kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৯ নভেম্বর ২০২২ । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

কষ্টে মেসে থাকা শিক্ষার্থীরা

♦ নিরাপত্তার সমস্যা, চুরি যাচ্ছে জিনিসপত্র
♦ আছে বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সংকট

প্রবীর সাহা, পাবনা   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কষ্টে মেসে থাকা শিক্ষার্থীরা

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থী পাঁচ হাজার ৪৮৭ জন। এর মধ্যে ৭৮৮ জন হলে থাকার সুযোগ পান। অন্যরা মেস ও ভাড়া বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করেন। এ জন্য তাঁদের বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

অথচ বিদ্যুৎ, খাবার পানিসহ নানা সমস্যায় তাঁরা কষ্ট করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য দুটি হল নির্মাণ করা হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরে হল দুটির নির্মাণকাজ শেষ হবে। প্রতিটি হলে আসনসংখ্যা এক হাজার। এতে আবাসন সংকট অনেকটাই কমে যাবে বলে আশা করছে তারা।

সরেজমিনে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আবাসন সংকটের কারণে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের আশপাশ ও শহরের বিভিন্ন এলাকায় মেস বা ভাড়া বাসায় থাকছেন। তবে এসব মেস ও বাসায় তেমন সুযোগ-সুবিধা নেই। শুধু লাভের জন্য গড়ে উঠেছে মেস। বেশি টাকায় ভাড়া দেওয়া হচ্ছে ফ্ল্যাট। এসব মেস ও বাসায় বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সংকট আছে। স্যানিটেশনব্যবস্থাও ভালো না। এতে কষ্ট করছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অনাবাসিক শিক্ষার্থী শাওনেয়াজ বলেন, ‘চতুর্থ বর্ষে ওঠার পরও হলে সিট পাইনি। বাধ্য হয়ে আমাকে থাকতে হচ্ছে মেসে। পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত না করতে পারায় আমাদের ঝুঁকি নিয়ে এসব জরাজীর্ণ মেসে থাকতে হচ্ছে। মেসগুলোতে নেই সার্বক্ষণিক বিদ্যুতের ব্যবস্থা, ফলে পড়ালেখায় ব্যাঘাত ঘটছে। নিরাপত্তায় ঘাটতি আছে। প্রায়ই চুরি হচ্ছে মূল্যবান জিনিসপত্র।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১২ বছরে এ পর্যন্ত নির্মিত হয়েছে মাত্র দুটি হল। আর দশতলা দুটি হলের নির্মাণকাজ চলছে। এসব হলে আসনসংখ্যা ৭৮৮। হল অফিস সূত্রে জানা যায়, এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু হলে ৫২২ জন ও শেখ হাসিনা হলে ২৬৬ জন শিক্ষার্থীর আবাসন সুবিধা রয়েছে। আবাসন সংকটের কারণে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ছাত্রীরা। অনেককেই বাধ্য হয়ে থাকতে হচ্ছে ক্যাম্পাসের আশপাশের মেস ও ভাড়া বাসায়। এসব এলাকায় নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা।

শেখ হাসিনা হলের প্রভোস্ট লায়লা আরজুমান্দ বানু কালের কণ্ঠকে জানান, নির্মাণাধীন দশতলা এক হাজার সিটের শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল তৈরি হলে আবাসন সংকট কিছুটা কমে যাবে ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট মো. ওমর ফারুক বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আসনসংখ্যা ৫২২। নির্মাণাধীন দশতলা এক হাজার সিটের শেখ রাসেল হল চালু হলে আবাসন সংকট অনেকটাই কমবে।

নির্মাণাধীন হল দুটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) জি এম আজিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ২০২০ সালের ৮ ডিসেম্বর ৫৪ কোটি ৩৯ লাখ ডিডিপি মূল্যে শেখ রাসেল হলের কাজ শুরু হয়। একই বছরের ডিসেম্বরের ৯ তারিখ একই ডিডিপি মূল্যে শুরু হয় শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নির্মাণকাজ। তিনি বলেন, ‘হল দুটিতে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় সব ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকবে। হলের নির্মাণকাজ ২০২১ সালের জুলাইয়ে সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে সেই কাজেও বিঘ্ন ঘটে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে এই হলের নির্মাণকাজও ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই হল দুটির নির্মাণকাজ সমাপ্ত হবে। ’

বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকটের কথা স্বীকার করে রেজিস্ট্রার বিজন কুমার ব্রহ্ম বলেন, ‘একটি ছাত্র ও একটি ছাত্রী হল খুব শিগগির চালু হতে যাচ্ছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট কিছুটা হলেও নিরসন হবে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন দশতলা আবাসিক হল দুটিতে অধিকসংখ্যক শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা পাবেন বলে আশা করছি। ’



সাতদিনের সেরা