kalerkantho

রবিবার । ২ অক্টোবর ২০২২ । ১৭ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

সীমান্ত সড়ক নির্মাণ কাজ বন্ধ

তোফায়েল আহমদ, ঘুমধুম সীমান্ত থেকে   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সীমান্ত সড়ক নির্মাণ কাজ বন্ধ

মিয়ানমার সীমান্তে অব্যাহত গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের কারণে বাংলাদেশের সীমান্ত সড়ক নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে গতকাল মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর ছোড়া একটি গুলি এসে পড়ে উখিয়া সীমান্তের নাফ নদ তীরের আনজুমানপাড়া ওয়াকফ স্টেটের ধানক্ষেতে। সেখানে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন একজন কৃষক।

গতকাল বৃহস্পতিবারও সীমান্তের নাইক্ষ্যংছড়ি অংশের তুমব্রু ও ঘুমধুম এবং কক্সবাজারের উখিয়ার আনজুমানপাড়া পয়েন্টে গোলাগুলি ও মর্টার শেলের শব্দে কেঁপে ওঠে সীমান্ত এলাকা।

বিজ্ঞাপন

ফলে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্ত এবং কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

সীমান্ত পরিস্থিতি কতটা নাজুক, তা বোঝা গেল গতকাল দুপুরে ঘুমধুম ইউনিয়নের বেতবুনিয়া বাজারসংলগ্ন বিজিবি ক্যাম্পে গিয়ে। সেখানে কর্তব্যরত বিজিবির দুজন সদস্যের কাছে পরিচয় দিয়ে সীমান্তে যেতে চাইলে একজন ৩৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সুবেদার শহিদুল্লাহর কাছে ওয়াকিটকিতে অনুমতি চাইলেন। উত্তরে তিনি বললেন, ‘ওখানে যেতে চাইলে আগে সাংবাদিকের গাড়িটি বুলেট প্রুপ করিয়ে নিতে বলেন। না হলে আমরা তাঁর দায়দায়িত্ব নিতে পারব না। ’

সেখান থেকে হাইওয়ে সড়ক ধরে ঘুমধুম বিজিবির আরেকটি পয়েন্টে গেলে কর্তব্যরত সদস্যরা দক্ষিণ দিকের ‘লাল ব্রিজ’ এলাকায় যেতে নিষেধ করেন। সদ্য নির্মিত এশিয়া হাইওয়ের মিলনস্থলটি হচ্ছে সেই লাল ব্রিজ এলাকা। সেটিই হলো বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে যোগাযোগের সেতুবন্ধ। এলাকাটি এখন নীরব। আশপাশের বাড়িঘরে লোকজনও দেখা যাচ্ছে না।

সেখানে কথা হয় ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক হোসেন আহমদের সঙ্গে। তিনি বললেন, “সীমান্তবাসীর জন্য অনেক বড় সম্পদ এই ‘সীমান্ত সড়ক’। কিন্তু মিয়ানমারের গোলাগুলির কারণে সেই সড়কটির নির্মাণকাজ বর্তমানে বন্ধ। রিকশা চালিয়ে আগে দৈনিক ৬০০-৭০০ টাকা আয় করতাম। এখন নেমে এসেছে ২৫০-৩০০ টাকায়। ভয়ে লোকজন হাটবাজারে যাওয়া-আসা করছে না। ’

ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘সীমান্ত সড়ক’ এশিয়া হাইওয়ে সড়কের শেষ প্রান্ত (লাল ব্রিজসংলগ্ন) থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি হয়ে জেলা সদর বান্দরবানের সঙ্গে সংযোগ হওয়ার কথা। সেনাবাহিনী কাজও শুরু করেছিল। কিন্তু মিয়ানমার বাহিনী গোলাগুলি করায় নিরাপত্তাহীনতার কারণে বর্তমানে সড়ক নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। ’

তিনি জানান, বৃহস্পতিবারও তুমব্রু ও ঘুমধুম সীমান্তের ওপারে দফায় দফায় গোলাগুলি ও মর্টার শেলের শব্দ শোনা গেছে। এসব কারণে সীমান্ত এলাকায় বসবাস করা ২৩০টি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। বান্দরবান জেলা প্রশাসনের অনুমতি পেলে এই পরিবারগুলো সরিয়ে নেওয়া হবে।

গত মঙ্গলবার থেকে মিয়ানমার বাহিনী কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তেও গোলাগুলি অব্যাহত রেখেছে। উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের আনজুমানপাড়ার ফসলি জমি ও চিংড়ি ঘের রয়েছে নাফ নদের তীরে। এলাকাটিতে নাফ নদের প্রস্থ কম হওয়ায় ওপারের গোলাগুলির শব্দ এপারের বাসিন্দাদের আতঙ্কিত করে তুলছে।

পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বার জাফরুল ইসলাম বাবুল গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার এলাকার কৃষক আবু ছিদ্দিক অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন। ছিদ্দিক বৃহস্পতিবার নাফ নদের আনজুমানপাড়া ওয়াকফ স্টেটের ধানক্ষেতে কাজ করার সময় একটি গুলির অংশ এসে পড়ে পাশে।

উখিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলীও আনজুমানপাড়ার ধানক্ষেতে গুলি পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সীমান্ত এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি নুরুল হক হেডম্যান (৭৭)। গতকাল বেতবুনিয়া বাজারে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ঘুমধুম ইউনিয়নের অন্তত ৩০ হাজার বাসিন্দা গত এক মাসের বেশি সময় ভীষণ কষ্টে দিন পার করছে। বর্তমানে এই মানুষগুলোর সব ধরনের কাজ বন্ধ। সীমান্তঘেঁষা জমিতে যাঁরা ফসল চাষ করেছেন তাঁরাও পড়েছেন সমস্যায়। কারণ তাঁরা ওই ক্ষেত পরিচর্যা করতে পারছেন না। ফলে জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ’

 

 

 



সাতদিনের সেরা