kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০২২ । ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

আপত্তিকর ছবি-ভিডিও দিয়ে প্রতারণা বাড়ছে

এস এম আজাদ   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আপত্তিকর ছবি-ভিডিও দিয়ে প্রতারণা বাড়ছে

রাজধানীর মুগদা এলাকার এক তরুণীর সঙ্গে পরিচয় রক্সি গোমেজ নামের এক যুবকের। হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ। এরপর ঘনিষ্ঠতা। রক্সি গোমেজ কৌশলে ওই তরুণীর কিছু আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করেন।

বিজ্ঞাপন

পরে ওই ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে মেয়েটিকে বিশেষ সম্পর্ক করতে বাধ্য করেন। এক পর্যায়ে ওই তরুণী রক্সির সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিলেও থানায় অভিযোগ করেননি।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রক্সি ওই তরুণীর ভাইয়ের বন্ধুর  মেসেঞ্জারে আপত্তিকর ভিডিওর স্ক্রিনশট পাঠিয়ে তাঁর পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করেন। ভুক্তভোগী তরুণী ২০ ফেব্রুয়ারি মুগদা থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। রক্সিকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ।  

সাদ্দাম হোসেন ওরফে রিজভী নামের এক যুবক ভুয়া নাম-পরিচয়ে ফেসবুকে আইডি খুলে বিভিন্নজনের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও তিনি ফাঁদে ফেলেন। এক তরুণী তাঁকে কিছু ব্যক্তিগত ছবি দিয়ে বিপদে পড়েন। পুলিশের কাছে মৌখিক নালিশ করলেও সামাজিক নিরাপত্তার ভয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেননি তিনি। তবে একজন রাজনীতিক বনানী থানায় রিজভীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলায় ডিবির দল সম্প্রতি চট্টগ্রামের খুলশী থেকে রিজভীকে গ্রেপ্তার করে।

সাইবার অপরাধ নিয়ে যাঁরা তদন্ত করছেন, তাঁদের কাছে এমন অভিযোগই বেশি আসছে। ভুক্তভোগীদের বেশির ভাগ তরুণী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও প্রচারের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি। ডিবির সাইবার বিভাগে ৪৭ শতাংশ অভিযোগই অপপ্রচার ও আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার। পর্ন সাইটে আপত্তিকর ভিডিও আপলোডের ঘটনাও রয়েছে।

ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মামলা না করে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও সাইবার বিভাগে অভিযোগ করে প্রতিকার চাইছেন ভুক্তভোগীরা। সামাজিক ও পারিবারিক কারণে মামলা নিয়ে বেশিদূর এগোতে চান না। অনেকে খুব বেশি বেকায়দায় পড়ে করছেন মামলা। তবে যেকোনো ধরনের অভিযোগে সমাধান দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তারা।

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ঢাকার বিভিন্ন থানায় ১১৭টি মামলা হয়েছে। ১৫৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ১০৪ জন। তবে কোনো মামলার তদন্ত শেষ হয়নি। চলতি বছরের সাত মাসে ১৫১ জনের বিরুদ্ধে ৯৭টি পর্নোগ্রাফি মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার ১০৫ জন।

ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটে আরেকটি সাইবার বিভাগ আছে। সেখানেও একই ধরনের অভিযোগ দেওয়া হয় বলে জানায় সূত্র।

সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ তারেক বিন রশিদ বলেন, সাইবার স্পেসে অপরিচিত কোনো আইডি থেকে পাঠানো কোনো লিংকে প্রবেশ করা উচিত নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপরিচিত কোনো আইডির সঙ্গে বন্ধুত্ব, ছবি বা ভিডিও শেয়ার করা ঠিক নয়। একটু সচেতন হলে অপরাধ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা সম্ভব।

 



সাতদিনের সেরা