kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

মাথা ন্যাড়া করে ‘প্রতিবাদ’

কাবাডি দলের ছাত্রীদের ‘মারধর’

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চট্টগ্রামের একটি বিদ্যালয়ের কাবাডি দলের ছাত্রীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। মাথা ন্যাড়া করে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের নারী সহকারী শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা)। পাশাপাশি চাকরি থেকে অব্যাহতি চেয়ে চিঠি দিয়েছেন তিনি। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ওই নারী শিক্ষিকা তাঁর ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন।

বিজ্ঞাপন

এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা ছড়িয়ে পড়ে।

নগরের ফিরিঙ্গীবাজার এলাকার এয়াকুব আলী দোভাষ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা) জাহিদা পারভীন ফেসবুকে নিজের ন্যাড়া মাথার ছবি পোস্ট করে লেখেন, ‘স্কুলের মেয়েদের মাসখানেক কষ্ট করে খেলা শিখিয়ে মাঠে নিতে যাওয়ার আগের দিন তাদের ফ্রেঞ্চ বেণি করে ছবি তোলা ও খেলতে যাওয়ার অপরাধে হেডমাস্টারের আমার স্কুলের মেয়েদের চুল ধরে মারা ও বকা দেওয়ার প্রতিবাদে নিজের মাথার চুল ফেলে দিয়েছি। খুব কি খারাপ দেখা যাচ্ছে?’ পোস্টে তিনি আরো লেখেন, ‘এখন আমাকে চাকরি থেকে বিদায় করছেন বকেয়া কোনো পাওনা না দিয়ে। আজ স্কুলে মেয়েদের সঙ্গে ক্লাস করতে দেননি। ভদ্র ভাষায় হেডমাস্টার বাসায় চলে আসতে বলেছেন। ’

এয়াকুব আলী দোভাষ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা) জাহিদা পারভীন গতকাল শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতিযোগিতার দিন আমাদের বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের মডেল টেস্ট ছিল। পরীক্ষার আগে হল থেকে কাউকে বের হতে দেওয়া হয়নি। বিদ্যালয় থেকে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বের হয়ে সেখানে পৌঁছতে পৌনে ১০টা বেজে যায়। ’ ছাত্রীদের মারধরের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি তখন বিদ্যালয়ের ওয়াশরুমে ছিলাম। বেরিয়ে দেখি এক-দুজন ছাত্রী কান্নাকাটি করতে করতে আমাকে বলছে প্রধান শিক্ষিকা চুল টেনে ধরেছেন। একজনকে থাপ্পড় দিয়েছেন। ’ স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এখনো কোনো অব্যাহতিপত্র (বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিতে পদত্যাগপত্র কার্যকর) পাইনি। অব্যাহতি দিলে আমার পুরনো পাওনা দিতে হবে। আর তাঁরা যদি আমাকে কাজ করার পূর্ণ স্বাধীনতা দেন তাহলে আমি পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করে নিব। ’

ফেসবুক স্ট্যাটাস দেওয়ার ঘটনায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে গঠিত কমিটিতে রাখা হয়েছে জেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা ও জেলা ক্রীড়াবিষয়ক কর্মকর্তাকে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ ঘটনায় কেউ দোষী হলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ’

জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নিপা চৌধুরী গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘৮ সেপ্টেম্বর ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আমাদের বিদ্যালয়ের কাবাডি দলের ছাত্রীদের সঙ্গে সেন্ট স্কলাসটিকা বিদ্যালয়ের খেলা ছিল। তার দু-তিন দিন আগে বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা আমার সঙ্গে দেখা করতে আসে। একটি গ্রুপ ছবি তুলতে চাইলে আমি তাদের বলেছি, ফ্রেঞ্চ বেণি নয়, স্বাভাবিক বেণি করতে, যেটায় আমাদের মেয়েদের সুন্দর দেখায়। এটা তো অন্যান্য স্কুলেও (বালিকা) আছে। ফ্রেঞ্চ বেণির এই ছবি তোমরা যখন প্রতিযোগিতায় দেবে তখন আমিও প্রশ্নের মুখে পড়ব। তখন আমি এক ছাত্রীকে হাত ধরে শিক্ষকদের কক্ষে নিয়ে যাই। শিক্ষকদের বলি, ছাত্রীদের সচেতন করার জন্য আপনাদের বলতে হবে। আমার কথা শুনে তখন সবাই (ছাত্রী) স্বাভাবিক বেণি বাঁধে। আমি তাদের সঙ্গে ছবি তুলেছি। এ ছবি জাহিদা পারভীন তুলেছে। তাহলে আমি মারধর কোথায় করলাম। সব কিছু সিসি ক্যামেরায় আছে। ’

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সভাপতি ও মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জহিরুল আলম দোভাষ। অভিযোগের বিষয়ে জানতে তাঁর মোবাইল ফোনে গতকাল একাধিকবার কল করলেও তিনি ধরেননি। পরে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য হালিম দোভাষ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জাহিদা পারভীন স্বেচ্ছায় অব্যাহতির একটি চিঠি দিয়েছেন (১৩ সেপ্টেম্বর)। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন, শিক্ষক পদবি ধারণ করার যোগ্যতা তাঁর নেই। উনার এই চিঠি পাওয়ার পর আমাদের পরিচালনা কমিটির সভায় তা কার্যকর হয়েছে। ’



সাতদিনের সেরা