kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

বিমানবন্দর থেকে বাফুফে ভবন

অব্যবস্থাপনার কালো দাগ

নারী ফুটবলারদের দেশে ফেরা

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পুরো বাংলাদেশ রাঙিয়ে ফুটবল বিজয়িনীরা ফিরেছেন দেশে। এই গৌরবের ফেরা হতে পারত আরো সুরভিত আরো সুসজ্জিত। কিছু অব্যবস্থাপনায় তাতে পড়েছে কালির দাগ আর সেগুলোই সমালোচনার খোরাক জোগাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তীর হয়ে বিঁধছে মেয়েদের বড় বিজয় এবং ছাদখোলা বাসে জয়যাত্রার মুহূর্তগুলোকে।

বিজ্ঞাপন

ছাদখোলা বাসের ব্যবস্থা করে সানজিদাদের গৌরবের শহর প্রদক্ষিণের আয়োজন করে দারুণ প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তাঁর উদ্যোগেই হয়েছে সব। তবে বিমানবন্দরে তিনিসহ ফুটবলের অনেক কর্মকর্তার গলায় ফুলের মালাগুলো ছিল বড্ড বেমানান। মালা বিজয়িনীদের জন্য। তাঁদের গলায় মালা পরিয়ে বাফুফে কর্মকর্তাসহ অন্যদের ধন্য হওয়ার কথা। উল্টো তাঁদের গলায় মালা দেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হচ্ছে বিস্তর সমালোচনা। এরপর সেই ছাদখোলা বাসে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর আরোহণও মানতে পারছে না অনেকে। এসব দেখে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল হাসেন আর বলেন, ‘আমি তো বাসেই উঠতে চাইনি, মেয়েরা খুব অনুরোধ করেছিল বলে ওঠা। কিছুদূর গিয়ে নেমে গিয়েছিলাম। আরেকটা কথা বলি, এমন বিজয়োৎসব আমারা সবাই মিলে করব, দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়েই করব। এটাই ছিল আমার চিন্তা, তাই ওই বাসের ব্যবস্থা করা যেন রাস্তার দুই পাশ থেকে মানুষও ফুটবলের স্বর্ণকন্যাদের অভিনন্দন জানাতে পারে। আর বিমানবন্দরে কে কখন আমাকে মালা পরিয়েছে টেরও পাইনি। ’ এরপর ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী যোগ করেন, ‘ক্রীড়া সাফল্যে দেশে এ রকম আয়োজন প্রথম হয়েছে। কিছু ভুলভ্রান্তি হতে পারে। এগুলো এক পাশে রেখে ভালো জিনিসগুলোকে নিয়েই আমরা কথা বলতে পারি। পরের সাফল্যে নিশ্চিতভাবে আরো সুন্দর ও সুশৃঙ্খল হবে। ’

বিমানবন্দরেও যে হুড়াহুড়ি আর বিশৃঙ্খলা হয়েছিল, সেটাও নিশ্চয়ই কারো কাম্য ছিল না। এর দায় আবার সাংবাদিকদেরও ওপর আসে। খোদ মারিয়া মান্ডাই বিমানবন্দর থেকে নিজের ফেসবুক লাইভে সাংবাদিকদের আসামির কাঠগড়ায় তুলেছেন, ‘সাংবাদিকদের কারণেই আমরা বিমানবন্দর থেকে বের হতে পারছি না। ’ কী ভয়ংকর অভিযোগ! সত্যি তাই। প্রিন্ট, টিভি ও অনলাইনের সাংবাদিক ছাড়াও অনেক ইউটিউবার, ব্লগার ও সাধারণ মানুষ ভিড় করেছিল ওখানে। রীতিমতো পল্টন ময়দান হয়েছিল হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর। সবার প্রবেশ রোধ করার কি কোনো উপায় ছিল না? বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগের জবাব, ‘এ রকম অবস্থা হবে, সেটা কেউ কল্পনা করেনি। এত সাংবাদিক এয়ারপোর্টে যাবেন, সেটাও ভাবতে পারিনি। আবার এই মিডিয়ার জন্যই সাফজয়ী দলের ফেরাটা মানুষজন দেখেতে পেয়েছে। টিভিগুলো সেই বিমানবন্দর থেকে শুরু করে রাস্তাজুড়ে লাইভ করেছে। এটা ফুটবলেরই সৌভাগ্য হিসেবেই দেখি। ’ 

বিমানবন্দর থেকে সাড়ে চার ঘণ্টার জয়যাত্রা ঘটনাবহুল। উত্সুক মানুষের ভিড় ঠেলে কচ্ছপগতিতে এগিয়েছে ছাদখোলা বাসটি। এর মধ্যে ব্যানার লেগে মাথা ফেটেছে ঋতুপর্ণা চাকমার, সঙ্গে পথের দীর্ঘ ক্লান্তি মিলিয়ে জয়যাত্রাটা মোটেও গোছালো হয়নি। শেষে বাফুফে ভবনে গিয়ে তাঁদের ঢুকতে হয়েছে বিশাল ভিড় ঠেলে। এরপর সংবাদ সম্মেলনে কর্মকর্তাদের আড়ালে বিজয়িনীরা। যাঁদের জন্যই এত গৌরব সেই গরবিনীরা কর্মকর্তাদের পেছনে দাঁড়িয়ে! কোচ ও অধিনায়ক যা-ও বসার চেয়ার পেয়েছিলেন পরে সেগুলো ছেড়ে পেছনের কাতারে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছিলেন। এই অসামঞ্জস্যগুলো নিয়ে বেশ সরব সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম। তবে বাফুফে সম্পাদকের চোখে এগুলো বড় কোনো বিচ্যুতি নয়, ‘প্রথমত, আমাদের সংবাদ সম্মেলন কক্ষটি ছোট, এরপর মিডিয়ার লোকজনের উপচে পড়া ভিড় ছিল। সবাইকে এক সারিতে বসাতে আমরাও চেয়েছিলাম, কিন্তু জায়গা নেই বলে পারিনি। আর রাস্তার যে বিষয়টি ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে আগেই সভা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট থানাগুলোও আমাদের সাহায্য করেছে; কিন্তু মানুষের এই ভালোবাসাকেও নিশ্চয়ই আমরা উপেক্ষা করতে পারি না। তারা বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে রাস্তায় এসেছিল মেয়েদের এক পলক দেখতে। এটার মূল্য অনেক। ’ এরপর আবু নাইম সোহাগ যোগ করেন, ‘এটা আমাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। ভুলভ্রান্তি থেকে শিখব। এর পরও এই দিনটাকে অনেক মনে রাখবে। ’

শিখছে তারা। বিবর্ণ বাফুফে ভবন সমালোচনার ইস্যু হওয়ায় কাল রঙিন করার কাজ শুরু হয়েছে। যোগ হচ্ছে আলোকসজ্জাও। দীর্ঘদিনের অনভ্যাসে যা হয়, বড় সাফল্যের পর কী করতে হয়, সেটাই ভুলে গিয়েছিল বাফুফে।

 



সাতদিনের সেরা