kalerkantho

রবিবার । ২ অক্টোবর ২০২২ । ১৭ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

বন্য হাতিতে পিষ্ট কৃষকের ফসল

মাজহারুল ইসলাম মিশু, হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ)   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বন্য হাতিতে পিষ্ট কৃষকের ফসল

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার কড়ইতলীতে বন্য হাতি। গত বুধবার বিকেলে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তে কমপক্ষে ৪০টি বন্য হাতি এক সপ্তাহ ধরে অবস্থান করছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ একর জমির ধান ও সবজি খেয়ে সাবাড় করেছে। দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এই হাতির পাল তাড়াতে কোনো উদ্যোগ নেয়নি বন বিভাগ।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে কড়ইতলী গ্রামের কৃষক নওশের আলী ফসলি জমি রক্ষার জন্য অন্য কৃষকদের সঙ্গে হাতি তাড়াতে যান। এ সময় একটি হাতি তাঁকে পিষ্ট করে মেরে ফেলে। গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে হাতির আক্রমণ থেকে ফসলি জমি রক্ষার জন্য জেনারেটরের মাধ্যমে ফাঁদ তৈরি করেন কৃষক জাহাঙ্গীর আলম; কিন্তু ওই ফাঁদে তাঁর মৃত্যু হয়। কিষানি কুলসুম বিবি জানান, ছেলে কবির হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে ১৫ কাঠা জমিতে ঝিঙা রোপণ করেছিলেন। বিক্রির সময় হয়ে এসেছে। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে হাতির তাণ্ডবে সব শেষ।

মহিষলেটি গ্রামের কৃষক জমির উদ্দিন জানান, ১৬ কাঠা জমিতে লাউ এবং প্রায় দুই একর জমিতে ধান রোপণ করেছেন। হাতি এসে লাউক্ষেত খেয়ে শেষ করেছে। ধানক্ষেতও নষ্ট করেছে।

কৃষক আইয়ুব আলী বলেন, ‘লাউ আর ঝিঙা করেছি। বিক্রির সময় হতেই হাতি এসে খেয়ে শেষ করে দিয়েছে। সংসার কিভাবে চলবে জানি না। আমরা আতঙ্কে আছি—কবে বাড়িতে এসে হাতির দল হানা দেয়। এভাবে চলতে থাকলে বাড়িঘর ফেলে পালিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো পথ আমাদের জন্য খোলা নেই। ’

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা ‘বন্য প্রাণী দ্বারা আক্রান্ত জান-মালের ক্ষতিপূরণ বিধিমালা, ২০২১’ অনুযায়ী বাঘ, হাতি, কুমির, ভাল্লুক বা সাফারি পার্কে বিদ্যমান বন্য প্রাণীর আক্রমণে কোনো ব্যক্তি মারা গেলে তাঁর পরিবার তিন লাখ টাকা এবং গুরুতর আহত ব্যক্তির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা দেওয়া হয়। বন্য প্রাণীর আক্রমণে গবাদি পশু, ঘরবাড়ি, গাছপালা, ফসল ইত্যাদি নষ্ট হলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।

তবে হালুয়াঘাট সীমান্তের কৃষকরা হাতির আক্রমণে কেউ মারা গেলে ও ফসল নষ্ট হলে সরকারিভাবে ক্ষতিপূরণ আছে কি না তা জানেন না। তাঁরা কোনো ক্ষতিপূরণ আগেও পাননি।

গত মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কড়ইতলী, বানাইপাড়া, ধোপাজুরী, রঙ্গমপাড়া, মহিষলেটি, কোচপাড়া, আমতৈলী গ্রামের কৃষকরা দুর্বিষহ জীবন পার করছেন।

ভুবনকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুরুজ মিয়া বলেন, ‘আমি ৩০ বছর ধরে এখানে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছি। হাতির তাণ্ডব শুরু হয়েছে ২০১২ সাল থেকে। ২০১৮ সাল পর্যন্ত বোরো ও আমন মৌসুমে বছরে দুইবার বন্য হাতির পাল এসে ১০ থেকে ১৫ দিন অবস্থান করে ফসলের ক্ষতি করে আবার চলে যেত, কিন্তু ২০১৮ সালের পর থেকে হাতির তাণ্ডব বেড়েছে। এখন কোনো মৌসুম মানছে না। ’ তিনি জানান, এই ইউনিয়নের সাত কিলোমিটার সীমান্তের ৫০০ গজের মধ্যে গ্রামগুলোতে সাধারণ মানুষ হাতির আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে গোপালপুর বন বিভাগের বিট কর্মকর্তা মো. মাজহারুল হক বলেন, ‘হাতির আক্রমণ থেকে জান-মাল ও ফসল রক্ষায় কিছু কৌশল অবলম্বনের জন্য বলা আছে। প্রতিটি এলাকায় স্থানীয়দের নিয়ে বন বিভাগের পক্ষ থেকে একটি দল গঠন করা আছে। তাদের সঙ্গে আমরা হাতি থেকে ফসল ও ঘরবাড়ি রক্ষায় কাজ করছি। ’

হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা বলেন, ‘হাতিকে মারা যাবে না। যদি কোনো কৃষকের ফসলের ক্ষতি হয়, তাহলে তদন্ত করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করব। ’

 

 



সাতদিনের সেরা