kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস আজ

৯ মাসে ৩১ মৃত্যু ১০ জনই শিশু

♦ চলতি বছর জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্তদের ৯৫ শতাংশ টিকা নেয়নি
♦ দেশের ৩০১টি কেন্দ্রে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আজ বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস। চলতি বছরে বাংলাদেশে এই রোগে মারা গেছে ৩১ জন। এর মধ্যে ১০ জনই শিশু। জানা যায়, মৃতদের ২৯ জনই টিকা নেয়নি।

বিজ্ঞাপন

অথচ জাতীয় জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল কর্মসূচির আওতায় দেশের ৩০১টি কেন্দ্রে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার হিসাব বলছে, চলতি বছর ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই লাখ ৯৯ হাজার ৯৮৯ জন কুকুর ও অন্যান্য প্রাণীর আক্রমণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ জনের জলাতঙ্ক শনাক্ত হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জুনোটিক ডিজিজ কন্ট্রোল প্রগ্রাম ম্যানেজার ডা. শ ম গোলাম কায়ছার জানান, এ বছর জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্তদের ৯৫ শতাংশ টিকা নেয়নি। তারা সবাই মারা গেছে।

তিনি আরো বলেন, জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণে চলতি বছরে ৯১ হাজার ৬১০টি কুকুরকে টিকা দেওয়া হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় জলাতঙ্কের টিকা নিতে আসা মানুষের দীর্ঘ লাইন। তাদের বেশির ভাগই ঢাকা ও এর আশপাশের জেলার।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, চলতি বছরে ৬০ হাজার ৫০০ রোগী এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসে ৩০০ থেকে ৪০০ রোগী।

তিনি আরো বলেন, জলাতঙ্ক ভাইরাসে আক্রান্ত প্রাণীর মুখের লালা বা আঁচড়ের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে এ রোগ ছড়ায়। রক্তের সংস্পর্শে এলে ভাইরাসটি ধীরে ধীরে প্রান্তীয় স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছায়। ফলে গলবিল ও খাদ্যনালির মাংসপেশির কাজ নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুও আক্রান্ত হয়।

ডা. মোহম্মদ মিজানুর বলেন, জলাতঙ্কে আক্রান্ত ব্যক্তির লক্ষণ প্রকাশ পেতে এক সপ্তাহ থেকে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগে। দেখা যায়, রোগীর প্রচণ্ড পানির পিপাসা পেলেও পানি দেখলেই সে আতঙ্কিত ও ভীত হয়ে পড়ে। খিঁচুনিসহ মুখ থেকে অতিরিক্ত লালা নিঃসৃত হয়। ক্ষেত্রবিশেষে পক্ষাঘাত, শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়া, ঝিমুনি হওয়া, ক্ষতস্থানে অবশতা ও অসারতা অনুভূত হওয়ার মতো লক্ষণও প্রকাশ পেতে পারে।

অন্যদিকে ডা. গোলাম কায়ছার জানান, কুকুর-বিড়াল বা অন্য প্রাণী কামড় বা আঁচড় দিলে অতিদ্রুত কাপড় কাঁচার সাবান বা ডিটারজেন্ট ও প্রবহমান পানি দিয়ে ১৫ মিনিট ধরে ক্ষত স্থান ধুয়ে নিতে হবে। এর ফলে ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ ভাইরাস মরে যায়। এরপর যত দ্রুত সম্ভব নিকটবর্তী হাসপাতালে গিয়ে টিকা নিতে হবে। সরকার বিনা মূল্যে এ টিকা দিচ্ছে।



সাতদিনের সেরা