ১৪ মাসের শিশুসন্তানকে পুকুরের পানি ছুড়ে দিলেন তিনি।

গত সোমবার রাতে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের উঁচুলবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটান জাকির হোসেন (৪৫) নামের এক দিনমজুর। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এলাকাবাসী ওই পুকুর থেকে হুমায়রা নামের শিশুটির লাশ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে জাকিরকে আটক করে পুলিশ।

এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সাত বছর আগে জাকিরের সঙ্গে পাশের নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের নামা সিংড়াপাড়া গ্রামের রমজান আলীর মেয়ে রাবেয়া খাতুনের বিয়ে হয়। এক বছরের মাথায় একটি মেয়ে হয় তাঁদের। নাম রাখা হয় জান্নাতি খাতুন। মেয়েটির বয়স এখন ছয় বছর। বাবা জাকির চাইছিলেন পরের সন্তানটি ছেলে হোক। কিন্তু মেয়ে হওয়ায় তিনি প্রচণ্ড নাখোশ হন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ লেগেই থাকত। গত সোমবার সন্ধ্যায়ও তাঁদের ঝগড়া হয়। রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে এক ফাঁকে ঘুমন্ত শিশু হুমায়রাকে তুলে নিয়ে পুুকুরে ফেলে দেন জাকির।

শিশুটির মা রাবেয়া খাতুন বলেন, ‘মাঝ রাইতে ঘুম থিকা জাইগা দেখি আমার মেয়ে হুমায়রা খাটে নাই। পরে সবাইরে ডাইকা বিষয়টা জানাই। আমার বোন-দুলাভাইরে খবর দিই। প্রতিবেশীগোও  জানানো হয়। শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। সন্তানরে না পাইয়া বারবার জ্ঞান হারাইয়া ফেলি। এক পর্যায়ে আমার স্বামীরে  চাইপা ধরে সবাই। তখন সে মেয়েকে পুকুরে ছুইড়া মারার কথা স্বীকার করে। ’

এসব বলে বিলাপ করতে থাকেন বাবেয়া খাতুন।

জাকিরের ভায়রা ভাই সাইফুল ইসলাম বলেন, জাকিরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ভোররাতে ওই পুকুরে নেমে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তাঁরা। প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালানোর পর শিশুটিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এরপর জাকিরকে আটক করে থানায় খবর দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে শেরপুর থানার ওসি আতাউর রহমান খন্দকার বলেন, স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) হাসানকে ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসআই বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য শিশুটির লাশ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (শজিমেক) মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘুমন্ত শিশুসন্তানকে পুকুরে ফেলে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন জাকির।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মামলার প্রক্রিয়া চলছিল। এ মামলায় আটক জাকিরকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে বলে জানান এসআই।



সাতদিনের সেরা