kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

নৌপথে কমছে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নৌপথে কমছে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন

সারা বিশ্বে বেশির ভাগ পণ্য পরিবহন নৌপথে করা হলেও দেশের চিত্রটা ভিন্ন। দেশে নৌপথে প্রতিনিয়ত পণ্য ও যাত্রী পরিবহন কমছে। সড়কের প্রতি প্রবণতা বাড়ছে মানুষের। আবার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের তুলনায় অনেক কম বাজেট বরাদ্দ পায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞাপন

সেদিক থেকেও নৌপরিবহন খাত অনেকটা অবহেলিত।   

প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থাগুলোর জোট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) তথ্য বলছে, ১৯৬০ সালে প্রায় ১২ হাজার কিলোমিটার নৌপথ দেশে ছিল। সেখানে সম্প্রতি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডাব্লিউটিএ) তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট নদ-নদীর দৈর্ঘ্য ২৪ হাজার কিলোমিটার। বর্ষা মৌসুমে বর্তমানে প্রায় ছয় হাজার কিলোমিটার পথ নৌযান চলাচলের উপযোগী রয়েছে। যদিও ১০ হাজার কিলোমিটার পথে নৌযান চলাচলের উপযোগী করতে চাইছে সরকার।

সবচেয়ে বেশি যাত্রী সব সময় সড়কপথেই চলাচল করে। তবে সড়কপথ ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। উল্টো দিকে বেশি কমছে নৌপথ ব্যবহারকারীর সংখ্যা। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৭৫ সালে ৫৪ শতাংশ যাত্রী সড়কপথ ব্যবহার করত। ২০০৫ সালে সড়কপথ ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৮৮ শতাংশে এসে ঠেকেছে। আর এই সময়ের মধ্যে নৌপথে যাত্রীর সংখ্যা ১৬ থেকে ৮ শতাংশে নেমে এসেছে।

তবে ধীরে ধীরে অবস্থার পরিবর্তন আনতে কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘একটা সময় দেশের নৌপথকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার দেশের নৌপথ বাড়াতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। গত ১০ বছরে বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৪০টি ড্রেজার সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আরো ৩৫টি ড্রেজার সংগ্রহ করার প্রক্রিয়ায় আছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নৌপথের জন্য নতুন একটা পরিকল্পনা করা হয়েছে। দেশের নৌপথগুলো সচল রাখতে চাই। এখন শুধু দেশীয় নৌপথ নয়। আমরা নৌপথে আঞ্চলিক (আন্তর্দেশীয়) যোগাযোগ বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছি। ’

চলতি অর্থবছরে জাতীয় বাজেটে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে সাত হাজার ২২৪ কোটি টাকা। অথচ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় বরাদ্দ পেয়েছে ৩৬ হাজার ৬৪৮ কোটি টাকা আর রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১৮ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা।

নৌপথকে অবহেলিতভাবে রাখা হয়েছে বলে মনে করছেন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শুধু নদী ড্রেজিং করে তো আর পণ্য পরিবহন করা যাবে না। আমাদের নৌ নেটওয়ার্ক এবং সমন্বিত নেটওয়ার্ক নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অথচ পণ্য পরিবহনের জন্য নৌপথ হচ্ছে সবচেয়ে সাশ্রয়ী। কিন্তু নৌপথের সঙ্গে সড়কের যে পরিমাণ সংযোগ বাড়ানোর দরকার ছিল, সেটা আমরা করিনি। ’

 

 



সাতদিনের সেরা