kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০২২ । ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

মার্কিন বিনিয়োগ টানতে চাই স্থিতিশীল পরিবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মার্কিন বিনিয়োগ টানতে চাই স্থিতিশীল পরিবেশ

শুধু অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইজেড) দিলেই হবে না। মার্কিন বিনিয়োগ পেতে হলে বাংলাদেশকে বিনিয়োগবান্ধব নীতি সহায়তাও দিতে হবে। দিতে হবে এর ধারাবাহিকতার  নিশ্চয়তা। মার্কিন বিনিয়োগকারীরা এটাই চান।

বিজ্ঞাপন

দেশে শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল পরিবেশ আছে কি না, তা জানতে চান বিনিয়োগকারীরা।

পাশাপাশি শ্রমের মানোন্নয়ন, পরিবেশ, গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা, সহনশীলতা, সুশাসন ও মানবাধিকারের মতো বিষয়গুলো নিয়েও এই বিনিয়োগকারীরা চিন্তিত। এ জন্য বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে নীতিনির্ধারকদের এসব বিষয় নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস।

গতকাল মঙ্গলবার ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশের (আইবিএফবি) ১৬তম বার্ষিক সাধারণ সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত পিটার হাস এসব কথা বলেন।

রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ বক্তা ছিলেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) চেয়ারম্যান জায়েদী সাত্তার, বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের প্রধান ও রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি। এতে সভাপতিত্ব করেন আইবিএফবি সভাপতি হুমায়ূন রশিদ।

অনুষ্ঠানে পিটার হাস বলেন, একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল দিয়ে দিলেই বিনিয়োগের জন্য যথেষ্ট নয়। এ জন্য সুশাসন, পানি ও বিদ্যুৎ, জনশক্তি, নীতি সহায়তার ধারাবাহিকতা, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দিতে হবে। এ ছাড়া কোনো সমস্যা হলে এর প্রতিকার দিতে হবে।   

যুক্তরাষ্ট্র শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ দেখতে চায় উল্লেখ করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা, বহুত্ববাদ, সহনশীলতা, সুশাসন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল পরিবেশ থাকতে হবে। এর সঙ্গে সামাজিক ও পরিবেশগতভাবে সহনশীল পরিবেশ নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয়ে পিটার হাস বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্র। যতক্ষণ পর্যন্ত মিয়ানমারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন সম্ভব না হয়, ততক্ষণ এ সমর্থন থাকবে।

একই সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জন, শ্রমের মানোন্নয়ন, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে প্রসারিত করা ও বৈচিত্র্য আনা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের পরিসর বাড়ানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রচেষ্টাকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করছে বলে জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

ইইউ রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপের বাজারে বাণিজ্য অবারিত। আকাশ হচ্ছে তার একমাত্র সীমা। তবে বাংলাদেশের রপ্তানিতে সুশাসন ও মানবাধিকার বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। কেননা বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর ২০২৭ সালের পর  ইউরোপের বাজারে অগ্রাধিকার বাজার সুবিধা (জিএসপি) হারাতে পারে।

অর্থনীতির টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য রপ্তানি বহুমুখীকরণের চাবিকাঠি উল্লেখ করে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান জায়েদী সাত্তার বলেন, বাংলাদেশের সফল আরএমজি মডেলকে অন্যান্য নন-আরএমজি সেক্টরে প্রতিলিপি করতে হবে।



সাতদিনের সেরা