kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

রানির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর

রাজা তৃতীয় চার্লসের ফোন

বাসস   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রানির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর

রানির প্রতি শ্রদ্ধা : রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শোকবইতেও সই করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সকালে লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টারে। ছবি : এএফপি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তিনি গতকাল রবিবার লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার হলে শবাধারে সংরক্ষিত প্রয়াত রানিকে শ্রদ্ধা জানান এবং ল্যাংকাস্টার হাউসে একটি শোক বইতে স্বাক্ষর করেন। শেখ হাসিনা রানির শেষকৃত্যে যোগ দিতে সরকারি সফরে ১৫ সেপ্টেম্বর লন্ডনে পৌঁছান।

আগের দিন শনিবার সন্ধ্যায় ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস বাকিংহাম প্যালেস থেকে টেলিফোন করে সোমবার (আজ) সকালে অনুষ্ঠেয় তাঁর মায়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বিজ্ঞাপন

রানির মৃত্যুর পর রাজপরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা ও সহানুভূতি প্রকাশের জন্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণকে তিনি ধন্যবাদ জানান।

গতকাল যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। তিনি জানান, সকালে প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত রানির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে ওয়েস্টমিনস্টার প্যালেসে যান। শেখ হাসিনা সেখানে শবাধারে সংরক্ষিত  প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।

ওয়েস্টমিনস্টারে ব্রিটিশ স্পিকারের প্রতিনিধি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর ছোট বোনকে স্বাগত জানান। পরে তাঁদের ল্যাংকাস্টার হাউসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শোক বইয়ে বাংলায় শোকবার্তা লেখেন শেখ হাসিনা। তিনি লিখেছেন, ‘আমি বাংলাদেশের জনগণ, আমার পরিবার এবং আমার ছোট বোন শেখ রেহানার পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। ’ এরপর প্রধানমন্ত্রী অন্য একটি কক্ষে টেলিভিশনের সামনে রানির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুতে শোকবইতে সই করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা। গতকাল সকালে লন্ডনের ল্যাংকাস্টার হাউসে।     ছবি : ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর

ল্যাংকাস্টার হাউসে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভিকি ফোর্ড প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। সেখানে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন, তিনি প্রয়াত রানির সঙ্গে আট বা ৯ বার দেখা করেছিলেন এবং রানি তাঁকে তাঁর স্বনামেই চিনতেন। তিনি যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে বলেন, ‘তিনি আমার কাছে একজন মাতৃতুল্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন, আমি আমার মায়ের মতো একজনকে হারিয়েছি। মনে হচ্ছে, একজন অভিভাবক চলে গেলেন। ’

সৈয়দা মুনা তাসনিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা দুজনই ১৯৬১ সালে রানিকে দেখেছিলেন, যখন তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমানে বাংলাদেশ) সফর করেছিলেন।

শেখ হাসিনা আরো বলেন, প্রয়াত রানি ছিলেন একজন বিশ্ব অভিভাবকের মতো এবং তাঁর মৃত্যুতে এক শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ হাইকমিশনার বলেন, শোক বইয়ে শেখ রেহানা, যিনি নিজেও একজন ব্রিটিশ নাগরিক, লিখেছেন ‘তিনি আমাদের হূদয়ের রানি এবং সব সময় থাকবেন। ’

প্রধানমন্ত্রীকে রাজা তৃতীয় চার্লসের ফোন

ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস বাকিংহাম প্যালেস থেকে শনিবার সন্ধ্যায় টেলিফোন করে আজ সকালে অনুষ্ঠেয় তাঁর মায়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনার প্রয়াত মহামান্য মা আমার কাছে একজন মা এবং কমনওয়েলথের একজন অসাধারণ প্রধানের মতো ছিলেন। তাঁর প্রতি আমার ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা জানাতে আমি তাঁর রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ’

প্রধানমন্ত্রী রাজাকে আরো জানান, বাংলাদেশে তাঁর সরকার প্রয়াত রানির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করেছে এবং তাঁর আত্মার শান্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনা করা হয়েছে। তিনি রাজা তৃতীয় চার্লসকে সিংহাসনে আরোহণের জন্য ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানান এবং তাঁর দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ রাজত্ব কামনা করেন।

রাজা তৃতীয় চার্লস রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর পর রাজপরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা ও সহানুভূতি প্রকাশের জন্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণ ও বাংলাদেশি ব্রিটিশ অভিবাসীদের ধন্যবাদ জানান।

 

 



সাতদিনের সেরা